চ্যালেঞ্জিং ও দায়িত্বশীল পেশা বিমান পাইলট

  সামিরা আহসান ১৮ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছোট বেলায় আকাশে বিমান উড়তে দেখে সবারই মনে প্রথম চিন্তা হতো বড় হলে বিমান চালাব। ছুটে যাব আকাশের শেষ সীমানায়। দেখব দিগন্তকে। ছুঁয়ে দেখব মেঘ। কিন্তু কেইবা জানে, এটাই ছিল সেই ছোট বেলায় তার নেয়া শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত। কিন্তু বর্তমানে চ্যালেঞ্জিং পেশার মধ্যে বিমানচালনা রয়েছে তরুণ-তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে। কারণ পাখিরা যেন হার মেনে যায় এ জীবনের কাছে। এছাড়া একজন বিমান পাইলট হওয়ার পর লাইফস্টাইল সম্পূর্ণ বদলে যায়। শুধু আকাশে উড়ে বেড়ানো নয়, পুরোবিশ্ব ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পাওয়া যায় এ পেশায়। এছাড়া আর্থিক সচ্ছলতা তো আছেই। সবচেয়ে বড় বিষয় এটা একটি দায়িত্বশীল পেশা। এ পেশায় অনেক মানুষকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার জন্য কাজ করতে হবে। সব মিলিয়ে প্রথম সারির একজন গ্লোবাল প্রফেশনাল হিসেবে পাইলট সারা বিশ্বে সমাদৃত। তাই আপনিও এ পেশায় গড়তে পারেন আপনার উজ্জ্বল ক্যারিয়ার।

আরিরাং অ্যাভিয়েশন লিমিটেড ট্রেইনি পাইলট (শিক্ষার্থী) নানজিবা খান চাকরির খোঁজতে বলেন, আমি ট্রেইনি পাইলট হিসেবে পড়ালেখা করছি। এ বিষয়ে পড়তে হলে এইচএসসি পাস করে আবেদন করা যায়। আর গ্রাজুয়েশন শেষ করেও আবেদন করা যায়। তবে এ পেশায় আসতেও কিছু বিশেষ যোগ্যতার প্রয়োজন পড়ে যেমন- বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য্য, চমৎকার ব্যক্তিত্ব, শারীরিক সক্ষমতা। সর্বোপরি এ বিষয়ে পড়াশোনাও বেশ ব্যয়বহুল। তাই আগ্রহীদের নিজেদের আর্থিক সামর্থ্যরে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

পাইলট হতে যোগ্যতা : পাইলট হতে চাইলে এসএসসি এবং এইচএসসি পর্যায়ে অবশ্যই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করতে হবে। এছাড়া পদার্থ, গণিত বাধ্যতামূলক থাকতে হবে। যারা স্নাতক শ্রেণীতে পড়ছেন বা পাস করেছেন, তারাও পাইলট কোর্সে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। বয়স ন্যূনতম ১৬ বছর এবং শারীরিকভাবে ফিট হতে হবে। এ ছাড়া ইংরেজি বলা ও লেখায় দক্ষ হতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষা : পাইলট কোর্সে ভর্তি হতে সবার আগে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এ পরীক্ষা তিনটি ধাপে হয়- রিটেন, মৌখিক ও মেডিকেল। মৌখিক পরীক্ষায় সাধারণত বিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর প্রশ্ন করা হয়। এটি সংশ্লিষ্ট একাডেমি নিয়ে থাকে। আর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয় সিভিল অ্যাভিয়েশন অনুমোদিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোয়। এই তিনটি পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবে তারা শুধু একাডেমিগুলোতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। অনেক একাডেমিতে আবার কম্পিউটারের উপরেও পরীক্ষা নেয়া হয়।

গ্রাউন্ড কোর্স : ভর্তি পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থী পাইলট কোর্স করার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে পাইলট হতে পেরোতে হবে আরও তিনটি ধাপ। গ্রাউন্ড কোর্সের পর পেতে হয় এসপি বা স্টুডেন্ট পাইলট লাইসেন্স। এরপর পিপিএল (প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্স), আর সর্বশেষে পেতে হয় সিপিএল বা কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স। তিন মাসের থিওরি কোর্সে বিমানের কারিগরি ও এয়ার ল’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এছাড়া এয়ারক্রাফট জেনারেল নলেজ, ফ্লাইট পারফরম্যান্স অ্যান্ড প্ল্যানিং, হিউম্যান পারফরম্যান্স অ্যান্ড লিমিটেশন, নেভিগেশন, অপারেশনাল প্রসিডিউর ও প্রিন্সিপাল অব ফ্লাইটের মতো বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়।

