ইভিএম প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৭ সদস্যের কমিটি

  মিজান চৌধুরী ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইভিএম প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৭ সদস্যের কমিটি

পাঁচ বছর মেয়াদি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার। প্রতি তিন মাস অন্তর এ কমিটিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে।

পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা, সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের সুপারিশও করবে কমিটি। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন এ কমিটি গঠন করে। এ বছরের জুলাই থেকে শুরু হওয়া প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ইভিএম বাস্তবায়ন প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুনে শেষ হবে।

এ জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদাকে সভাপতি করে ১৭ সদস্যের কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব মোকলেছুর রহমান, এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম ও উপ-প্রধান সাইফুল আলম চৌধুরী।

এ ছাড়া সদস্য হিসেবে এনইসি একনেক ও সমন্বয় বিভাগ, আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশনের কার্যকর বিভাগ, আইএমইডি, অর্থ বিভাগ, বুয়েটের প্রতিনিধি ও ইভিএম প্রকল্পের পরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কমিটির সদস্য সচিব থাকবেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রধান।

কমিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে। পাশাপাশি কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য প্রতি তিন মাস অন্তর বৈঠক করবে কমিটি এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি নির্বাচন কমিশনকে জানাবে।

এ ছাড়া নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, পিএসসি কর্তৃক প্রকল্পের সার্বিক বাস্তবায়ন অবস্থা পরিবীক্ষণসহ প্রকল্পের বাস্তব ও আর্থিক অগ্রগতি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে কমিটি।

কমিটির এক সদস্য জানান, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ইভিএম মেশিনকে ধীরে ধীরে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ জন্য শুরুতে ব্যবহারকারীদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়া হবে।

সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে সম্ভাব্য ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪৪ হাজার। এ নির্বাচনের কিছু ভোট কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

এসব মেশিন কেনার লক্ষ্যে গত ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ইভিএম প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এর আওতায় ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ত্রুটিমুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করতে দেড় লাখ ইভিএম কেনা হবে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

৬টি খাতে ব্যয় হবে ইভিএম প্রকল্পের টাকা। এর মধ্যে সিংহভাগ ব্যয় হবে ইভিএম মেশিন ক্রয়ে। প্রতি ইউনিট ইভিএমের দাম প্রায় দুই লাখ টাকা। এ ছাড়া ভোটারদের মধ্যে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বাড়াতে এ প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করা হবে। এদিকে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চলতি অর্থবছরের এডিপির আওতায় ‘বিশেষ প্রয়োজন উন্নয়ন সহায়তা’ খাত থেকে জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার ৯৯৮ কোটি ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়েছে ইসি।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়কে দেয়া ইসির চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচন ব্যবস্থায় তথ্য-প্রযুক্তি প্রয়োগের লক্ষ্যে ইভিএম প্রকল্পের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এডিপির ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাত থেকে ১ হাজার ৯৯৮ কোটি ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়ার কথা ছিল।

কিন্তু এ খাতে মাত্র ৫৪৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা ছিল। ইতিমধ্যে ওই টাকা কতিপয় প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়ার কারণে ইভিএম প্রকল্পের চাহিদা অনুযায়ী টাকা সংকুলান করার সুযোগ নেই। তবে প্রকল্পটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় চলতি অর্থবছরের এডিপির ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে বর্তমান বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান যুগান্তরকে বলেন, ইভিএম প্রকল্পের জন্য নির্বাচন কমিশন বরাদ্দ চেয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে অবশ্যই সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×