ফৌজদারি অপরাধ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়

মনিরুল ইসলাম

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘উগ্রবাদ-সহিংসতা প্রতিরোধে তরুণদের সম্পৃক্তকরণ’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে পুলিশের সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম
‘উগ্রবাদ-সহিংসতা প্রতিরোধে তরুণদের সম্পৃক্তকরণ’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে পুলিশের সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।- যুগান্তর

ফৌজদারি অপরাধ এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন না করলে কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। শুক্রবার সিরডাপ মিলনায়তনে এক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা জানান।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করছি। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। কেউ ফৌজদারি অপরাধে লিপ্ত না হলে এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন না হলে কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না। কথা দিচ্ছি, শুধু ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হলেই আমরা আইন প্রয়োগে বাধ্য হব।

বুধবার রাজধানীর পল্টনে পুলিশের গাড়ি পোড়ানোসহ নাশকতার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিরপরাধ কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না।

‘উগ্রবাদ-সহিংসতা প্রতিরোধে তরুণদের সম্পৃক্তকরণ’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে উল্লেখ করে মনিরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে আমাদের নানাবিধ প্রস্তুতি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে জঙ্গি সংগঠনগুলোর অপারেশনাল ক্যাপাসিটি অনেক কমে গেছে।

বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সহিংস ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী মিছিল-সমাবেশ করে মনোনয়ন ফরম উত্তোলন বা জমা দেয়ার সুযোগ নেই। যে কোনো অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার সক্ষমতা পুলিশের ছিল। বড়সড় সমাবেশ ডিসপ্যাচ (ছত্রভঙ্গ) করার আমাদের যে সক্ষমতা, বিশ্বজুড়ে তার সুনাম রয়েছে। সেদিন আমরা শক্তিপ্রয়োগ করতে চাইলে সেটা ‘মেটার অব মিনিট’র ব্যাপার ছিল। কিন্তু আমরা তা না করে তাদের অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা হেলমেটসহ লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। এত লাঠিতো আর মাটির নিচ থেকে আসেনি। পুলিশের দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। পুলিশের গাড়ির ওপর উঠে যে লাফালাফির দৃশ্য দেখা গেছে, এটি কোনোভাবেই আইনি কর্মকাণ্ড নয়। সেখানে অনেক মানুষ ছিল, কিন্তু যারা সুনির্দিষ্টভাবে হামলায় জড়িত ছিল ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। শুধু তাদের কেন্দ্র করেই তিনটি মামলা করা হয়েছে। বিনা কারণে কাউকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি।

নাগরিক সংলাপে বাংলা ট্রিবিউনের হেড অব নিউজ হারুন-উর রশীদ বলেন, জঙ্গিবাদ যতটা না প্রকাশ্যে ততটা মানুষের মগজে। জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে সামাজিক প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় বিষয়।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সহিংস উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশে বারবারই ব্যবহার করা হচ্ছে তরুণ সমাজকে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফারহানা বেগম, গীতিকার কবির বকুল, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলমগীর রহমান, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক আবু রইস, গবেষক ড. এসএম মোর্শেদ প্রমুখ।

এ ছাড়া সংলাপে সমাজের নানা শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন মাদ্রাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×