বঙ্গবন্ধু ও স্বজনের লাশ

  লে. কর্নেল এটিএম মহিউদ্দিন সেরনিয়াবাত (অব.) ১৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু ও স্বজনের লাশ

১৪ আগস্টের সূর্য অস্ত গিয়েছে প্রায় তিন ঘণ্টা পূর্বে।

এই তিন ঘণ্টায়

ধানমণ্ডিতে রাষ্ট্রপতি ও শেখ মনির বাসভবন এবং মিন্টো রোডে মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাড়ির আশপাশে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক তৎপরতা আছে কিনা দূর থেকে বেসামরিক পোশাকে অবজার্ভ করে ফিরে এসেছে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন দল।

তাদের রিপোর্টের পর ইতোমধ্যে অফিসার সব সৈনিকদের রাতের খাবার সারা হয়েছে।

নাইট ট্রেনিং প্রোগ্রামে ফায়ারিং না থাকলে গোলা বারুদ বের করার সুযোগ না থাকলেও ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থানরত মেজর রশিদের ২ ফিল্ড আর্টিলারির অফিসারেরা মর্টার, মেশিনগান ও এর গোলা বারুদ আগেই অ্যাডজুটেন্টের অফিসে তালাবদ্ধ করে রেখে দিয়েছে। অপরদিকে মেজর ফারুকের ১ বেঙ্গল ল্যান্সারের বিপুল পরিমাণ ক্ষুদ্রাস্ত্রের গুলি তাদের অস্ত্রাগারে মজুদ করা আছে।

রাত ১টার পর ২ ফিল্ডের সৈনিকদের ১ বেঙ্গল ল্যান্সারের মাঠে যৌথ ট্রেনিংয়ের নামে জড়ো করা হলে সেখানে উভয় ইউনিটের অফিসারসহ চাকরিচ্যুত কিন্তু ইউনিফর্ম পরিহিত মেজর ডালিম, নুর ও আরও ক’জন বহিরাগত অফিসার হাজির হয়।

প্রথমে মেজর ফারুক, এরপর মেজর রশিদ, মেজর ডালিম ও মেজর নুর সৈনিকদের উদ্দেশে নিচু স্বরে অথচ : বঙ্গবন্ধু ও সরকারবিরোধী কঠিন ভাষায় বক্তৃতা করেন। দেশের স্বার্থে সামরিক আইন জারি করতে হবে বললেও মূল লক্ষ্য যে হত্যাকাণ্ড তা তখন চেপে গিয়ে এরপরই সৈনিকদের মধ্যে গোলা বারুদ বিতরণ ও তাদের গাড়িতে ওঠার নির্দেশ দেয়া হয়।

মোট ১২ জন অফিসারকে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন টার্গেটের দায়িত্ব দেয়া হলেও মেজর ফারুক ধানমণ্ডি এলাকা ও রক্ষীবাহিনীর শেরে বাংলানগর ক্যাম্প, মেজর ডালিম মিন্টো রোড বাংলাদেশ বেতার এবং মেজর রশিদের ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দায়িত্ব থাকে।

সৈন্যভর্তি ছয়টি বিশাল লড়ি, কয়েকটি কামানবাহী আর্টিলারি গাড়ি ও জিপ সেনানিবাস ত্যাগের পরই ট্যাংকগুলোও যাত্রা শুরু করে। এটি সত্যিই বিস্ময়কর যেসব গোয়েন্দা ও মিলিটারি পুলিশের নাকের ডগার ওপর দিয়ে বিনা বাধায় বেরিয়ে গেল এ যুদ্ধের কনভয়।

প্রথম দলটি মেজর আজিজ পাশা-মোসলেহ উদ্দিনের নেতৃত্বে ধানমণ্ডিতে শেখ মনির নিরস্ত্র দারোয়ানকে দাঁড় করিয়ে রেখে দ্রুত দোতলায় উঠে যায়।

