ডেথ রেফারেন্স আপিল শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে

যত দ্রুত সম্ভব শুনানির পদক্ষেপ নেবে রাষ্ট্রপক্ষ-অ্যাটর্নি জেনারেল

  আলমগীর হোসেন ১৫ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডেথ রেফারেন্স আপিল শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের পর আসামিদের কারাগারে নেয়া হয়। ছবি: যুগান্তর

আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হতে পারে। যেমনটি হয়েছিল চাঞ্চল্যকর পিলখানা হত্যা, নারায়ণগঞ্জের সাত খুন, বিশ্বজিৎ হত্যা ও সাংবাদিক ফরহাদ খান দম্পতি হত্যা মামলার ক্ষেত্রে। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে ভাবছে। প্রধান বিচারপতি দেশে ফিরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন বলে সুপ্রিমকোর্টের একটি সূত্র জানিয়েছে।

বিচারিক আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে তা কার্যকর করতে অনুমোদন লাগে হাইকোর্টের। এটাকেই ডেথ রেফারেন্স অনুমোদন বলা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাইকোর্টে আসা ডেথ রেফারেন্স মামলার সংখ্যা বাড়ছেই। বর্তমানে হাইকোর্টের তিনটি ডিভিশন বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল নিষ্পত্তি করছেন। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চের সংখ্যা বাড়িয়ে তিনটি করেন। আগে একটি বেঞ্চ ছিল। তার পরও এসব বেঞ্চে ২০১০ সালের নিম্ন আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের মামলাও রয়েছে। বর্তমানে সুপ্রিমকোর্টে এমন বিচারাধীন মামলা সাত শতাধিক। সিরিয়াল অনুযায়ী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি করতে সময় লাগবে কমপক্ষে আট থকে দশ বছর। তাই জনস্বার্থে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই মামলা বিশেষ বেঞ্চে শুনানি হতে পারে। জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যুগান্তরকে বলেন, মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হোক, জাতি সেটা প্রত্যাশা করে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের বিনা খরচে রায়ের কপি দেয়া হবে। তারা যদি আপিল ফাইল করে তবে তাও ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসবে। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ যত দ্রুত সম্ভব শুনানির পদক্ষেপ নেব। তবে পেপারবুক তৈরির বিষয় রয়েছে, সেগুলো আদালতের বিষয়। মামলায় তারেক রহমানকে নাটের গুরু বলা হয়ে থাকে। আমরা রায় পর্যালোচনা করে দেখব। রায় পড়ে যদি দেখি তারও মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত ছিল তবে তার দণ্ড বৃদ্ধিতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আপিল করা হবে। সবটা নির্ভর করবে রায় পড়ার পর।

গত ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন এবং বাকি ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। রায়ে বলা হয়েছে, আসামিদের সাজা হাজতবাসের সময় থেকে বাদ যাবে। যেসব আসামি দুই মামলায় সাজা পেয়েছেন তাদের একযোগে দণ্ড কার্যকর হবে। যারা পলাতক, তাদের গ্রেফতার বা আত্মসমর্পণের পর থেকে দণ্ড কার্যকর হবে।

রায়ের পর উভয় পক্ষই সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করার কথা জানান। অনেকে রায়ের সত্যায়িত কপির জন্য বিচারিক আদালতে আবেদনও করেছেন। আগামী সপ্তাহে বিচারিক আদালত থেকে গ্রেনেড হামলা মামলাটির ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসতে পারে। এর পরই মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করা হবে। যেমনটি করা হয়েছিল না’গঞ্জের সাত খুন মামলার ক্ষেত্রে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর দায়রা জজ আদালত রায় দেন ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি। আর এক সপ্তাহের মধ্যে (২২ জানুয়ারি) সেই আদালত থেকে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পরে পেপারবুক তৈরি শেষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি হয়। কথা হয় সুপ্রিমকোর্টের স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার ড. সাইফুর রহমানের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মামলা। এটি সুপ্রিমকোর্টে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি হবে কিনা তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বিচারিক আদালত থেকে ডেথ রেফারেন্সসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র আসার পর এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্ত নেবেন। পরে প্রয়োজনীয় পেপারবুক তৈরির পর সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানো হতে পারে। রায়ের পরের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সাজার ওপর ভিত্তি করে রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া নির্ধারণ হবে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রায় কার্যকরে উচ্চ আদালতের অনুমোদন নিতে হবে। যেসব আসামি যাবজ্জীবন বা বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছেন তাদের দণ্ড রায়ের দিনই কার্যকর শুরু হয়েছে। তবে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা একটি মামলার রায়ে বলেছিলেন, যাবজ্জীবন মানেই আমৃত্যু কারাদণ্ড। পরবর্তীতে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা রিভিউ (পুনঃবিবেচনা) করেছি। তিনি বলেন, বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হওয়ার পর সেই রায় কার্যকরে বেশ কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। প্রথমেই ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের দণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে ‘ডেথ রেফারেন্স’ হিসেবে আসবে।

ঘটনাপ্রবাহ : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter