ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই মুক্তিযোদ্ধা হামিদের

  নাজমুল হুদা নাসিম, বগুড়া ব্যুরো ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বগুড়ার কাহালুর উলট্ট গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ। দেশ স্বাধীন হলেও তার জীবনে স্বাধীনতা আসেনি। তার ফুসফুসে ক্যান্সার বাসা বেঁধেছে। অসুস্থ এ মুক্তিযোদ্ধা আজও পরিবার নিয়ে মাটির ভাঙা জরাজীর্ণ বাড়িতে বাস করছেন। ভাতার টাকায় বড় সংসারের খরচ ঠিকমতো জোগাতে পারেন না। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। সহযোদ্ধারা জানিয়েছেন, আবদুল হামিদ ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে এপ্রিলে প্রশিক্ষণ নিতে ভারতের বোয়ালদা ক্যাম্পে যান। সেখানে তৃতীয় ব্যাচে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। হামিদ ন্যাপ ছাত্র ইউনিয়ন ও সিপিবি যৌথ গেরিলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকায় পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। তিনি ৭ নম্বর সেক্টরে নুরুল আনোয়ার বাদশার নেতৃত্বে ছিলেন। গেরিলা যোদ্ধা আবদুল হামিদ জানিয়েছেন, তার ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়েছে। অসুখ ও সংসারে অভাবের কারণে তিনি একেবারে ভেঙে পড়েছেন। চার ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা হামিদ দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলে আরিফুল ইসলাম বেকার। দ্বিতীয় ছেলে আশিকুল মাস্টার্স পাস করে কাহালু মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল অ্যান্ড স্কুলে চাকরি করলেও বেতন হয়নি। তৃতীয় ছেলে আসাদুজ্জামান লেবারের কাজ করেন। চতুর্থ ছেলে আইয়ুব আলী কলেজে অনার্সে পড়েন। মাসে ১২ হাজার টাকা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ছাড়া আর কোনো আয় নেই। এ টাকায় সংসার চলে না। পৈতৃকসূত্রে পাওয়া মাটির ভাঙা জরাজীর্ণ বাড়িতে ঝুঁকি নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করেন। ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ায় চিকিৎসার জন্য ধারদেনা করে কিছু দিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরলেও টাকার অভাবে ওষুধ খেতে ও কেমো দিতে পারছেন না। কাহালু মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নজিবর রহমান জানান, আবদুল হামিদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ভারতে ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন। ডাক্তার বলেছেন, প্রতি মাসে তাকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি কেমো দিতে হবে। কিন্তু টাকার অভাবে গত মাসে কেমো দিতে পারেননি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×