দরজা ভেঙে কিছু বোঝার আগেই শেখ মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা করে ভাবলেশহীনভাবে ৩২ নং রোডের দিকে ছুটতে থাকে। দ্বিতীয় গ্রুপে একটি জিপে মেজর ডালিম মহাখালী-মগবাজার হয়ে মিন্টো রোডে মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাড়িতে পৌঁছে দু’জন দুর্বল পুলিশ প্রহরীকে নিরস্ত্র করে অপেক্ষায় থাকে।

এ গ্রুপের মূল অংশ মেজর রাশেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল হয়ে মিন্টো রোডের টার্গেটের বাইরে উপস্থিত হয়। পূর্বে

অপেক্ষারত মেজর ডালিমের কাছ থেকে নিচু স্বরে কিছু ব্রিফ নিয়ে এরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে মন্ত্রীর বাড়ির দরজায় উপস্থিত। গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত তাড়াহুড়া করে দ্রুত রাষ্ট্রপতিকে ফোন করেন।

রিসিভার রাখা মাত্র হামলাকারীরা দরজা ভেঙে আজরাইল রূপে দোতলায় মন্ত্রীর রুমের ভেতর দণ্ডায়মান। তারা মন্ত্রীসহ বিভিন্ন রুম থেকে পরিবারের সবাইকে টেনেহিঁচড়ে নিচের ড্রইং রুমে জড়ো করে।

দ্রুততম সময়ে একাধিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ট্রিগার চেপে ধরলে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলিতে সবাই লুটিয়ে পড়ে যায়। রেহাই পায়নি মাত্র চার বছরের দুগ্ধ পোষ্য শিশু সুকান্ত বাবুও। এরা তড়িঘড়ি করে চলে যায় রেডিও সেন্টারের দিকে।

অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী গ্রুপটি ৩২ নং ধানমণ্ডির চারদিকে অবস্থান গ্রহণ করে। সম্ভবত এর মিনিট ২-৩ আগে মন্ত্রী ও ভগ্নিপতি সেরনিয়াবাতের ফোন পেয়ে বঙ্গবন্ধু পিএকে কন্ট্রোলরুমে লাইন লাগাতে বলেন।

মুহিতুল লাইন না পাওয়ায় লুঙ্গি, গেঞ্জি পরিহিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নিজে নিচে নেমে আসেন। এ সময়ই বাড়ির আঙিনায় রাষ্ট্রপতির হাউস গার্ড বিউগল বাজিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু তখন মুহিতুলের হাত থেকে ফোন নিয়ে পুলিশ কন্ট্রোলরুম পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

হাউস গার্ডের বিউগল শেষ হওয়া মাত্র দক্ষিণ দিকের লেকের অপর পাশ থেকে ৬৭৭ নং বাড়ি লক্ষ্য করে মেজর মহিউদ্দিনের দল মর্টার ও মেশিনগানের গুলি ছুড়তে শুরু করে। একটি গুলি বঙ্গবন্ধুর পাশ দিয়ে চলে যাওয়া মাত্র মুহিতুলকে নিয়ে তিনি বসে পড়েন। মিনিটখানেক গুলি চলার পরই শান্ত হলে অভিজ্ঞ বেগম মুজিব গৃহকর্মীকে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর পাঞ্জাবি নিচে পাঠান।

পাঞ্জাবি গায়ে পরতে পরতে শেখ সাহেব সামনের দরজার কাছে সেন্ট্রি-পুলিশদের কাছে গোলাগুলির কারণ জানতে চান। তিনি দোতলায় উঠে গেলে শেখ কামাল তিন তলা থেকে দৌড়ে নিচে নেমে আসেন। বঙ্গবন্ধু বেড রুমে লাল টেলিফোনে কর্নেল জামিলকে গোলাগুলির খবর দিতে সক্ষম ও বেশ ক’বার চেষ্টার পর সেনাপ্রধানকেও পেয়ে যান।

গড়িয়ে যাওয়া এই সামান্য সময়ের মধ্যেই ৩২ নং রোডের পূর্ব পাশ থেকে মেজর নুর-হুদা গ্রুপ এবং পশ্চিম থেকে ল্যান্সার মহিউদ্দিন গ্রুপ সদর দরজায় পৌঁছে যায়।

