তরুণ প্রজন্মের জন্য আমার বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি : প্রধানমন্ত্রী

প্রতি বিভাগে বিকেএসপির শাখা হবে * ৬৬টি মিনি স্টেডিয়াম উদ্বোধন

  বাসস ২২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তরুণ প্রজন্মের জন্য আমার বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

তরুণ প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য নিজের বর্তমানকে উৎসর্গ করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ তার সরকার গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, আমার বর্তমানকে তরুণ প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আমি উৎসর্গ করেছি, তারাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়বে। যতক্ষণ ক্ষমতায় আছি পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপই গ্রহণ করব। এদিকে, একই দিন বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নামকরণকৃত ৬৬টি মিনি স্টেডিয়াম উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা।

রোববার সকালে সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে মোবাইল ফোন নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলে ‘মোবাইল নাম্বার পোর্টেবিলিটি’ (এমএনপি) সেবার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যামসুন্দর সিকদার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমরা তো চলেই যাচ্ছি। যতটুকু কাজ আমরা এগুতে পারি সেটা আমরা উৎসর্গ করেছি তরুণ প্রজন্মের জন্য।

তিনি বলেন, তারা আমাদের ভবিষ্যৎকে গড়ে তুলবে, এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ চলার গতিটা যেন কখনও থেমে না যায়। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের এটাই বলব যে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া শিখতে হবে। আর প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও অভ্যস্ত হতে হবে। প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। যতদিন যায় প্রতিনিয়ত আধুনিক প্রযুক্তি বের হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যতদিন ক্ষমতায় আছি এ পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেয়া দরকার সেই পদক্ষেপগুলো আমরা নেব। সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে সরকারের উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, তার সরকার পাঁচ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার করে দিয়েছে। এতে সারা দেশে ইন্টারনেট সার্ভিসের আওতায় এসেছে। এখন সাবমেরিন ক্যাবলের তৃতীয় সংযোগ গ্রহণেরও চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের ব্রড ব্র্যান্ড সার্ভিস একেবারে উপজেলা ও গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। প্রতিটি গ্রামকে আমরা শহরে উন্নীত করছি। অথচ দেশের তথ্য পাচার হয়ে যাওয়ার কথা বলে বিএনপি সরকারের সময়ে বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ নষ্ট করা হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার ৪৪টি টেলিভিশনের লাইসেন্স দিয়েছে। তবে, এতগুলো টেলিভিশন লাইসেন্স দেয়ায় ভুক্তভোগী তারাই। কারণ এর মাধ্যমে বিভিন্ন সময় ঢালাওভাবে সরকারের সমালোচনা করা হয়। অবশ্য এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানও হচ্ছে বললেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা কোথায় ছিলাম, আর এখন কোথায় এসেছি। মাত্র ১০ বছরে এ পরিবর্তন হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে বলে। আর তরুণ প্রজন্ম ভোট দিয়েছে বলে। প্রযুক্তির উন্নয়নে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৮টি হাইটেক পার্ক করার পরিকল্পনা নিয়েছি আমরা। ইতিমধ্যে দুটি হয়েছে। ৩৫৫ একর জমির ওপর গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটি হচ্ছে। এখানে বিভিন্ন দেশ থেকে বিনিয়োগ আসবে। আমরা ডিজিটাল ডিভাইস রফতানি করতে পারব। তরুণদের কর্মসংস্থানের আর অভাব হবে না। ইউরোপ থেকে ৫-৬ ঘণ্টা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০-১২ ঘণ্টা সময় এগিয়ে থাকার ভৌগোলিক সুযোগ নিয়ে দেশের তরুণরা ঘরে বসে যাতে আউট সোর্সিয়ের মাধ্যমে রোজগার করতে পারে সরকার সে সুযোগ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা এ সময়ের ব্যবধানকে কাজে লাগিয়ে অর্থ রোজগার করতে পারছে। বাংলাদেশের তরুণরা লার্নিং অ্যান্ড আর্নিংয়ের মাধ্যমে সারা বিশ্বে কাজ করতে পারছে। একটি অ্যাপসে নয়টি ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আমাদের তরুণরা অন্ধকার থেকে আলোর পথে এসেছে। এ সময় তরুণদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা এবং প্রযুক্তির আপডেট জ্ঞান লাভ করার প্রতি তাগিদ দেন তিনি।

প্রতি বিভাগে বিকেএসপির শাখা হবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রতিটি বিভাগে বিকেএসপির শাখা হবে। তবে জায়গার অভাবে প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, খেলাধুলায় অনুপ্রাণিত করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গোল্ড ফুটবল টুর্নামেন্টসহ বিভিন্ন পর্যায়ের খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, খেলাধুলা যেন হারিয়ে না যায় তার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এক সময় সাতচাড়া, হাডুডুসহ নানা খেলাধুলা হতো। এসব খেলাধুলা যেন হারিয়ে না যায় সেটাও দেখতে হবে। লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলাধুলাকে গুরুত্ব দেয়ার জন্য, সারা বছর যাতে খেলাধুলা করা যায় সেজন্য মিনি স্টেডিয়ামের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে রোববার বেলা ১১টায় এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নামকরণকৃত ৬৬টি মিনি স্টেডিয়াম উদ্বোধন করেছেন শেখ হাসিনা। ৬৬টি মিনি স্টেডিয়াম উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। একই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) কমপ্লেক্সে একটি মাল্টিস্পোর্ট ইনডোর কমপ্লেক্স এবং ছয় জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় ৬৬টি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার অনুযায়ী এ প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১৩১টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি ২০১৫ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন লাভ করে। দেশের খেলাধুলার উত্তরোত্তর উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার প্রতিটি উপজেলায় ১২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter