দেশে দেশে ঈদ উৎসব

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আলম শামস

ঈদ শব্দটির অর্থ উৎসব। ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী মুসলমানরা প্রতিবছর দুটি ঈদ পালন করেন। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। ঈদ হল মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এক মাস রোজা রাখা বা সিয়াম সাধনার পর হিজরি সনের সাওয়াল মাসের প্রথম দিন বিশ্বের মুসলমানরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদুল ফিতর পালন করে থাকেন। আর ১০ জিলহজ পৃথিবীর সব ঈমানদার মুসলমান খুব আনন্দের সঙ্গে ঈদুল আজহা পালন করেন।

ঈদের দিন ভোরে মুসলমানরা আল্লাহর ইবাদত করে থাকেন। ৬ তাকবিরের সঙ্গে ২ রাকাত ঈদের নামাজ ঈদগাহ ময়দান বা বড় মসজিদে আদায় করেন। ফজরের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর ঈদুল ফিতরের নামাজের সময় হয়। এ নামাজ আদায় করা মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব। ইমাম নামাজ শেষে খুতবা দেন। আর তা মনোযোগসহকারে শোনাও ওয়াজিব। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে।

অজু-গোসলের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে একটি খেজুর কিংবা খোরমা অথবা মিষ্টান্ন খেয়ে রওনা হওয়া সওয়াবের কাজ। ঈদুল ফিতরের ব্যাপারে ইসলামী নির্দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে গোসল করা, মিসওয়াক করা, আতর-সুরমা লাগানো, এক রাস্তা দিয়ে ঈদের মাঠে গমন এবং নামাজ শেষে ভিন্ন পথে গৃহে প্রত্যাবর্তন। ইসলামে নতুন পোশাক পরিধান করার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বিভিন্ন দেশে তা বহুল প্রচলিত একটি রীতিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের কয়েকটি দেশের ঈদ উৎসবের চিত্র-

বাংলাদেশ : মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশ। এ দেশে ঈদ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ধর্মীয় অনুষ্ঠান। ঈদ উপলক্ষে তিন দিনের সরকারি ছুটি থাকে। সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকে। সকালবেলা ঈদের নামাজ আদায় করা, বন্ধুবান্ধব, নিকটজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা, আর জাকাত-ফিতরা আদায় করার মধ্য দিয়ে ঈদের আনন্দ শুরু হয় এ দেশে। নতুন জামাকাপড় এবং মেয়েদের হাতে মেহেদি পরা, বাড়িতে অথবা বন্ধুদের সঙ্গে মজাদার খাবার খাওয়া একটি অন্যতম জনপ্রিয় ঈদের রীতি।

সৌদি আরব : সৌদি আরবের জাতীয় উৎসব হল ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। তিন দিন সরকারি ছুটি থাকে। তাদের একটি প্রচলিত রীতি হল পুরুষরা তাদের ছেলেমেয়ে, স্ত্রী নিয়ে বাবার বাসায় ঈদ পালন করবে। ঈদ উপলক্ষে খাবার ও উপহার দেয়া হয়। এমনকি অমুসলিমদেরও উপহার দেয়া হয়। গরিবদের খাবার বিতরণ করা হয়। ঘরে ঘরে মিষ্টিজাতীয় খাবার বানানো হয়। এ সময় আত্মীয়-প্রতিবেশীরা বেড়াতে আসেন। অনেকে আবার বাইরে বিভিন্ন পার্কে বেড়াতে যান ও একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করেন।

মালয়েশিয়া : মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়ায় ঈদুল ফিতর বড় করে উদযাপিত হয়। এ সময় সরকারি ছুটি থাকে। সবাই নিজ নিজ পরিবারের সঙ্গে ঈদ পালন করে। এখানে ঈদের আগের দিন থেকেই উৎসব পালিত হয়। ঈদের আগের রাতকে তাকবিরান বলা হয়। মসজিদ ও রাস্তায় তাকবির ধ্বনি উচ্চারিত হয়। রাস্তাঘাটে মশাল, আতশবাজি করা হয়। তাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার রেন্দাং, কেতুপাট, লেমাং রান্না করে। শহরে ঘরে ঘরে প্রচুর পরিমাণে খাবার রান্না করে প্রতিবেশী এমনকি অমুসলিমদেরই দাওয়াত দেয়া হয়। খাওয়ার পর গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। চীন থেকে বাঁশি আমদানি করা হয়। এ বাঁশি খুব জোরে বাজে। সন্ধ্যায় বাজি উৎসব চলে।