বিমান ফ্লাইং করতে : গ্রাউন্ড কোর্সের পর সংশ্লিষ্ট একাডেমি লিখিত পরীক্ষা নেয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সরাসরি বিমান চালনার জন্য সিভিল অ্যাভিয়েশনে এসপিএল বা স্টুডেন্ট পাইলট লাইসেন্সের আবেদন করতে হয়। আবেদনের পর সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি (সিএএবি) পরীক্ষা নেয়। সিএএবির পরীক্ষা ও সিএমবির (সার্টিফায়েড বাই দ্য মেডিক্যাল বোর্ড) স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল এসপিএল দেয়া হয়। এ লাইসেন্স দিয়ে ৪০ থেকে ৫০ ঘণ্টা বিমান চালনার সার্টিফিকেট অর্জন করে পিপিএল বা প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্সের আবেদন করতে হয়। এ সময় তিন মাসের থিওরি ক্লাসের সঙ্গে একটি ক্রস কান্ট্রি ফ্লাইট (এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়া-আসা) চালানোর অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে হয়। এরপর আবারও লিখিত ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই মিলবে প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্স। এ লাইসেন্স দিয়ে কোনো বাণিজ্যিক বিমান চালানো যায় না। তাই পাইলট হিসেবে চাকরির জন্য প্রয়োজন সিপিএল বা কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স। এ লাইসেন্স পেতে ১৫০ থেকে ২০০ ঘণ্টা বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।

কোর্সের সময় : বৈমানিক কোর্স করতে দেড় থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর সময় লাগে। পিপিএল কোর্স করতে লাগে ছয় মাস। আর সিপিএল কোর্সে সময় লাগে এক বছর। বছরে জানুয়ারি-ফেব্র“য়ারি ও জুলাই-আগস্ট দুটি সেশনে বৈমানিক কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়।

কাজের ক্ষেত্র : বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স রয়েছে। আর এদের মধ্যে সরকারি এয়ারলাইন্স শুধু একটি রয়েছে তা হল বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্স। এছাড়া বেসরকারি বিমান এয়ারলাইন্সগুলো হচ্ছে নভো এয়ার ওয়েজ, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স, রিজেন্ট এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স। তাছাড়া অভিজ্ঞতা বাড়লে বাহিরের দেশের এয়ারলাইন্সগুলোতে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

প্রশিক্ষণ যেখানে নেবেন : দেশে সরকারি-বেসরকারি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে এ বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। বিদেশেও অনেক প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- সিভিল অ্যাভিয়েশন একাডেমি ট্রেনিং সেন্টার, বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ট্রেনিং সেন্টার, বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি অ্যান্ড ফ্লাইং অ্যাভিয়েশন লিমিটেড, আরিরাং অ্যাভিয়েশন লিমিটেড ও গ্যালাক্সি ফ্লাইং একাডেমি লিমিটেড। ফ্লাইং একাডেমি থেকে মোট দেড়-দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে এ কোর্স।

খরচ কেমন লাগবে : সব মিলিয়ে একজন পাইলট থেকে প্রশিক্ষণে খরচ পড়বে ৩৫ লাখ টাকা। কিন্তু ৫০ লাখ টাকার মতো হাতে রেখে তারপর এই কোর্সগুলো করা ভালো। কারণ অনেক সময় টাকার জন্য ফ্লাইং আটকে যায়। তাই সব কিছু বুঝে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে নামতে হবে।

মাস শেষে আয় : বিমান পাইলটের লাইসেন্স পাওয়ার পর চাকরির প্রথম অবস্থায় ২ লাখ টাকা সম্মানী দেয়া হয়। তারপরে ক্রমশ এই বেতন বাড়তে থাকে। এছাড়া বাইরের দেশের এয়ারলাইন্সগুলো পাইলটদের উচ্চ বেতন দিয়ে থাকে।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter