প্রস্তুত হচ্ছে ফেসবুকের বিকল্প অ্যাপ

নির্বাচনের আগে বাড়ছে নজরদারির আওতা ফেসবুকে গুজব ঠেকাতে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি

  তোহুর আহমদ ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রস্তুত হচ্ছে ফেসবুকের বিকল্প অ্যাপ
প্রস্তুত হচ্ছে ফেসবুকের বিকল্প অ্যাপ। ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যমান বাস্তবতায় সরকার জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে কেউ যাতে গুজব কিংবা মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দিয়ে কোনো অঘটন ঘটাতে না পারে, সে জন্য সম্ভব সব ধরনের প্রচেষ্টা হাতে নেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ফেসবুকের বিকল্প অ্যাপ বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। যার প্রস্তুতি পর্বও শেষ পর্যায়ে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে যা ওয়েব দুনিয়ায় আগামী বছর জানুয়ারিতে উন্মোচন করা হতে পারে। নির্ভরযোগ্য সূত্র যুগান্তরকে এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়কে জানিয়েছেন, তথ্য-প্রযুক্তির উৎকর্ষের এ যুগে কোনো যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি শতভাগ কার্যকর হয় না। তাছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত তরুণ প্রজন্মের কাছেও নেতিবাচক বার্তা দেবে। তাই ফেসবুক বন্ধ কিংবা এর বিকল্প কিছু বাজারে ছাড়ার আগে সরকার সবদিক ভালোভাবে ভেবেচিন্তে দেখবে। তবে ফেসবুক ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যে প্রচারণা চালানোর পথ প্রতিরোধে জিরো টলারেন্সের নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ফেসবুকের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টগুলোর গতিবিধি অনুসরণ করছে। এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে স্বরাষ্ট্র, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার অপরাধ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইউনিট, বিটিআরসি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফর্মেশন (এটুআই) প্রকল্প।

এদিকে প্রাথমিক পর্যায়ে ফেসবুকের ওপর কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত হলেও আগামী বছরের শুরুর দিকে চূড়ান্তভাবে দেশে ফেসবুক ব্যবহার বন্ধের মতো শক্ত পদক্ষেপ নেয়া যায় কিনা সেটিও ভাবা হচ্ছে। কেননা, ইতিমধ্যে ফেসবুকে গুজব ও মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দিয়ে কয়েকটি স্থানে আইনশৃঙ্খলার বড় ধরনের অবনতি ঘটানো হয়েছে। যেখানে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য সরকারের তরফে ফেসবুকের মতোই বিকল্প আরেকটি যোগাযোগ অ্যাপ বাজারে ছাড়ার কাজ চলছে। এ ধরনের অ্যাপের একটি পরীক্ষামূলক ভারসন ইতিমধ্যে ইন্টারনেটে ছাড়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে বুধবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) গেলে সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহরুল ইসলাম সরাসরি কোনো বক্তব্য দেননি। এ বিষয়ে তিনি তার কার্যালয়ের গণমাধ্যম শাখার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

পরে বিটিআরসির গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর তাই বিটিআরসি এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেবে না। তবে জাতীয় স্বার্থে ফেসবুকসহ যে কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হলে বিটিআরসি প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবে। তিনি আরও বলেন, এতদিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চাহিদার ভিত্তিতে অনানুষ্ঠানিকভাবে ফেসবুকের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বিটিআরসির পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে।

সূত্র বলছে, গুজব, অপপ্রচার ও ভুয়া নিউজ ঠেকাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়ে একাধিকবার তথ্য চাওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ফেসবুক কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টিকে ফেসবুকের ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের কৌশল বলে মনে করছে সরকার। এ কারণে এখন ব্যাপকভিত্তিতে ফেসবুক অ্যাকাউন্টের ওপর নজরদারি ও সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট বন্ধের মতো শক্ত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশে এখন ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। এর একটি বড় অংশই তরুণ এবং শিক্ষার্থী। তাছাড়া বেসরকারি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বাইরেও বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থারও ফেসবুক গ্র“প ও পেজ রয়েছে। ফলে তাড়াহুড়ো করে ফেসবুক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া ইতিবাচক হবে না। এ কারণে প্রথমে সন্দেহজনক ফেসবুক পেজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর চূড়ান্ত পর্যায়ে তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানোর ক্ষেত্রে ফেসবুক অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা পৃথক পৃথক অনুসন্ধান চালিয়ে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করে। যেগুলো মূলত সরকারবিরোধী বিভিন্ন অপপ্রচার চালানোর কাজে ব্যবহার হচ্ছে।

এ ছাড়া বেশকিছু ফেসবুক পেজে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন কর্মকর্তার নামে কুৎসা রটানো হচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের উপস্থিতিতে কয়েকটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সম্প্রতি সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী- এমন উদ্ভট তথ্য ফেসবুকে ছাড়া হয়েছে। এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ছাড়ার পেছনে নিকৃষ্ট রাজনীতির গন্ধ রয়েছে। তাছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের নামে দেশে-বিদেশে অঢেল সম্পদের কল্পনাপ্রসূত তথ্যের ঢালাও প্রচারে অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মনোবলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সূত্র বলছে, ভুয়া প্রচারণা ঠেকাতে ফেসবুকের নিউজ ফিডের ওপর ফিল্টারিং ব্যবস্থা আরোপ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারণ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেসবুককেন্দ্রিক ভুয়া নিউজের প্রবণতা বাড়ছে। তবে ফেসবুক একটি শক্তিশালী ও সহজ যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় এখই তা বন্ধ করা সমীচীন হবে না- এমন মতামতের পক্ষে জোরালো সমর্থন রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×