তুরস্ক : ইউরোপের মুসলিম অধ্যুষিত দেশ তুরস্কে ঈদুল ফিতরকে বলা হয় ‘সেকার বাইরাম’, যা বাংলা করলে দাঁড়ায় চিনি উৎসব। এই দিনটিকে সামনে রেখে তুর্কি নারীরা মিষ্টিজাতীয় খাবার যেমন ক্যান্ডি, পুডিং, কেক ও বাকালাভা নামের পেস্ট্রি প্রস্তুত করে। ঐতিহ্যগতভাবে এ দিনটিতে ইস্তাম্বুল শহরের ‘বুমস্ক’সহ অন্যান্য মসজিদে বিশেষ আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। ঈদের দিন বিশেষ কায়দায় বয়স্কদের শ্রদ্ধা জানানো তুরস্কের বহু পুরনো একটি প্রথা। এদিনে তুর্কিরা প্রবীণ ব্যক্তির ডান হাতে চুমু খায় এবং সেই হাতটি তার কপালে ছুঁইয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানায়। দিনটি পালনের জন্য দেশজুড়ে কনসার্ট, নাটক এবং কিছু কিছু স্থানে কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

মিসর : ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিন দিনের সরকারি ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে পার্ক, সিনেমা, থিয়েটার কিংবা সমুদ্রতটে ভ্রমণ করতে পছন্দ করে অধিকাংশ মিসরীয়। এ ছাড়া এ দিনটিতে মিসরের বিখ্যাত অবকাশযাপন কেন্দ্র ‘শারম আল শেখ’-এ উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। ঈদের দিনটিতে মিসরে বিশেষ খাবারের আইটেমে চিনি ও বাদামের ব্যবহার বেশি লক্ষ করা যায়। ঈদের বিশেষ খাবার হিসেবে মিসরে ‘কাহক’ নামের এক ধরনের বিশেষ কুকি বা পিঠা বেশ জনপ্রিয়। সেই দশম শতাব্দীতে মিসর রাজপ্রাসাদ থেকে আবির্ভাব হয়েছে এই বিশেষ পিঠার, যার ভেতর খেজুরভর্তা, বাদাম বা টার্কিশ ডিলাইটের পুর দেয়া হয়। এমনই আরেকটি মিষ্টিজাতীয় পদের নাম ‘কাতায়েফ’, যা মিসরজুড়ে জনপ্রিয়।

মিসরে এ ঈদুল ফিতর আনুষ্ঠানিকভাবে তিন দিনের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এ সময় স্কুল-কলেজ, ইউনিভার্সিটি, সরকারি অফিস এমনকি কিছু কিছু দোকান, রেস্টুরেন্টও বন্ধ থাকে। সামান্য নাশতা করে এবং সবাই একত্রিত হয়ে সম্মিলিত ঈদের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি শুরু হয়।

বন্ধুবান্ধব, নিকটজন, পাড়া-প্রতিবেশী একে অপরকে ঈদ মোবারক বলে ঈদের শুভেচ্ছা জানায়। ঈদের প্রথম দিনটি সবাই কাটায় আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে, বাকি দিনগুলো তারা কাটায় সিনেমা হলে, পার্কে বা সমুদ্রসৈকতে। ‘হারম আল শেখ’ জায়গাটি ঈদের ছুটি কাটানোর জন্য অন্যতম জনপ্রিয় স্থান। শিশুরা বড়দের কাছ থেকে নতুন জামা এবং ঈদ সালামি পেয়ে থাকে।

