এক ঘণ্টার জন্যও নির্বাচন পেছানো যাবে না : আ’লীগ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এইচটি ইমাম
আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম বলেছেন, এ পর্যন্ত তিনবার নির্বাচনের তারিখ পিছিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আমাদের পরিষ্কার দাবি হচ্ছে- নির্বাচন আর পেছানো যাবে না। একদিনের জন্যও নয়, এক ঘণ্টার জন্যও নয়।

নির্বাচন তিন সপ্তাহ পেছানোর জন্য নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দাবি উত্থাপনের পর বুধবার রাতে তিনি এ কথা বলেন।

এইচটি ইমাম বলেন, ‘যারা নির্বাচন পেছানোর দাবি করছেন, তাদের এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টা করছেন তারা।’

নির্বাচন না পেছানোর যুক্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, আমরা এখানে সরকারের পক্ষ থেকে আসিনি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এসেছি। জানুয়ারিতে নতুন করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে। তখন কয়েক লাখ নতুন ভোটার হবে। কিন্তু সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী, তারা ভোট দিতে পারবেন না। আর নতুন ভোটাররা মামলা করে দিলে নির্বাচন ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে। এই দায়িত্ব কে নেবে? এরপর নতুন বছরে ছাত্রদের নতুন বই দেয়ার দায়িত্ব রয়েছে। সেটিও বিলম্বিত হতে পারে। জানুয়ারিতে বিশ্ব ইজতেমা রয়েছে। একটি বিশাল আয়োজন। এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা, থাকার ব্যবস্থা করার বিষয় আছে। এ সময় নির্বাচন করা সম্ভব নয়।

স্বল্পসময়ে নির্বাচনে তফসিল ঘোষণায় বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আসতে অসুবিধা হবে- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্য তুলে এইচটি ইমাম বলেন, আমার হাসি পাচ্ছে- কোনো দেশ কি বিদেশিদের জন্য নির্বাচন পেছায়? আমরা একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র। নির্বাচনের সিদ্ধান্ত আমাদের নিজেদের। সেখানে কে পর্যবেক্ষণ করতে এলো আর কে এলো না, তা বিষয় নয়।

তিনি বলেন, বিদেশিরা নিশ্চয় পর্যবেক্ষণে আসবেন। ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তখন বিপুল সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক এসেছিলেন। তখন কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

ঐক্যফ্রন্টের উদ্দেশে তিনি বলেন, বুধবারও তারা নির্বাচন পেছানোর দাবি নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু নয়াপল্টনে যা ঘটেছে, তা সবাই দেখেছে। তারা একদিকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশের কথা বলবে, অন্যদিকে আগুন সন্ত্রাস সৃষ্টি করবে, সেটি হতে পারে না। তাদের কর্মকাণ্ডে ১৪ জন পুলিশ আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করা হয়েছে।

এইচটি ইমাম বলেন, বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নির্বাচন আচরণবিধি ১১, ১৭ ও ১৮ ভঙ্গ হয়েছে। বিধিমালায় এগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ন্যূনতম শাস্তি ৬ মাসের কারাদণ্ড। আমারা এই ঘটনাকে নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সারা দেশে একটি আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সবাই ভোট দেয়ার জন্য উদ্গ্রীব। এটিই হল লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। এই পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে সমস্যা সৃষ্টি হবে। তাই সবার জন্যই নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হওয়ার দাবি জানিয়েছি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণভবনে প্রার্থীরা দলীয় প্রধানের দোয়া নিতে গিয়েছিলেন। সেখানে কোনো নির্বাচনী প্রচার হয়নি।

এইচটি ইমামের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×