এক লাখ কোটি গাছ ফিরিয়ে দেবে ১০০ বছর আগের বাতাস
jugantor
এক লাখ কোটি গাছ ফিরিয়ে দেবে ১০০ বছর আগের বাতাস

  এসএম মুকুল  

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিনে দিনে বেড়ে চলেছে, বাড়ছে জনসংখ্যার চাপ, পাশাপাশি চলছে নগরায়ণ, বাড়ছে বিষাক্ত ধোঁয়া, বাতাসে সিসার পরিমাণ।

ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশগত বিরূপতায় আমরা মুখোমুখি হচ্ছি খরা, বন্যা, ঝড়, সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্পসহ নানা ধরনের ভয়াবহ প্রতিকূলতার। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধে গাছ পালন করে উপকারী বন্ধুর ভূমিকা।

ঠিক এমনটিই জানাল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের জুরিখে সুইস ফেডারাল ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির (ইটিএইচ জুরিখ) একটি গবেষণা। তারা বলছে- কমপক্ষে এক লাখ কোটি গাছ লাগালে বাতাসে কমবে বিষ। আমাদের বায়ুমণ্ডল হয়ে উঠবে ১০০ বছর আগের মতো। গবেষণায় বলা হয়েছে, শুধু গাছ লাগালেই জীবন বাঁচবে।

তা না হলে যে হারে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে, তাতে ফুলে-ফেঁপে ওঠা সমুদ্রের জলেই তলিয়ে যেতে হবে আমাদের। কারণ, উষ্ণায়নের জেরে বরফ গলছে অস্বাভাবিক দ্রুত হারে। আর বিশ্বজোড়া শিল্পায়নের দৌলতে বাতাস ভয়ংকরভাবে বিষিয়ে উঠছে কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইডসহ নানা ধরনের গ্রিন হাউস গ্যাসে যা তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে পৃথিবীর।

গবেষকরা বলছেন- এক লাখ কোটি গাছ লাগাতে জমির অভাব হবে না। তাদের গবেষণায় হিসাব কষে দেখানো হয়েছে, যদি আমরা সদিচ্ছা পোষণ করি আর আন্তরিকতা থাকে তাহলে খুব দ্রুত এক লাখ কোটি গাছ লাগানো সম্ভব। আর এজন্য জায়গার অভাব বা গাছগুলো বেড়ে উঠা অথবা বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হবে না।

তাদের মতে, পৃথিবীর স্থলভাগের যতটা নিয়েছে শহর আর গ্রাম আর চাষাবাদের জন্য সেই জমিতে যতটা ভাগ বসানো হয়েছে এসবকে হিসাবের বাইরে রেখেও গাছ লাগানোর জন্য ৩৫ লাখ বর্গমাইল বা ৯০ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকা খালি পড়ে আছে বিশাল এ পৃথিবীতে। আমরা চাইলেই নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থে এ বিশাল জায়গাকে গাছ লাগিয়ে ভরে তুলতে পারি।

গবেষণা আরও জানিয়েছে, প্রচুর পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে বায়ুমণ্ডলে যে পরিমাণে কার্বন জমা হয়েছে তার ২৫ শতাংশই বায়ুমণ্ডল থেকে সরে যাবে যদি আমরা দ্রুততার সঙ্গে এক লাখ কোটি গাছ লাগাতে পারি। আর এর ফলে বায়ুমণ্ডল হয়ে যাবে ঠিক ১০০ বছর আগেকার মতো। এ সুযোগটি মানবজাতি নিশ্চয়ই হাতছাড়া করবে না।

ঢাকার বাতাসে বিষ

এমন ভয়ানক আতঙ্কের খবরটি প্রায়ই নাগরিক জীবনকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। সরকারের বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এক জরিপে বলছে, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে একজন মানুষ ২২ মাস আগে মারা যায়। তার মানে বায়ুদূষণ না থাকলে ২২ মাস বেশি বাঁচতে পারত।

ঢাকায় ৯৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩১ ওয়ার্ডকে বাছাই করে বিআইডিএস প্রতিটি ওয়ার্ডের ১০০টি খানা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকায় বসবাসরত মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশ বায়ুদূষণজনিত রোগে ভুগছে। এরই মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ৮ শতাংশ।

এছাড়া সরাসরি বায়ুদূষণজনিত কারণ নয়, কার্ডিয়াক সমস্যায় ভুগছে ৮ শতাংশ, আর ক্যানসার আক্রান্তের হার ১.৩ শতাংশ। বায়ুদূষণ পরোক্ষে এ দুটি রোগে আক্রান্ত হতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কিন্তু কেন এ পরিণতি হল। কারণ ঢাকা যেভাবে বেড়ে উঠেছে সেভাবে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। আমরা জানি, চারশ’ বছরের এ রাজধানী ঢাকা শহরের একটা বড় অংশজুড়ে ছিল বিভিন্ন গাছ। পরিকল্পনা করেই পিচ রাস্তার ধারে লাগানো হয়েছিল অনেক গাছ।

এখনও যেখানে যেখানে গাছ বেশি, যেমন বিশ্ববিদ্যালয় ও রমনা এলাকায় দূষণ কিছুটা কম। ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় অনেক গাছ এবং সেখানে দূষণ সম্ভবত সবচেয়ে কম। কিন্তু নতুন নতুন যেসব আবাসিক এলাকা গড়ে উঠছে সেভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টির তেমন কোনো উদ্যোগই চোখে পড়ে না।

বৃক্ষরোপণে তুরস্কের দৃষ্টান্ত!

পরিবেশ সুরক্ষায় ২০১৯ সালে একদিনে এক কোটি ৩০ লাখ গাছ লাগিয়েছে তুরস্ক। এর মধ্যে এক ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃক্ষরোপণ বিচারে ইন্দোনেশিয়াকে হারিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে তারা। এর আগে ইন্দোনেশিয়া এক ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩২,৬৪৭টি চারা রোপণ করে রেকর্ড গড়েছিল। অন্যদিকে তুরস্ক এক ঘণ্টায় রোপণ করে ৩ লাখ ৩,১৫০টি চারা।

জানা যায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক পোস্টের জেরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ওই পোস্টে এনিস সাহিন নামের এক তুর্কি নাগরিক বলেন, দুর্দান্ত একটি আইডিয়া পেয়েছি। মুসলিম দেশ হিসেবে আমরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় সরকারি ছুটি পাই। বৃক্ষরোপণের জন্য একটি সরকারি ছুটি হলে কেমন হয়?

আসুন দেশের ৮ কোটি ২০ লাখ মানুষ একসঙ্গে ওই দিনটিতে গাছ লাগাই। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমরা একটি সবুজ পৃথিবী রেখে যেতে চাই। এনিস সাহিনের পোস্টটি ভাইরাল হয়ে পড়লে এক পর্যায়ে এটি তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের নজরে আসে। পোস্টদাতাকে ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বলেন, চমৎকার একটি আইডিয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

শিগগিরই আমি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে বৃক্ষরোপণের জন্য একটি ছুটির দিন ঘোষণা করব। পরে সবুজ তুরস্কের জন্য বনায়ন কর্মসূচির ঘোষণা দেন এরদোগান। প্রতি বছর ১১ নভেম্বরকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি। ১১ নভেম্বর ২০১৯ সে দেশে দেশজুড়ে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়।

গাছ লাগানোর জন্য ঘোষণা করা হয় সরকারি ছুটি। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এনজিও প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষ দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়, এদিন দেশজুড়ে লাগানো গাছের সংখ্যা এক কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। পরিচ্ছন্ন বাতাসে শ্বাস নিতে সবুজায়নের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি নেয়া হয় বলে জানা গেছে।

নবজাতকের জন্য গাছের চারা উপহার

নিজের ইউনিয়নের কোনো এলাকায় যখনই শিশু জন্মের খবর পান, তখনই গাছের চারা হাতে নবজাতকের বাড়িতে ছুটে যান। নিজের হাতে নবজাতকের বাড়িতে রোপণ করেন দুটি করে গাছের চারা। নবজাতকের মা-বাবাকে পরামর্শ দেন চারা গাছের যত্ন নিতে।

ব্যক্তি উদ্যোগে ব্যতিক্রমধর্মী এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া। ‘একটি শিশু, একটি গাছ’ স্লোগানে গাছ লাগানোর কর্মসূচি হাতে নেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া জানান, ‘আগে একটি করে গাছ লাগিয়ে শুরু করেছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম গাছ লাগানোর জায়গা আছে, তখন থেকে দুটি করে লাগানো শুরু করলাম। জন্ম নেয়া ছোট শিশুদের সঙ্গে গাছও বেড়ে উঠবে, পর্যায়ক্রমে সবুজে ছেয়ে যাবে পুরো এলাকা।’ এরকম উদাহরণ সত্যিই প্রেরণাদায়ক এবং অনুকরণীয় হওয়া কাম্য।

ইথিওপিয়ার বৃক্ষরোপণ অভিযান

আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া ব্যতিক্রমী এক পদক্ষেপ নিয়েছে। ইথিওপিয়ার সরকারের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এক দিনে সবচেয়ে বেশি গাছ লাগানোর বিশ্ব রেকর্ড করেছে ইথিওপিয়া, এমন দাবিও করছে দেশটির সরকার। দেশটির প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী টুইট করে বলেছেন, ইথিওপিয়ায় এক দিনেই ২২ কোটি গাছ লাগানো হয়েছে। ৪০০ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার, এমনটিও জানিয়েছেন দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা। খরাপ্রবণ এ দেশটিতে সবুজ গাছের সংখ্যা দিন দিন কমছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, একবিংশ শতাব্দীতে এসে ইথিওপিয়ার বনভূমির হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমতে কমতে মাত্র ৪ শতাংশের একটু ওপরে এসে ঠেকেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে বাঁচতে তাই এমন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দেশটির সরকার। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তারা যেন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন, সে কারণে বিভিন্ন সরকারি অফিসও বন্ধ রাখা হয়েছিল। সাধারণ জনগণকে গাছ লাগাতে উৎসাহ করতে সরকারি গণমাধ্যমে প্রচারণামূলক ভিডিও প্রচার করছে ইথিওপিয়ার সরকার। জানা যায়, এক দিনে সবচেয়ে বেশি গাছ লাগানোর স্বীকৃত রেকর্ডটি বর্তমানে ভারতের দখলে। ২০১৬ সালে ৮ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের সহযোগিতায় এক দিনে ৫ কোটি গাছ লাগিয়েছিল ভারত।

অস্ত্রের লাইসেন্স মিলবে গাছ লাগালেই

গাছের চারা আর বন্দুকের মধ্যে প্রত্যক্ষ কোনো সম্পর্ক না থাকলেও ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় পাঞ্জাব রাজ্য সরকার জলবায়ু পরিবর্তন রোধে গাছ ও বন্দুকের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করতে উদ্যোগ নিয়েছে। রাজ্যের কেউ যদি অস্ত্রের লাইসেন্স নিতে আগ্রহী হয়, তাকে অন্তত দশটি গাছের চারা লাগাতে হবে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্যের ফিরোজপুর জেলা কর্তৃপক্ষ।

ফিরোজপুরের ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার চন্দর গাইন্দ বিবিসিকে বলেন, ‘পাঞ্জাবিরা গাড়ি, অস্ত্র আর মোবাইলের ব্যাপারে বেশ উৎসাহী। তারা যাতে বৃক্ষায়নেও উৎসাহী হয় তাই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাজ্যের সড়কগুলো প্রশস্ত করতে প্রতিদিন অনেক গাছ কাটা যাচ্ছে। নতুন করে গাছ লাগাতে তাই এমন পদক্ষেপ।’ গত ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয়া হয়। রাজ্য সরকারের ওই ঘোষণার পর অনেকের মধ্যে গাছের চারা লাগানোর প্রবণতা বেড়ে গেছে বলে স্থানীয় মিডিয়া সূত্রে জানা যায়।

