নির্বাচন ঘিরে ব্যস্ততা বাড়ছে ছাপাখানায়

কাগজ, রঙের মজুদ গড়ে তুলেছেন মালিকরা * প্রথম দফার কাজ শেষ, প্রতীক বরাদ্দ দিলে দ্বিতীয় দফা কাজ শুরু

  ইয়াসিন রহমান ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন ঘিরে ব্যস্ততা বাড়ছে ছাপাখানায়

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ছাপাখানাগুলোতে বাড়ছে ব্যস্ততা। নতুন বছরের ক্যালেন্ডার, ডাইরি, পাঠ্যপুস্তক, একুশের বইমেলা উপলক্ষে সৃজনশীল বই ছাপানোর কাজের চাপে এমনিতে ছাপাখানাগুলো ব্যস্ত থাকে।

এর মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসায় চাপ আরও বেড়েছে। নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যে একদফা পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন তৈরি করে সাঁটানো কিংবা টানানো হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সেগুলো অপসারণ করা হচ্ছে। প্রতীক বরাদ্দ হলে আবার ছাপা হবে নতুন পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার। এ নিয়ে ছাপাখানাগুলো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে ছাপাখানা মালিকরা কাগজ, কালিসহ বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ করে রেখেছেন। এ সুযোগে বাজারে এসব উপকরণের দামও বেড়ে গেছে। এদিকে প্রেসে মুদ্রিত পোস্টার, ব্যানারের পাশাপাশি এবার ডিজিটাল পোস্টার, ব্যানারও বেশ চলছে। এ কারণে প্রেস মালিকরা ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে এসেছেন। তারা এখন ডিজিটাল ও সাধারণ সব ধরনের কাজই করতে পারছেন। রাজধানীর নয়াবাজার, মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরাপুল, নীলক্ষেত, আজিমপুরের ছাপাখানাগুলোর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

তারা জানান, মনোনয়নের দৌড়ে টিকতে নেতাকর্মীরা আগে থেকেই নিজেদের প্রচারের জন্য এক দফা পোস্টার তৈরি করে প্রচার কার্যক্রম চালিয়েছেন। এখন নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী নেতাদের মনোনয়ন ফরম ক্রয়, জমা ও বাছাইয়ের কাজ চলছে। মানোন্নয়ন প্রক্রিয়া শেষ হলে নির্বাচন কমিশন প্রতীক বরাদ্দ করবে। এরপরই দ্বিতীয় দফা পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরির নতুন কাজ শুরু হবে।

জনসাধারণের কাছে নিজেকে বা নিজের প্রার্থীকে পরিচিত করে তুলতে দুই থেকে তিন মাস আগ থেকেই গ্রাম ও শহরের নেতারা নিজেদের নাম ও ছবি দিয়ে শুভেচ্ছা ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন তৈরি করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে লাগিয়েছেন ছবি সংবলিত স্টিকার। এছাড়া শুভেচ্ছা কার্ড তৈরি করে সেগুলো দিয়েও চলছে প্রচার।

পুরানা পল্টন এলাকার নুরজাহান প্লাজার রনি প্রডাক্টসের মালিক গোলাম সারওয়ার যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে পোস্টার তৈরির অর্ডার তত বেশি আসতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে অনেকে আগাম বুকিং দিয়ে রেখেছেন। দলীয় মনোনয়নপত্র নেয়ার আগে এক দফা পোস্টার বানিয়ে নিয়ে গেছেন নেতাকর্মীরা। তবে নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার পর ও নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর নেতাকর্মীরা নতুন করে পোস্টার অর্ডার করা শুরু করবেন। যেসব নেতা নিশ্চিতভাবে মনোনয়ন পাবেন বলে মনে করছেন, তারা আগেভাগে নির্বাচনী প্রচারের জন্য পোস্টার তৈরির অর্ডার করে গেছেন। সব মিলে নির্বাচন ঘিরে পোস্টার তৈরিতে ছাপাখানায় ব্যস্ততা বাড়তে শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা মূলত বছরের পুরোটা সময় ডায়েরি, ক্যালেন্ডার ও বই ছাপার কাজ করি। নির্বাচন বা কোনো দিবসে পোস্টার তৈরির কাজ বেশি আসে। কিন্তু এবার নির্বাচন ও ইংরেজি নববর্ষের কাজ একসঙ্গে পড়ার কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

পুরান ঢাকার নয়াবাজারের জিন্দাবাহার এলাকার রিপন প্রিন্টার্সের মালিক সাইফুল ইসলাম (নয়ন) যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে পোস্টার ছাপানোর বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ইতিমধ্যে পোস্টার তৈরির জন্য পর্যাপ্ত কাগজ, বিভিন্ন ধরনের রঙ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে রেখেছি। সবকিছু ঠিক থাকলে নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ হলেই পোস্টার ছাপানোর অর্ডার আসতে শুরু করবে।

রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় বাংলাদেশ প্রিন্টার্সের মালিক মোবারক হোসেন বলেন, ফকিরাপুল ও আরামবাগ এলাকার ছাপাখানা ব্যবসায় কয়েক বছর ধরেই মন্দা যাচ্ছে। গত বছর ঈদ ও বৈশাখ ঘিরে কোনো কাজের অর্ডার আসেনি। তবে এবার জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আমরা আশাবাদী। ইতিমধ্যে নেতাদের মনোনয়ন ফরম বাছাই করার আগেই কাজ পেয়েছিলাম। এগুলো শেষ হয়েছে। এবার নতুন করে কাজের অর্ডারের অপেক্ষায় আছি। মনে হচ্ছে এতদিন পর ছাপাখানাগুলোতে কাজের ধুম লেগেছে।

একই স্থানের আলিফ প্রিন্টার্সের মালিক রাজু বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে এক প্রকার রাজনৈতিক সংকট দেখা দেয়। অস্থির রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়ে প্রিন্টিং ব্যবসায়। এরপর রাজনৈতিক সংকট কাটলেও রাজনৈতিক কার্যক্রম অনেকটাই থমকে দাঁড়ায়। ফলে রাজনীতিকেন্দ্রিক পোস্টারের ব্যবসায় মন্দা দেখা দেয়।

তবে এ বছর জাতীয় নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করায় মনে হচ্ছে ছাপাখানা আবার সচল হবে। ইতিমধ্যে কাজের অর্ডার আসতে শুরু করেছে। এবারের নির্বাচনের বাজার ধরতে আমরাও প্রস্তুত আছি। মনে হচ্ছে সব মিলে ভালো ব্যবসা হবে। আরামবাগ এলাকার এম আর প্রিন্টার্সের মালিক ফারুক বলেন, নির্বাচন ঘিরে এখন পর্যন্ত ৬টি অর্ডার পেয়েছি। ঢাকার বাইরে থেকেও কাজ এসেছে। সব কাজ শেষ করে মাল গ্রাহককে বুঝিয়ে দিয়েছি।

এখন নতুন কাজের অপেক্ষায় আছি। সব মিলে এখন বেশ ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। ছাপাখানার কর্মীরা বলছেন, এক মাস ধরে কাজের চাপ বেড়েছে। যেখানে এক মাস আগে বিভিন্ন দোকানের ক্যাশমেমো, ভিজিটিং কার্ড বানানোর কাজ করতে হতো, এখন নির্বাচনের জন্য নেতাদের পোস্টার ও স্টিকার বানাতে হচ্ছে। আর নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে কাজ আরও বাড়বে। এতে করে আমরা বাড়তি কিছু টাকা আয় করতে পারব।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×