উন্নয়নের ধারা যেন অব্যাহত থাকে: প্রধানমন্ত্রী

  বাসস ২১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এফবিইউটিএ আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এফবিইউটিএ আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি-যুগান্তর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে উন্নয়নের বর্তমান ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে আগামী নির্বাচনে জয়লাভের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই, যাতে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের চলমান গতি বজায় থাকে এবং আমাদের শুরু করা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো শেষ করা যায়। কারণ, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে না পারার কারণে আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো পরে বিএনপি-জামায়াত সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল।’

শেখ হাসিনা শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশন (এফবিইউটিএ) আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে জনগণ যদি ভোট দেয় তাহলে হয়তো নির্বাচিত হয়ে আসব। আর যদি নাও দেয় তাহলেও কোনো আফসোস থাকবে না- কারণ, বাংলাদেশে উন্নয়নের যে ধারাটা আমরা শুরু করেছি সেটা যেন অব্যাহত থাকে তা আপনারাই নিশ্চিত করবেন, সেটাই আমি চাই।’শেখ হাসিনা বলেন, তার একটা লক্ষ্যই ছিল টানা দুই মেয়াদে যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে পারে তবে উন্নয়নটা দৃশ্যমান হবে যেমনটি নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘তারপরেও সামনে যেহেতু নির্বাচন এবং নির্বাচনে সবাই যেমন ভোট চায়, আমরাও ভোট চাই। যাতে করে আমাদের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকে।’

২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে না পারার কারণে উন্নয়নের ধারাটি পিছিয়ে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের কর্মসূচিগুলো বন্ধ করে দেয়ার কথাও এ সময় স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

৩২শ’ মেগাওয়াট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করায় তার সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া গ্রাম-গঞ্জের মানুষ এখন যে পাচ্ছে, মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা যে বেড়েছে সেটা ধরে রাখতে হবে। কাজেই বাংলাদেশের জনগণ যদি মনে করে উন্নয়নের এ ধারা ধরে রাখতে হবে- আমি আশা করি হয়তো তারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাদের আবার সেবা করার সুযোগ দেবে।’

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।

এফবিইউটিএর সভাপতি অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শিবলী রুবায়তুল ইসলাম অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

দেশের শিক্ষা সম্প্রসারণে বর্তমান সরকারের উদ্যোগগুলো নিয়ে অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি প্রামাণ্য চিত্রও পরিবেশিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশকে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত দেশ হিসেবে এগিয়ে নিতে চাই। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি একটি শিক্ষিত জাতি ছাড়া কোনো দেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত হতে পারে না।

তার সরকার এজন্য শিক্ষাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা শিক্ষক, আপনারা মানুষ গড়ার কারিগর। আপনাদের কাছে জাতির অনেক প্রত্যাশা।’

‘অবশ্যই আপনারা এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, কাজেই আপনাদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ রয়েছে, জাতির পিতার সোনার বাংলাদেশ গড়ার কারিগর সোনার ছেলেমেয়েদের আপনারাই গড়ে তুলবেন।’

শেখ হাসিনা শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষকদের কল্যাণে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে পারলে তাদের বিভিন্ন দাবি পূরণের ইঙ্গিত দেন এবং তাদের দাবিগুলো লিখিত আকারে তার কাছে দেয়ারও পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারসহ দেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান স্মরণ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নেরও তাগিদ দেন।

তিনি এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেবর বেশি না বাড়িয়ে বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যাতে বিভিন্ন এলাকার ছেলেমেয়েরা ঘরে বসেই লেখাপড়া করতে পারে, সে পরিকল্পনা তার সরকারের রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত রাখায় তার সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে তার সরকারের গড়ে তোলা সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলন জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, সেটা করতে হলে শিক্ষক, অভিভাবক, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবাই মিলেই করতে হবে, সরকারের একার পক্ষে সম্ভব হবে না, পুরো সমাজকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