বাংলাদেশেও শুরু হোক সবুজের অভিযান

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। সেই আহ্বান বাস্তবায়নের সময় এসেছে। আমাদের শুধু গাছ লাগালেই হবে না বরং গাছ লাগাতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বিশ্বনন্দিত আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে তিনটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যত আধুনিকায়ন হচ্ছে, যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে, আমাদের অবিবেচনাপ্রসূত কাজের ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। আধুনিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য আমরা যা যা ব্যবহার করছি, তার কারণে পরিবেশেদূষণ ছড়াচ্ছে। সাবান, শ্যাম্পু, বডি স্প্রে, ডিটারজেন্ট, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, শিল্প-কলকারখানা, সবকিছু থেকে দূষণ ছড়ায়। তবে আমরা পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হচ্ছি। উন্নয়ন দরকার, কিন্তু পরিবেশও রক্ষা করতে হবে। বৃক্ষরোপণ করতে হবে, জলাধার রক্ষা করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশে পরিবেশ রক্ষায় যথেষ্ট সচেতন। আমাদের যত স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত আছে আমি সবাইকে অনুরোধ করব প্রত্যেকে যার যার কর্মস্থলে এবং বাসস্থানে কিছু গাছ লাগাবেন। আমাদের ছেলেমেয়েদেরও শেখাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৮৪-৮৫ সাল থেকে প্রতি বছর কৃষক লীগের মাধ্যমে পহেলা আষাঢ় থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হতো। সব কর্মীকে তিনটি করে গাছ লাগাতে বলা হতো। এটা আবার শুরু করব।’

খুবই ভালো পদক্ষেপের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দলের কর্মীরা যদি তিনটি করে গাছ লাগায় তাহলে পরিবেশ রক্ষায় একটা অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হবে। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষ করব সেই দিনটি জন্য। তবে একইসঙ্গে বলতে চাই তুরস্ক কিংবা ইথিওপিয়ার মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সারা দেশব্যাপী পৃথক একটি দিনকে বৃক্ষরোপণ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হোক। যেদিন সারা দেশের আপামর জনগণ বৃক্ষরোপণ করবে।

সরকারের মন্ত্রী, এমপিসহ সরকারের সর্বস্তরের কর্মকর্তারা এ কর্মসূচিকে সফল করার জন্য সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন। বিশেষত শিক্ষক, আলেম সমাজকেও এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে প্রেরণা সৃষ্টি করবে সরকার। ব্যাপক প্রচারণা দরকার। বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী মুজিববর্ষে এ পদক্ষেপটি পরিবেশ রক্ষায় গণজাগরণ সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্বেও নন্দিত হতে পারে এমন একটি উদ্যোগ।

লেখক : পরিবেশপ্রেমী ও কলামিস্ট

এক লাখ কোটি গাছ ফিরিয়ে দেবে ১০০ বছর আগের বাতাস

 এসএম মুকুল 
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিনে দিনে বেড়ে চলেছে, বাড়ছে জনসংখ্যার চাপ, পাশাপাশি চলছে নগরায়ণ, বাড়ছে বিষাক্ত ধোঁয়া, বাতাসে সিসার পরিমাণ।

ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশগত বিরূপতায় আমরা মুখোমুখি হচ্ছি খরা, বন্যা, ঝড়, সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্পসহ নানা ধরনের ভয়াবহ প্রতিকূলতার। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধে গাছ পালন করে উপকারী বন্ধুর ভূমিকা।

ঠিক এমনটিই জানাল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘সায়েন্স’-এ প্রকাশিত সুইজারল্যান্ডের জুরিখে সুইস ফেডারাল ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির (ইটিএইচ জুরিখ) একটি গবেষণা। তারা বলছে- কমপক্ষে এক লাখ কোটি গাছ লাগালে বাতাসে কমবে বিষ। আমাদের বায়ুমণ্ডল হয়ে উঠবে ১০০ বছর আগের মতো। গবেষণায় বলা হয়েছে, শুধু গাছ লাগালেই জীবন বাঁচবে।

তা না হলে যে হারে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে, তাতে ফুলে-ফেঁপে ওঠা সমুদ্রের জলেই তলিয়ে যেতে হবে আমাদের। কারণ, উষ্ণায়নের জেরে বরফ গলছে অস্বাভাবিক দ্রুত হারে। আর বিশ্বজোড়া শিল্পায়নের দৌলতে বাতাস ভয়ংকরভাবে বিষিয়ে উঠছে কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইডসহ নানা ধরনের গ্রিন হাউস গ্যাসে যা তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে পৃথিবীর।

গবেষকরা বলছেন- এক লাখ কোটি গাছ লাগাতে জমির অভাব হবে না। তাদের গবেষণায় হিসাব কষে দেখানো হয়েছে, যদি আমরা সদিচ্ছা পোষণ করি আর আন্তরিকতা থাকে তাহলে খুব দ্রুত এক লাখ কোটি গাছ লাগানো সম্ভব। আর এজন্য জায়গার অভাব বা গাছগুলো বেড়ে উঠা অথবা বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা হবে না।