বিভিন্ন রকম খাবার রান্না করা হয়, যার মধ্যে ‘ফাতা’ ঈদের বিশেষ একটি খাবার। এটি বাদাম এবং চিনি দিয়ে তৈরি। ‘কাহক’ নামক আরও একটি খাবার আছে যার কারণে মিসরের বেকারিগুলো ঈদের সময় কোলাহলপূর্ণ থাকে। টেলিভিশনেও বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের মাধ্যমে ঈদ উদযাপিত হয়। শিশুরা রাতে সবাই একসঙ্গে হয়ে গল্পগুজব করে অথবা বড়দের কাছ থেকে গল্প শোনে, গানের আসর বসে। শিশুদের জন্য মোটরসাইকেল ভাড়া করে শহর ঘুরে বেড়ানো অপরিহার্য বলা যায় মিসরে। মিসরের মানুষ সবাই মিলে একসঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করে বলে তাদের রাস্তাগুলো এ সময় অনেক বেশি কোলাহলপূর্ণ থাকে।

ইরান : অন্যান্য দেশের তুলনায় শিয়া অধ্যুষিত ইরানে অনেকটা নীরবেই ঈদ উদযাপন করা হয়। ইরানে ঈদের দিন দান করাকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। এদিনে প্রায় প্রতিটি মুসলিম পরিবার গরিবদের মধ্যে খাবার ও গরু বা ভেড়ার গোশত বিলিয়ে থাকে। এ ধরনের দানের প্রথা ঈদুল আজহায় বেশি প্রচলিত হলেও ইরানিরা ঈদুল ফিতরেও গরিবদের মধ্যে গোশত বিতরণ করে।

ইন্দোনেশিয়া : ইন্দোনেশিয়ায় ঈদুল ফিতরকে ‘লেবারান’ বলা হয়। রমজানের শেষ দিনে সন্ধ্যা হতে না হতেই ঢোল বাজানো, নাচ, গান, নামাজ আর বয়ানের ভেতর দিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় ঈদ উৎসব শুরু হয়ে যায়। এদিনে নারিকেল পাতার ভেতর ভাপে দেয়া চালের গুঁড়ার পিঠা ‘কেতুপাত’ বানানো হয়, যা দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়। ঈদের দিনে বিগত বছরের কৃতকর্মের জন্য আত্মীয় বা বন্ধুর কাছে ক্ষমা চাওয়াটা ইন্দোনেশিয়ার ঈদ উদযাপনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। অনেক সময় এ ক্ষমার আবেদনসহ ঘরে ঘরে ঘুরে বেড়ানোর পালা শেষ হতে কয়েক দিন লেগে যায়।

এখানে ঈদের দিন সরকারি ছুটি থাকে। মানুষ ঈদ উপলক্ষে নতুন জামাকাপড় কেনে। যেহেতু বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোক এসে এখানে কাজ করে তাই তারা ঈদের ছুটি কাটাতে নিজ নিজ এলাকায় যায়। এজন্য রাস্তায় প্রচুর যানজট থাকে। ঈদের দিন মিষ্টিজাতীয় খাবার তৈরি করা হয়। ছোটদের খামে করে ঈদের সালামি প্রদান করা হয়। ঈদের দিন মহিলারা ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘কেবায়াকুরঙ্গ’ পরিধান করে। ঈদের দিন তারা সমাধিস্থলে যায়। সেখানে কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও মোনাজাত করে। এ ছাড়া কোরআনের একটি অধ্যায় থেকে বিশেষ আলোচনা হয়। এ অনুষ্ঠানের নাম ‘হালাল বি হালাল’।

কাতার : কাতারে তোপধ্বনি দেয়ার মাধ্যমে ঈদুল ফিতরের আগের সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখার সংবাদ ঘোষণা করা হয়। এদিনে কাতারের নারীরা নতুন জুতা আর প্রায়ই সোনালি বা রুপালি সুতোয় নকশা করা কাফতান পরে থাকেন। ঈদের দিন প্রথম সকালে বুলালিত (সিদ্ধ ডিমে ঢাকা মিষ্টি নুড্লস), মিষ্টি রুটি এবং অন্যান্য মিষ্টিজাতীয় খাবার দিয়ে বিশেষ নাশতা তৈরি করা হয়। ঈদের নামাজ শেষে আগত মেহমানদের দারুচিনি দেয়া কফি, গোলাপজলের সুবাসযুক্ত চা, বাকলাভা, ফল আর অন্যান্য মিষ্টি পরিবেশন করা হয়। দুপুরের খাবারে ভাত ও ভেড়ার গোশতের আধিক্য লক্ষ করা যায়। এদিনে রাজধানী দোহায় বিভিন্ন স্থানে তলোয়ার যুদ্ধ ও ঢোল বাজানোর মাধ্যমে বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়।