তার সরকারের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারায় নিয়ে আসার উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে ১৪-১৫ লাখ ছেলেমেয়ে মাদ্রাসা শিক্ষায় সম্পৃক্ত। তারাও যেন উচ্চশিক্ষা পায়, তারাও যেন ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি পার্থিব শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মতো মানুষ হয়ে নিজেদের কর্মোপযোগী করে গড়ে তুলতে পারে, সেটাও আমরা ব্যবস্থা করেছি।

আগামীর বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে এগিয়ে যাবে বলে এ সময় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, কোনোরকম সাম্প্রদায়িকতা যেন আমাদের গ্রাস করতে না পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে আমাদের ১৫১টা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। যেখানে ৪৮টা পাবলিক ও ১০৩টা প্রাইভেট। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, যত বড় বড় এলাকা আছে, যেসব জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই, সেসব জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় নেই সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। উদ্দেশ্য একটাই, যাতে আমাদের ছেলেমেয়েরা ঘরে বসে শিক্ষাটা পায়।

তার সরকার কারিগরি ও বিজ্ঞান শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা দিয়ে বসে নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য যা যা করণীয় তার সবকিছুই আমরা করে যাচ্ছি।’

জাতির পিতা শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা শিক্ষাকে অবৈতনিক ঘোষণা করেছিলেন। সংবিধানে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার মাধ্যমে জাতিকে উন্নত করতে চেয়েছিলেন।’

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারই প্রথম বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা শুরু করে, যার সুফলও দ্রুত লাভ করে।

তিনি বলেন, ‘লবণাক্ত ও খরা সহিষ্ণু, জলমগ্ন ধান আবিষ্কার করার ফলেই আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পেরেছি। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শাকসবজি উৎপাদন, মাছ উৎপাদন, ফলমূল উৎপাদনে উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাতারে ওপরের দিকে রয়েছি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আরও বেশি করে গবেষণার তাগিদ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া যাতে ঠেকে না থাকে সে কারণে প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষায়ও আমরা বৃত্তির ব্যবস্থা করেছি। সারা দেশে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছি। ১ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে প্রাথমিকে বৃত্তি দিচ্ছি। শিক্ষাবৃত্তির টাকা যাতে বেহাত হতে না পারে সেজন্য শিক্ষার্থীর মায়েদের মোবাইল নম্বরে টাকা পাঠানো হয়। পাহাড়ি ও হাওরাঞ্চলের শিশুদের জন্য টিফিনের ব্যবস্থাও আমরা করেছি।

‘নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের তথাকথিত দুর্নীতির অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে নিজ এবং দেশের ভাবমূর্তিকে রক্ষা, নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক এবং মোবাইল কোম্পানিকে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা দিয়ে প্রতিষ্ঠার সুযোগ দানের পরও কেবল এমডি পদ ধরে রাখার ব্যক্তিগত স্বার্থে পদ্মা সেতুর অর্থ প্রত্যাহারে লবিংয়ের ষড়যন্ত্রের সমালোচনা করেন।

এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত দেশের একটি স্বনামধন্য ইংরেজি দৈনিকের সম্পাদকের দেশের স্বার্থবিরোধী অবস্থান এবং নিজ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতদের মাধ্যমে চাপপ্রয়োগের বিভিন্ন ঘটনাও এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতুর কারণে আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের অনেক অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তবুও মাথানত করিনি। কারণ বাবার কাছে শিখেছি অন্যায়ের কাছে মাথানত না করতে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তো কখনও নিজের চিন্তা করতে শিখিনি। আমরা যা শিখেছি বাবার কাছ থেকে শিখেছি। যতটা সেক্রিফাইস করা যায়, কোনো মহৎ অর্জনের জন্য মহান ত্যাগের প্রয়োজন।’

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা ক্ষমতাটাকে ভোগের বস্তু মনে করে আর ব্যবসার সুযোগ মনে করে, তারা দেশের কোনো উন্নয়ন করতে পারে না। আর নিজের ভাগ্য গড়া যাদের মাথায় থাকে, তারা দেশকে কী দেবে?’

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছি। ২১০০ সাল পর্যন্ত ডেল্টা প্লান করে দিয়েছি। নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এ দেশ এগিয়ে যাবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter