চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর

জনবল নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে দুই মন্ত্রীর ভিন্নমত

  মিজান চৌধুরী ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মোংলা বন্দর

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে জনবল নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে সরকারের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীর দুই মত। চতুর্থ শ্রেণীর ৩২টি ক্যাটাগরিতে ৫১০টি পদে স্থায়ী নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। এ ব্যাপারে তিনি অর্থমন্ত্রীকে একটি আধাসরকারি পত্রও (ডিও লেটার) দিয়েছেন। কিন্তু সরকারি স্কেলে স্থায়ীভাবে জনবল নিয়োগের বিপক্ষে মত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, নৌ মন্ত্রণালয়ের কথায় এভাবে ঢালাও স্থায়ী নিয়োগ দেয়া সমীচীন হবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে চতুর্থ শ্রেণীর ৩২টি ক্যাটাগরিতে ৫১০টি পদে লোকবল নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু কোন পদ্ধতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে এ নিয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন দুই মন্ত্রী। এ নিয়ে যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করে অর্থ বিভাগ একটি প্রতিবেদন দিয়েছে অর্থমন্ত্রীকে।

সূত্র জানায়, অর্থ বিভাগের সুপারিশে বলা হয়েছে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের চতুর্থ শ্রেণী এবং ফায়ার ফাইটার পদের মধ্যে পরবর্তী ধাপে পদোন্নতি দেয়া সম্ভব। সেখানে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি জাতীয় পে-স্কেল অনুসরণ করার সুপারিশ করা হয়। অর্থাৎ স্থায়ীভাবে নিয়োগ করার পক্ষে মত দেয়া হয়। আর পরবর্তী কোনো পদোন্নতির সুযোগ নেই সেসব পদে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের সুপারিশে ভারপ্রাপ্ত অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, মোংলা বন্দরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ ৯০টি পদ থাকলে বন্দর কর্তৃপক্ষ চাকরি বিধিমালায় তা উল্লেখ নেই। ফলে এসব পদে আউট সোর্সিংয়ের বিপরীতে সরাসরি স্থায়ী নিয়োগ দেয়া ঠিক হবে না। তবে সেখানে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কিছু পদ রয়েছে যেটি একে অপরের পরিপূরক। এসব পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা না হলে পদোন্নতির জন্য সংরক্ষিত শূন্যপদ পূরণ করা সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে সরাসরি নিয়োগ দেয়া যৌক্তিক হবে।

জনবল নিয়োগ পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রীর ভিন্ন অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ বিভাগ যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে, তা ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৯১ অনুযায়ী চতুর্থ শ্রেণীর ৩২টি ক্যাটাগরির মধ্যে সাতটিতে পদোন্নতি দেয়ার সুযোগ রয়েছে। পদগুলো হচ্ছে- নিরাপত্তা প্রহরী, নিরাপত্তা হাবিলদার, পাওয়ার হাউস এটেনডেন্ট, ব্যাটারি হেলপার, গ্রিজার, ওয়াচার ও লিডিং ফায়ারম্যান। এসব ক্যাটাগরিতে নিয়োগযোগ্য পদের সংখ্যা ১৮৬টি। ফলে ৫১০টি পদের মধ্যে উল্লেখিত ১৮৬টি পদে আউট সোর্সিংয়ের পরিবর্তে সরাসরি নিয়োগের ব্যাপারে সম্মতি দেয়া যেতে পারে। এছাড়া চাকরির প্রবিধানমালা অনুযায়ী চতুর্থ শ্রেণীর ক্যাটারি গ্রিজার (পাওয়ার হাউস), সাব-স্টেশন এটেনডেন্ট, খাদেম, টোপাস, সেলুন বয়, মাঝি, প্লেটার ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বাবুর্চি, সুপাইর, ওয়ার্ড বয়, ওয়্যারলেস হেলপার, ক্রেন হেলপার, ইলেকট্রিক হেলপার ও সাব-স্টেশন হেলপার পদের কর্মীদের ভবিষ্যতে পদোন্নতির কোনো সুযোগ নেই। পাশাপাশি বেয়ারার, মালী, ভাণ্ডারি, লস্কর, অফিস সহায়ক, আয়া, ট্রেসার, বাবুর্চি (কুক), হেলপার ও ট্রেসার (সিভিল) পদ থাকলে কম গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশেষ ধরনের কারিগরি। ফলে এসব পদে আউট সোর্সিংয়ের পরিবর্তে সরাসরি নিয়োগ যৌক্তিক হবে না। চতুর্থ শ্রেণীর ২৫টি ক্যাটাগরিতে ৩২৪টি পদ রয়েছে। ফলে এসব পদে আউট সোর্সিংয়ে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। অর্থ বিভাগের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চট্টগাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৯১ অনুযায়ী চর্তুথ শ্রেণীর ‘ফায়ার ফাইটার’ পদটি একই প্রবিধানমালার টিপি ড্রাইভার এবং ফায়ার লিডার হিসেবে দেখা গেছে। এ পদে সরকারি জাতীয় বেতন স্কেলে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম বন্দরের সর্দার, খালাসি নিরাপত্তা, কুক, নৈশপ্রহরী, ভাণ্ডারি, সার্ভে খালাসি ও টার্মিনাল প্রহরী পদে নিয়োগের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে সরাসরি নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ ৮২টি পদে নিয়োগের জন্য আউট সোর্সিং শর্ত প্রত্যাহার করা হয়। একই মন্ত্রণালয়ের অপর প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিসিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে একইভাবে অনাপত্তি প্রত্যাহার করা হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×