ফিলিপাইন : ফিলিপাইনে ঈদুল ফিতর সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিস্টান এবং অমুসলিমদের কাছে ওয়াকাস নগ রমজান অথবা রমজান হিসেবে পরিচিত। সরকার কর্তৃক প্রজাতন্ত্র আইনের ৯১৭৭ ধারা অনুসারে এ দিনটিকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০০২ সালের ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি একই নির্দেশ জারি করে ১০৮৩ ধারাতে, যা পৃথিবীর একমাত্র খ্রিস্টান দেশে এটি চালু করা হয়। এ আইনের মাধ্যমে ফিলিপিনো মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্য প্রধান ধর্মগুলোর মধ্যে সম্প্রীতি, ঐক্য ও শান্তি সৃষ্টি হয়। ২০০২ সালের ৬ ডিসেম্বর ফিলিপাইনে প্রথম জাতীয়ভাবে মুসলিম সম্প্রদায় নামাজ আদায়ের মাধ্যমে ঈদ উদযাপন করে। অধিকাংশ ফিলিপিনো মুসলিম কুরিনো গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড এবং ম্যানিলা মসজিদে ঈদ পালন করে।

দক্ষিণ আফ্রিকা : প্রতি বছর শত শত মুসলমান রমজানের শেষ দিন সন্ধ্যায় কেপটাউনের গ্রিন পয়েন্টে চাঁদ দেখার জন্য জড়ো হয়। সবাই সমবেত হয়ে একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। মাগরিব আদায় করে এবং আনুষ্ঠানিক চাঁদ দেখার ঘোষণা দেয়। এখান থেকেই শুরু হয় দক্ষিণ আফ্রিকার ঈদুল ফিতরের আমেজ। সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় ঈদ। নতুন জামাকাপড় পরে আত্মীয় এবং প্রতিবেশীদের বাসায় যাওয়া আর সুস্বাদু সব বিভিন্ন রকমের কেক, বিস্কুট, সমুচা খাওয়া শিশুদের জন্য এক আনন্দময় ব্যাপার। এখানকার শিশুরা বড়দের কাছ থেকে হরেক রকমের উপহার পেয়ে থাকে প্রতি ঈদে।

অস্ট্রেলিয়া : অস্ট্রেলিয়া প্রধানত অমুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও এখানে মুসলমানরা বিপুলভাবে ঈদ পালন করে। এমনকি যে এলাকায় মুসলমান বেশি সেখানে ঈদুল ফিতরকে ছুটির দিন হিসেবে দেখা হয়। যেসব এলাকায় মসজিদ আছে সেখানে পুলিশ তাদের ঈদ উদযাপন করার সময় নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। তারা নির্বিঘ্নে নামাজ সম্পন্ন করে এবং নামাজের পরবর্তী উৎসব উদযাপন করে। ঈদের নামাজ খেলার মাঠ বা স্টেডিয়ামেও অনুষ্ঠিত হয়। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ১৯৮৭ সাল থেকেই ঈদ ফেয়ার উদযাপন হয়েছিল। সেখানে লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হয়েছিল। তারপর থেকে এটি প্রতি বছর হচ্ছে আরও বিভিন্ন শহরে। শুধু মুসলিম নয়, অমুসলিমরাও এখানে অংশগ্রহণ করে। মেলবোর্নে সরকারি ছুটির দিনে বড় করে ঈদ উদযাপন করে। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় পুলিশ ফেডারেশন ঈদ উৎসবের জন্য স্পন্সর করে। এসব উৎসবে বিভিন্ন রাইড, স্টল থাকে ও নানা দেশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