ক্যাপ্টেন বজলুল হুদা শেখ কামালকে সামনে পাওয়া মাত্রই গুলি ও হত্যা করে। জেনারেল শফিউল্লাহ্র বক্তব্য অনুযায়ী সেনাপ্রধানকে বঙ্গবন্ধু এ হামলার কথা জানালে তিনি বাড়ি থেকে অন্যত্র পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। যে শেখ মুজিবের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনও পালানোর রেকর্ড নেই, সেই রাষ্ট্রপতি মুজিবকে তার সেনাপ্রধান রক্ষা নয় পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে!

মেজর মহিউদ্দিন ও তার দল পশ্চিম দিকের সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে গেলে বঙ্গবন্ধু রুম থেকে বেরিয়ে আসেন। ওরা তাকে ঘিরে ধরে নিচে নামানোর সময় হয়তোবা গায়ে ধাক্কা লাগে।

‘বেয়াদবি করিস না’ এমন গর্জনে নিচ থেকে কয়েক ধাপ দৌড়ে ওপরে উঠে বঙ্গবন্ধুকে সামনে দেখা মাত্র মেজর নুর চিৎকার দিয়ে সবাইকে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েই খুব কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুর সমুদ্রসম বিশাল বুক লক্ষ্য করে ট্রিগার চেপে ধরে।

অন্তত আঠারোটি গুলিতে সিঁড়িতেই লুটিয়ে পড়েন শেখ মুজিব তো নয়, এ যেন বাংলাদেশ, স্বাধীনতা। এরপর খুনিরা বঙ্গবন্ধুকে ডিঙিয়ে নিচে নেমে যায়।

বঙ্গবন্ধুর শরীর থেকে অজস্র ধারায় রক্ত বয়ে যাচ্ছে নিচে। এমন সময় মেজর পাশা-মোসলেহ উদ্দিন গ্রুপ যেন খুনের নেশায় উন্মাদ হয়ে ওপরে উঠে যাচ্ছে।

এরাই কিছুক্ষণ আগে শেখ মনি দম্পতিকে হত্যা করে এসেছে। বঙ্গবন্ধুর নিথর দেহ ডিঙিয়ে বেগম মুজিবের রুমের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে তখন বেগম মুজিব, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সুলতানা কামাল, রোজি ও শেখ নাসের। বেগম মুজিবকে বাইরে আসতে বললে

তিনি ওদের অনুসরণ করছিলেন। কিন্তু বাইরে আসা মাত্র প্রিয় স্বামীর মৃতদেহ দেখে তিনি চিৎকার করে তাকেও হত্যার আহ্বান জানালে গর্জে ওঠে অস্ত্র, ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে বেগম মুজিব।

শেখ নাসের ও রাসেলকে নিচে নামিয়ে দিয়ে রুমে ঢুকে আবার গুলি। এখানে তাৎক্ষণিক তিনজন মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনানুযায়ী দেশের সেরা নারী ক্রিড়াবিদ সুলতানা কামালের মাথা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। শেখ নাসেরকে নিচে বাথরুমে এবং পরে দশ বছরের রাসেলকে ওপরে রক্তাক্ত ভাই ও ভাবিদের মৃতদেহের ওপর ধাক্কা মেরে গুলি চালালে মাথার মগজ ছিটকে দেয়াল ও ছাদে আটকে যায়।

এদিকে যখন হত্যাকাণ্ড চলছিল, তখন সেনানিবাসে কার কী প্রতিক্রিয়া, ভূমিকা ছিল? সেনাপ্রধানের বক্তব্য মতে ৪৬ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার কর্নেল সাফায়াত জামিল এবং সিজিএস ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ এই দুঃসংবাদ জানামাত্র ঘরের পোশাক অবস্থায়ই সেনাভবনে উপস্থিত হলেও তার নির্দেশ মোতাবেক পদাতিক বাহিনী দ্বারা বিদ্রোহ দমনে ব্যবস্থা নেয়নি।

