অফিসের সমস্যা থাক অফিসেই

  তাহমিনা সুলতানা ০৮ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সকালে অফিসে ঢুকেই বসের বকা খেলেন? বা সহকর্মীর সঙ্গে মনোমালিন্য হয়েছে? স্বাভাবিক যে আপনার সারাটা দিনই মাটি। অফিসে নানা কাজের চাপ থাকেই, তার ওপর যখন এরকম কোনো কিছু হয় তাহলে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। যার প্রভাব পড়ে পরিবারে ওপরও। কাজের ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু আপনি যদি অফিসের সমস্যা অফিসেই না রেখে ঘর পর্যন্ত নিয়ে আসেন তাহলেই বিপত্তি। এমন অনেকেই আছেন অফিসের কোনো সমস্যায় এতটাই ডিস্টার্ব থাকেন যে বাসায় এসেও এর থেকে বের হতে পারেন না। মেজাজ খিটখিটে থাকে, বাসার মানুষজনদের সঙ্গে অকারণে খারাপ ব্যবহার করেন। এটা কখনই উচিত না। পরিবার হচ্ছে আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল। একমাত্র পরিবারই আমাদের যত বড় সমস্যাই হোক না কেন, আমাদের ছেড়ে যায় না, আমাদের পাশে থাকে। সেই পরিবারের সদস্যদের ওপরই যদি চলে অন্যায় আচরণ তাহলে এটা খুব খারাপ কথা। অফিস শেষে বাসায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই অফিসের দুনিয়াটা ভুলে যেতে হবে। আপনি অফিসের কোনো ব্যাপার নিয়ে চিন্তিত হয়ে আছেন, ঠিক আছে তা ভুলে থাকা একটু কষ্টকরই। কিন্তু আপনি যদি বাসায় এসেও এটা নিয়ে ভাবতে থাকেন তাহলে আপনার বাসা-অফিস দুটিতেই এর প্রভাব পড়বে। অনেকে বাসার সমস্যা নিয়েও অফিসে চিন্তা করতে থাকে এতে করে অফিসের কাজের ক্ষতি হয়। একই রকমভাবে অফিসের সমস্যা নিয়ে বাসায় চিন্তা করলে বাসার পরিবেশও সমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সমাধানের জন্য যা করতে হবে জীবনের প্রতিটি দিনই সমান যায় না। চড়াই-উৎরাই থাকবেই চলার পথে। কিন্তু তাই বলে সবকিছু ভুলে গিয়ে আবেগকে প্রশ্রয় দিলে চলবে না। সব সময় মাথায় রাখতে হবে আপনার একটি কাজের প্রভাব যেন অন্য কাজে বা অন্য কারও ওপর খারাপভাবে না পড়ে। আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে অন্য সব কাজ স্বাভাবিক নিয়মে করতে হবে। তবে মন খারাপ থাকলে অন্যকিছু করতেও ভালো লাগে না। কিন্তু আপনি আপনার কাছের মানুষটির সঙ্গে আপনার সমস্যা শেয়ার করে দেখতে পারেন তাহলে আপনার মন অবশ্যই হালকা লাগবে। তারপরও যদি ভালো না লাগে তাহলে অফিস থেকে সরাসরি বাসায় না এসে একটু একা একা হাঁটতে পারেন। নীরব রাস্তায় একা হাঁটার এক অন্যরকম অনুভূতি আছে। অথবা পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে হঠাৎ আড্ডা মারতে চলে গেলেন। অন্য কথার ছলে আপনি আপনার অফিসের সমস্যার কথা কখন ভুলে যাবেন খেয়ালই করবেন না। বাসায় ফিরে কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করছে না, ঠিক আছে টিভি ছেড়ে একাই বসে যান অথবা চুপচাপ পছন্দের গান শুনতে পারেন। এতেও মনের চাপ কমে। একেকজনের আবেগ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি একেক রকম। আপনার মন কিসে ভালো হয় তা আপনার চেয়ে ভালো কেউ বুঝবে না। তাই মন খারাপ থাকলে এমনকিছু করুন যা করলে আপনার ভালো লাগবে। কিন্তু কখনই মেজাজ খারাপ করে বাসার মানুষদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবেন না। আর অফিসে দিনের অনেকটা সময় থাকা হয় তাই অফিসও একটা পরিবারের মতো হয়ে যায়। একসঙ্গে অনেকক্ষণ থাকলে এরকম কষ্ট বা অভিমান হতেই পারে। কিন্তু এটা কখনও বাড়তে দেবেন না বা ধরে বসে থাকবেন না।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.