চীন : অমুসলিম দেশ চীনে ঈদুল ফিতর শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা জিনজিয়ান ও নিংজিয়া প্রদেশে তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। অন্য প্রদেশে একদিন করে ছুটি দেয়া হয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় সরকারিভাবে ভেড়ার গোশত প্রদান করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা খাবার প্রদান ও সরবরাহ করে থাকে। ইউনান প্রদেশের মুসলিমরা নামাজের পর ‘সাইয়েদ আজাল’-এর কবর জিয়ারত করে। সেখানে গিয়ে তারা কোরআন তেলাওয়াত করে। ঈদুল ফিতরের প্রধান খাবার থাকে বিভিন্ন পশুর গোশত।

যুক্তরাজ্য : ঈদুল ফিতর যুক্তরাজ্যে সরকারি ছুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। তবে বর্তমানে অনেক মুসলিম ব্রিটেনে বসবাস করে, তাই বিভিন্ন পেশাজীবী লোক এদিনে ছুটি নেয়। দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত পুরুষরা সাধারণত পাঞ্জাবি, জুব্বা, শেরওয়ানি, টুপি পরে। মহিলারা সালোয়ার-কামিজ পরে। ঈদের নামাজ পড়ে প্রতিবেশী-বন্ধু-আত্মীয়দের বাড়িতে বেড়াতে যায়। অনেকে কবরস্থানে যায় মৃত ব্যক্তির কবর জিয়ারত করতে। এদিনে যার যার দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার রান্না করে।

যুক্তরাষ্ট্র : যুক্তরাষ্ট্রে ঈদ উৎসব বড় করেই পালন করা হয়। মুসলিমরা ইসলামিক সেন্টার, খোলা মাঠ, কনভেনশন হলে একত্রিত হয়। যেসব এলাকায় মুসলিম কম, তারা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় চলে আসে। এদিন অনেক মসজিদে নামাজ পড়ার পর খাওয়ার আয়োজনও থাকে। নিউইয়র্কের জর্জ এবং ব্রাউন কনভেনশন সেন্টার টেক্সাসের ডাউনটাউন, হিউস্টোন বিভিন্ন ইসলামিক সংস্থার অর্থায়নে ঈদ উৎসব পালিত হয়। ২০০১ সাল থেকে ক্যালেন্ডার, ডাকটিকিট মুসলিমদের দুই বৃহৎ উৎসব প্রচলন করে। মুসলিমরা বাসায় খাবারের আয়োজন করে। অনেকে পরিবার-বন্ধুবান্ধব নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে যায়।

পশ্চিমা দেশগুলোয় ঈদ উদযাপনের চিত্র একটু অন্য রকম। সেখানে মুসলিম আধিপত্য না থাকায় ঈদ অনেকটা অনাড়ম্বরভাবে পালিত হয়। তবে সব জায়গায়ই মুসলমানরা একত্রিত হয়ে নামাজ আদায়ের পর শুভেচ্ছা বিনিময় করে, কুশল বিনিময়, ছোটদের উপহার ও বকশিশ প্রদান করে। যেমন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ঈদ উপলক্ষে বিশাল এক জনসমাগম হয়। এরপর চলে বিশাল ভোজ। মালয়েশিয়ান, ইন্দোনেশিয়ান, ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি আর বাংলাদেশি খাবারের লোভে অনেকেই সেখানে এদিন জড়ো হন। এছাড়াও অনেক অমুসলিম দেশেও ঈদ উৎসব পালিত হচ্ছে।

মূল কথা : সীমানা ভিন্ন, ভূখণ্ড ভিন্ন, দেশ ভিন্ন, ভাষা ভিন্ন, মানচিত্র ভিন্ন। কিন্তু ধর্ম এক ও অভিন্ন। ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী মুসলমানরা পৃথিবীব্যাপী প্রায় একইভাবে ঈদ উৎসব পালন করেন। মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে গোসল সেরে বাড়ির পুরুষ সদস্যরা ঈদের নামাজ পড়তে যান। নামাজ শেষে কোলাকুলির মাধ্যমে শুরু হয় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়। এরপর নিকট স্বজন, প্রতিবেশীদের বাসায় যাওয়া, মিষ্টিমুখ করা, সবার খোঁজখবর নেয়া, শিশুদের উপহার দেয়া, দরিদ্রদের দান করা হল মুসলমানদের ঈদের মূল আনন্দ।