তাদের মতে, পৃথিবীর স্থলভাগের যতটা নিয়েছে শহর আর গ্রাম আর চাষাবাদের জন্য সেই জমিতে যতটা ভাগ বসানো হয়েছে এসবকে হিসাবের বাইরে রেখেও গাছ লাগানোর জন্য ৩৫ লাখ বর্গমাইল বা ৯০ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকা খালি পড়ে আছে বিশাল এ পৃথিবীতে। আমরা চাইলেই নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থে এ বিশাল জায়গাকে গাছ লাগিয়ে ভরে তুলতে পারি।

গবেষণা আরও জানিয়েছে, প্রচুর পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে বায়ুমণ্ডলে যে পরিমাণে কার্বন জমা হয়েছে তার ২৫ শতাংশই বায়ুমণ্ডল থেকে সরে যাবে যদি আমরা দ্রুততার সঙ্গে এক লাখ কোটি গাছ লাগাতে পারি। আর এর ফলে বায়ুমণ্ডল হয়ে যাবে ঠিক ১০০ বছর আগেকার মতো। এ সুযোগটি মানবজাতি নিশ্চয়ই হাতছাড়া করবে না।

ঢাকার বাতাসে বিষ

এমন ভয়ানক আতঙ্কের খবরটি প্রায়ই নাগরিক জীবনকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। সরকারের বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এক জরিপে বলছে, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে একজন মানুষ ২২ মাস আগে মারা যায়। তার মানে বায়ুদূষণ না থাকলে ২২ মাস বেশি বাঁচতে পারত।

ঢাকায় ৯৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ৩১ ওয়ার্ডকে বাছাই করে বিআইডিএস প্রতিটি ওয়ার্ডের ১০০টি খানা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জরিপ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকায় বসবাসরত মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশ বায়ুদূষণজনিত রোগে ভুগছে। এরই মধ্যে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ৮ শতাংশ।

এছাড়া সরাসরি বায়ুদূষণজনিত কারণ নয়, কার্ডিয়াক সমস্যায় ভুগছে ৮ শতাংশ, আর ক্যানসার আক্রান্তের হার ১.৩ শতাংশ। বায়ুদূষণ পরোক্ষে এ দুটি রোগে আক্রান্ত হতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। কিন্তু কেন এ পরিণতি হল। কারণ ঢাকা যেভাবে বেড়ে উঠেছে সেভাবে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। আমরা জানি, চারশ’ বছরের এ রাজধানী ঢাকা শহরের একটা বড় অংশজুড়ে ছিল বিভিন্ন গাছ। পরিকল্পনা করেই পিচ রাস্তার ধারে লাগানো হয়েছিল অনেক গাছ।

এখনও যেখানে যেখানে গাছ বেশি, যেমন বিশ্ববিদ্যালয় ও রমনা এলাকায় দূষণ কিছুটা কম। ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় অনেক গাছ এবং সেখানে দূষণ সম্ভবত সবচেয়ে কম। কিন্তু নতুন নতুন যেসব আবাসিক এলাকা গড়ে উঠছে সেভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টির তেমন কোনো উদ্যোগই চোখে পড়ে না।

বৃক্ষরোপণে তুরস্কের দৃষ্টান্ত!

পরিবেশ সুরক্ষায় ২০১৯ সালে একদিনে এক কোটি ৩০ লাখ গাছ লাগিয়েছে তুরস্ক। এর মধ্যে এক ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃক্ষরোপণ বিচারে ইন্দোনেশিয়াকে হারিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে তারা। এর আগে ইন্দোনেশিয়া এক ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩২,৬৪৭টি চারা রোপণ করে রেকর্ড গড়েছিল। অন্যদিকে তুরস্ক এক ঘণ্টায় রোপণ করে ৩ লাখ ৩,১৫০টি চারা।

জানা যায়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক পোস্টের জেরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ওই পোস্টে এনিস সাহিন নামের এক তুর্কি নাগরিক বলেন, দুর্দান্ত একটি আইডিয়া পেয়েছি। মুসলিম দেশ হিসেবে আমরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় সরকারি ছুটি পাই। বৃক্ষরোপণের জন্য একটি সরকারি ছুটি হলে কেমন হয়?

আসুন দেশের ৮ কোটি ২০ লাখ মানুষ একসঙ্গে ওই দিনটিতে গাছ লাগাই। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আমরা একটি সবুজ পৃথিবী রেখে যেতে চাই। এনিস সাহিনের পোস্টটি ভাইরাল হয়ে পড়লে এক পর্যায়ে এটি তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের নজরে আসে। পোস্টদাতাকে ধন্যবাদ দিয়ে তিনি বলেন, চমৎকার একটি আইডিয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

শিগগিরই আমি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে বৃক্ষরোপণের জন্য একটি ছুটির দিন ঘোষণা করব। পরে সবুজ তুরস্কের জন্য বনায়ন কর্মসূচির ঘোষণা দেন এরদোগান। প্রতি বছর ১১ নভেম্বরকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি। ১১ নভেম্বর ২০১৯ সে দেশে দেশজুড়ে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়।

গাছ লাগানোর জন্য ঘোষণা করা হয় সরকারি ছুটি। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এনজিও প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষ দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়, এদিন দেশজুড়ে লাগানো গাছের সংখ্যা এক কোটি ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। পরিচ্ছন্ন বাতাসে শ্বাস নিতে সবুজায়নের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি নেয়া হয় বলে জানা গেছে।

নবজাতকের জন্য গাছের চারা উপহার

নিজের ইউনিয়নের কোনো এলাকায় যখনই শিশু জন্মের খবর পান, তখনই গাছের চারা হাতে নবজাতকের বাড়িতে ছুটে যান। নিজের হাতে নবজাতকের বাড়িতে রোপণ করেন দুটি করে গাছের চারা। নবজাতকের মা-বাবাকে পরামর্শ দেন চারা গাছের যত্ন নিতে।

ব্যক্তি উদ্যোগে ব্যতিক্রমধর্মী এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া। ‘একটি শিশু, একটি গাছ’ স্লোগানে গাছ লাগানোর কর্মসূচি হাতে নেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া জানান, ‘আগে একটি করে গাছ লাগিয়ে শুরু করেছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম গাছ লাগানোর জায়গা আছে, তখন থেকে দুটি করে লাগানো শুরু করলাম। জন্ম নেয়া ছোট শিশুদের সঙ্গে গাছও বেড়ে উঠবে, পর্যায়ক্রমে সবুজে ছেয়ে যাবে পুরো এলাকা।’ এরকম উদাহরণ সত্যিই প্রেরণাদায়ক এবং অনুকরণীয় হওয়া কাম্য।

ইথিওপিয়ার বৃক্ষরোপণ অভিযান

আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া ব্যতিক্রমী এক পদক্ষেপ নিয়েছে। ইথিওপিয়ার সরকারের বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এক দিনে সবচেয়ে বেশি গাছ লাগানোর বিশ্ব রেকর্ড করেছে ইথিওপিয়া, এমন দাবিও করছে দেশটির সরকার। দেশটির প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী টুইট করে বলেছেন, ইথিওপিয়ায় এক দিনেই ২২ কোটি গাছ লাগানো হয়েছে। ৪০০ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার, এমনটিও জানিয়েছেন দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা। খরাপ্রবণ এ দেশটিতে সবুজ গাছের সংখ্যা দিন দিন কমছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, একবিংশ শতাব্দীতে এসে ইথিওপিয়ার বনভূমির হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমতে কমতে মাত্র ৪ শতাংশের একটু ওপরে এসে ঠেকেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে বাঁচতে তাই এমন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দেশটির সরকার। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তারা যেন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন, সে কারণে বিভিন্ন সরকারি অফিসও বন্ধ রাখা হয়েছিল। সাধারণ জনগণকে গাছ লাগাতে উৎসাহ করতে সরকারি গণমাধ্যমে প্রচারণামূলক ভিডিও প্রচার করছে ইথিওপিয়ার সরকার। জানা যায়, এক দিনে সবচেয়ে বেশি গাছ লাগানোর স্বীকৃত রেকর্ডটি বর্তমানে ভারতের দখলে। ২০১৬ সালে ৮ লাখ স্বেচ্ছাসেবকের সহযোগিতায় এক দিনে ৫ কোটি গাছ লাগিয়েছিল ভারত।

