ব্যাংক পরিচালকদের অর্থমন্ত্রী

সরকারি ব্যাংকে উচ্চ খেলাপি বেসরকারিতে ফাঁকিবাজি

আগামী দিনে বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া প্রয়োজন

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ফাইল ছবি

সরকারি ব্যাংকে উচ্চ ঋণখেলাপি আর বেসরকারি ব্যাংকে ফাঁকিবাজি চলছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তিনি বলেন, বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালকরা নিজের ব্যাংক থেকে ঋণ নেন না, ঋণ নেন অন্য ব্যাংক থেকে। এটি বন্ধ করা কষ্টকর, তবুও বন্ধের চেষ্টা করতে হবে। আর সরকারি ব্যাংকে ঋণখেলাপি বানাতে যেন ব্যাংকাররাই চেষ্টা করেন। এটি খুব ভালো কথা নয়। আমার ধারণা, যখনই কোনো একটি প্রকল্প বা উদ্যোক্তাকে একটি ব্যাংক ঋণ দেবে বলে ঠিক করল, তখন তাকে ঋণের প্রথম কিস্তি হয়তো দিয়ে দেয়া হল। তারপর থেকেই ব্যাংকাররা চেষ্টা করেন যাতে সে (উদ্যোক্তা) ঋণখেলাপি হতে পারে। ব্যাংকাররাই এ অবস্থা তৈরি করেন। যাতে অতিসত্বর সে ঋণখেলাপি হয়ে যায়।

রোববার বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) মিলনায়তনে পাঁচ দিনব্যাপী রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক পরিচালকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান, পরিচালক ও এমডিরা উপস্থিত ছিলেন।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, খেলাপি ঋণ অনবরত রিশিডিউলিং বা পুনঃতফসিল হয়। জানি না কতবার রিশিডিউলিংয়ের সুযোগ আছে? মনে হয়, ব্যাংকাররা এটা নিয়মিত করতে থাকেন। ঋণ পুনঃতফসিলের একটু লাগাম টানা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে অবসায়ন (বন্ধ করে দেয়া) হল সব থেকে ভালো সমাধান। কিন্তু সেটা হয় না। কারণ আপনি চান সে আপনার বাধ্য থাকুক।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকারদের এটা একটা অস্ত্র। যেটা ব্যবহার করেন এবং করতে চান। এটা অত্যন্ত খারাপ লক্ষ্য।

ব্যাংকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমার একটা উপদেশ হচ্ছে- এ লক্ষ্য থেকে আপনারা বিরত থাকবেন। আল্লাহর ওয়াস্তে এ ব্যাপারে কিছু করেন। আপনাদের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন রয়েছে।

ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, একসময় ব্যাংকিং খাত সরকারি ছিল। কিন্তু এখন ব্যাংকিং খাত ব্যক্তিমালিকানায় অনেক প্রসারিত। বর্তমানে সিংহভাগ ব্যবসা ব্যক্তিমালিকানা খাতেই হয়ে থাকে। সবচেয়ে বড় ছিল সোনালী ব্যাংক। এখন আর সেটা নেই। ইসলামী ব্যাংকই সে স্থান দখল করেছে। তার মানে, ব্যাংকিং খাত ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে গত কয়েক বছরে।

তিনি বলেন, এ খাত নিয়ে অনেক সমালোচনা-আলোচনা বিদ্যমান। খাতটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং এটি দুর্বল খাত হিসেবে অনেকেই বিবেচনা করেন। আরেকটি কথা বলা হয়, আমাদের এখানে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। সরকারিসহ ৬৩টি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ সরকারি ব্যাংক।

খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাত নিয়ে সবচেয়ে বড় সমালোচনা হচ্ছে খেলাপি ঋণ। খেলাপি ক্ষেত্রে মোটামুটি দোষটা সরকারি ব্যাংকের। সেগুলোয়ই খেলাপি ঋণের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি।

বেসরকারি ব্যাংক সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাইভেট ব্যাংক সে রকম হয়নি। তবে প্রাইভেট খাতে আরেক রকম ফাঁকিবাজি রয়েছে। প্রাইভেট খাতের এক ব্যাংকের পরিচালক সমঝোতার মাধ্যমে অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেন। তিনি তার নিজের ব্যাংক থেকে ঋণ নেন না। এটা নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কষ্টকর। তবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। আমাদের উপায় বের করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটা হয়নি।

মুহিত বলেন, দেশে ব্যাংক অবসায়ন বা একীভূতকরণ একেবারেই ছিল না। এক্ষেত্রে একটি আইন হয়েছে। তবে আইনটি খুব উপযুক্ত নয়। তিনি বলেন, ব্যাংক একেবারেই বন্ধ না করে দিয়ে একীভূতকরণ করা যেতে পারে। এটা খুব ভালো হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার আমলে বিদেশে বিনিয়োগের তেমন সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু আগামী দিনে বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। অর্থনীতিটা এখন বেশ উন্নতি করেছে, তাই বিদেশে বিনিয়োগ দোষের কিছু হবে না। সব শেষে বলব, ব্যাংকিং খাত মোটেও দুর্বল নয়। নানা সমস্যা আছে। সেটা যে কোনো ব্যাংকিং খাতে থাকে। অন্যান্য রাষ্ট্রেও আছে।