ঢামেক হাসপাতালে শাহীন ও শাহরিনের সার্জারি আজ

প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় আহত সাতজন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। এরা হলেন শাহীন ব্যাপারী, কবির হোসেন ও শাহরিন আহমেদ। শাহীন এবং শাহরিনের সার্জারি করা হবে আজ। তবে আহত মেহেদী হোসেন মাসুম, আলিমুন নাহার অ্যানি, সৈয়দা কামরুন নাহার স্বর্ণা ও সৈয়দ রাশেদ রুবাইয়াতের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন ঢামেক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।

মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘কবির হোসেন ও শাহরিনের শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল, তাই তাদের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের অবস্থা একটু জটিল। কবির হোসেনের পা ভাঙা। আর শাহীন ব্যাপারী ডা. লুৎফুল কাদের লেলিনের তত্ত্বাবধানে আছেন। আমরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছি। মেহেদী ও অ্যানিকে বন্ড সই করে স্বজনরা বাড়ি নিয়ে গেছে। তাদের আবারও ফিরে আসার কথা রয়েছে। ডা. সেন বলেন, বুধবার সকালে শাহীন ব্যাপারী ও শাহরিনের সার্জারি করা হবে।

বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. ইমাম হোসেন বলেন, শাহরিন, শাহীন ব্যাপারী ও কবির হোসেনের কয়েক ধাপে অপারেশন প্রয়োজন। বুধবার শাহরিন এবং শাহীন ব্যাপারীর প্রথম অপারেশন হবে। শাহীন ব্যাপারীর শরীরের ৩২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। শাহরিনের পুড়েছে ১৭ শতাংশ, ঘাড়ের নিচ থেকে পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ। এদের মধ্যে ওজন বেশি থাকার কারণে শাহরিনের অপারেশন কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান তিনি। কবিরের দুই পায়ের হাড়ে মোট চারটি চিড় (ফ্র্যাকচার) হয়েছে, শরীর পুড়েছে ১৫ শতাংশ। কানেও সমস্যা রয়েছে। গত ১২ মার্চ কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর এতে আগুন ধরে যায়। যাত্রীদের মধ্যে ১০ বাংলাদেশি বেঁচে গেলেও তাদের প্রায় সবার দেহেই আগুনের ক্ষত রয়েছে। আহত ১০ জনের মধ্যে দেশে ফিরেছেন সাতজন। বাকি তিনজনকে নেপাল থেকেই বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

বার্ন ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. লুৎফুর কাদের লেনিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে ডা. রেজোয়ানের স্কিন ড্রাফটিং হয়েছে। তাকে ২৮ বা ২৯ মার্চে দেশে পাঠানো হতে পারে। এছাড়া মঙ্গলবার ভোরে ইমরানা কবির হাসির জ্ঞান ফিরেছে। সে সময় হাসির সামনে তার বাবা ছিলেন। হাসি ভালো আছেন। তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আহতদের আমি দেখে এসেছি। তাদের আঘাতটা মূলত মানসিক। এমনিতে তারা ভালো আছেন। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই তারা বাড়িতে ফিরতে পারবেন।