অস্ত্রের লাইসেন্স মিলবে গাছ লাগালেই

গাছের চারা আর বন্দুকের মধ্যে প্রত্যক্ষ কোনো সম্পর্ক না থাকলেও ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় পাঞ্জাব রাজ্য সরকার জলবায়ু পরিবর্তন রোধে গাছ ও বন্দুকের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করতে উদ্যোগ নিয়েছে। রাজ্যের কেউ যদি অস্ত্রের লাইসেন্স নিতে আগ্রহী হয়, তাকে অন্তত দশটি গাছের চারা লাগাতে হবে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্যের ফিরোজপুর জেলা কর্তৃপক্ষ।

ফিরোজপুরের ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার চন্দর গাইন্দ বিবিসিকে বলেন, ‘পাঞ্জাবিরা গাড়ি, অস্ত্র আর মোবাইলের ব্যাপারে বেশ উৎসাহী। তারা যাতে বৃক্ষায়নেও উৎসাহী হয় তাই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রাজ্যের সড়কগুলো প্রশস্ত করতে প্রতিদিন অনেক গাছ কাটা যাচ্ছে। নতুন করে গাছ লাগাতে তাই এমন পদক্ষেপ।’ গত ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয়া হয়। রাজ্য সরকারের ওই ঘোষণার পর অনেকের মধ্যে গাছের চারা লাগানোর প্রবণতা বেড়ে গেছে বলে স্থানীয় মিডিয়া সূত্রে জানা যায়।

বাংলাদেশেও শুরু হোক সবুজের অভিযান

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। সেই আহ্বান বাস্তবায়নের সময় এসেছে। আমাদের শুধু গাছ লাগালেই হবে না বরং গাছ লাগাতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। বিশ্বনন্দিত আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে তিনটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যত আধুনিকায়ন হচ্ছে, যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে, আমাদের অবিবেচনাপ্রসূত কাজের ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। আধুনিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য আমরা যা যা ব্যবহার করছি, তার কারণে পরিবেশেদূষণ ছড়াচ্ছে। সাবান, শ্যাম্পু, বডি স্প্রে, ডিটারজেন্ট, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, শিল্প-কলকারখানা, সবকিছু থেকে দূষণ ছড়ায়। তবে আমরা পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হচ্ছি। উন্নয়ন দরকার, কিন্তু পরিবেশও রক্ষা করতে হবে। বৃক্ষরোপণ করতে হবে, জলাধার রক্ষা করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাংলাদেশে পরিবেশ রক্ষায় যথেষ্ট সচেতন। আমাদের যত স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত আছে আমি সবাইকে অনুরোধ করব প্রত্যেকে যার যার কর্মস্থলে এবং বাসস্থানে কিছু গাছ লাগাবেন। আমাদের ছেলেমেয়েদেরও শেখাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৮৪-৮৫ সাল থেকে প্রতি বছর কৃষক লীগের মাধ্যমে পহেলা আষাঢ় থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হতো। সব কর্মীকে তিনটি করে গাছ লাগাতে বলা হতো। এটা আবার শুরু করব।’

খুবই ভালো পদক্ষেপের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দলের কর্মীরা যদি তিনটি করে গাছ লাগায় তাহলে পরিবেশ রক্ষায় একটা অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হবে। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষ করব সেই দিনটি জন্য। তবে একইসঙ্গে বলতে চাই তুরস্ক কিংবা ইথিওপিয়ার মতো বাংলাদেশেও বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সারা দেশব্যাপী পৃথক একটি দিনকে বৃক্ষরোপণ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হোক। যেদিন সারা দেশের আপামর জনগণ বৃক্ষরোপণ করবে।

সরকারের মন্ত্রী, এমপিসহ সরকারের সর্বস্তরের কর্মকর্তারা এ কর্মসূচিকে সফল করার জন্য সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন। বিশেষত শিক্ষক, আলেম সমাজকেও এ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে প্রেরণা সৃষ্টি করবে সরকার। ব্যাপক প্রচারণা দরকার। বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী মুজিববর্ষে এ পদক্ষেপটি পরিবেশ রক্ষায় গণজাগরণ সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্বেও নন্দিত হতে পারে এমন একটি উদ্যোগ।

লেখক : পরিবেশপ্রেমী ও কলামিস্ট