অপরদিকে জেনারেল জিয়া কর্নেল শাফায়াতের কাছে বঙ্গবন্ধু হত্যার সংবাদ জেনে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে ‘সো হোয়াট, ভাইস প্রেসিডেন্ট ইজ দেয়ার। আপহেল্ড দ্য কনসটিটিউশন’ ঠাণ্ডা মাথায় এমন শক্ত মন্তব্য উচ্চারণ করেন।

নিখুঁতভাবে সেভ করা ও ইউনিফর্ম পরিহিত টিপটপ জেনারেল জিয়া সেনা ভবনে খালেদ মোশাররফকে অ্যাকশনে যাওয়া থেকে বিরত রাখেন কথাটি সত্য হলে, জেনারেল শফিউল্লাহর অবস্থা ভেবে আমাদের করুণা হয়।

এরপর তার বক্তব্য অনুযায়ী তিনি ইউনিফর্ম গায়ে জড়িয়ে সেনা সদরে অফিস করতে চলে যান। অথচ তখনও ভাসছে রক্তের সাগরে তার নিয়োগকর্তা শেখ মুজিব ও তার স্বজনের লাশ।

এ হত্যাকাণ্ডে তিনি বিন্দুমাত্র জড়িত এমনটি বিশ্বাস করি না ঠিকই কিন্তু সেনাপ্রধান হিসেবে তার ব্যর্থতার দায় তিনি এড়াতে পারেন না। তার নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অভ্যন্তরে যে বিদ্রোহের আগুন জ্বলছিল, চক্রান্তকারীরা তার কোলে বসে ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়েছিল তা তিনি জানলেন না?

বঙ্গবন্ধু সবাইকে বিশ্বাস করলেও রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবের নিরাপত্তা বলতে কিছুই ছিল না এমনটি দেখা ও জানা সত্ত্বেও তিনি কেন তাকে বুঝিয়ে বা চাপ দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেননি।

‘হি ইজ গোয়িং টু স্পয়েল এভরি থিং’ জেনারেল জিয়ার এমন বক্তব্যের পর সেনাপ্রধান কেন নিজে উদ্যোগী হয়ে বিদ্রোহী ও খুনিদের দমন করেননি। হয়তোবা বঙ্গবন্ধুকে আর বাঁচানো যেত না, কিন্তু ইতিহাস তো ভিন্ন হতো। কিন্তু তিনি সেনাপ্রধান নয়, নিছক কলের পুতুলের মতো কেবল তাকিয়ে দেখেছেন।

অবশেষে খন্দকার মোশতাককে সমর্থন দিয়ে সেনাপ্রধানের পদ হারিয়েও দীর্ঘদিন তারই উপপ্রধানের অধীনে রাষ্ট্রদূতের চাকরি করেছেন।

ধিক এ পদ ও পদবির।

১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা চার বছরেই তার শৌর্য-বীর্য হারিয়ে ফেলেছেন? এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে যারাই জড়িত কেউই ছাড় পায়নি। এমনকি জেনারেল জিয়াকেও সৃষ্টিকর্তা রেহাই দেননি। একইভাবে জেনারেল শফিউল্লাহ।

তিনিই একমাত্র জীবিত ফোর্স কম্যান্ডার ও প্রথম সেনাপ্রধান। কী সম্মান! কিন্তু এখন তিনি অনেকটাই একঘরে। সভা সমাবেশে তিনি ধিকৃত ও নিন্দিত বটে। কঠিন সময়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় সেনাপতি।

শুধু জীবদ্দশায় নয়, অনাগত ভবিষ্যতেও ইতিহাসের কাঠগড়ায় তার জন্য নির্ধারিত থাকবে আসামির চেয়ারখানি। হয়তোবা তিনি ষড়যন্ত্রকারী, খুনি হয়ে নয়, কিন্তু কাপুরুষ ও ভীরুতার অপরাধে অপরাধী এক সেনাপ্রধান হিসেবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×