ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

মইনুলের জামিন নাকচ

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। ফাইল ছবি

সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে কটূক্তির অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন নাকচ করেছেন আদালত।

সোমবার শুনানি শেষে ঢাকামহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ জামিন নাকচের এ আদেশ দেন। এদিন সানাউল্লাহ মিয়া, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী আদালতে মইনুলের পক্ষে জামিন শুনানি করেন। শুনানিতে তারা বলেন, সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে যা বলেছেন তার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন মইনুল হোসেন। কিন্তু এ মামলার বাদী সুমনা আক্তার লিলিকে তো তিনি কিছু বলেননি। তাহলে তিনি কিভাবে এ মামলা করলেন? মামলাটি জামিনযোগ্য ধারার অপরাধের। আসামির জামিন পাওয়ার আইনগত অধিকার রয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলি মো. আবদুল্লাহ আবু জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে বলেন, এ মামলাটির অপরাধ জামিনযোগ্য ধারার তা ঠিক আছে। তবে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন এ ধরনের বক্তব্য প্রদান করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫(ক) ও ২৯(২) ধারা অনুযায়ী অপরাধ করেছেন। আর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ৫৩(খ) ধারা অনুযায়ী মইনুল হোসেন ঘটনার সময়ে পরপর দু’বার ওই ধারার অধীনে একই রকমের অপরাধ সংঘটনের কারণে তার অপরাধ অজামিনযোগ্য। এ সময় সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, দেশে কতকিছু হয়ে যাচ্ছে তাতে কিছু হয় না। আর এখানে এমনকি হয়েছে? জবাবে আবদুল্লাহ আবু বলেন, প্লিজ, অযৌক্তিক বলবেন না। এরপর বাদীপক্ষের আইনজীবী সালহা হাই টুনি আদালতে বলেন, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন একজন শিক্ষিত ব্যক্তি। তার মতো একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ যদি নারী জাতিকে এভাবে ‘সম্মান’ দেন, তাহলে নারী সমাজ লজ্জায় মাটির সঙ্গে মিশে যায়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নাকচের আদেশ দেন।

২৪ অক্টোবর সাইবার ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপকমিটির সদস্য, শিক্ষানবিস আইনজীবী সুমনা আক্তার লিলি এ অভিযোগ দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস্সামছ জগলুল হোসেন বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগটি গুলশান থানা পুলিশকে এজাহার হিসেবে গণ্য করার আদেশ দেন। এরপর ১ নভেম্বর এ মামলায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।

রংপুর : রোববার মইনুল হোসেনের শুনানিকে কেন্দ্র করে রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় এদিন রাতে দুটি মামলা হয়েছে। রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এসআই জিয়াউর রহমান ও দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে মহানগর ছাত্রলীগের সদস্য আনিছুর রহমান আনিছ বাদী হয়ে দুটি মামলা করেছেন। এ ঘটনায় রাতেই বিএনপির ৫ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এসআই জিয়াউর রহমান জানান, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধাসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মামলায় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ আজ্ঞাত পরিচয় ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত ৫ জনকে আদালতে হাজির করলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে আদালত চত্বরে বিএনপি, জামায়াত ও বহিরাগতদের নৈরাজ্যের অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে আইনজীবী পরিষদ ও সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ। সোমবার দুপুরে আদালত চত্বরে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন রংপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক।

ঘটনাপ্রবাহ : মাসুদা ভাট্টি-মইনুল হোসেন বিতর্ক

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×