সিলেটের ৩টি আসনে নতুন মুখে আলোড়ন

  আজমল খান, সিলেট ব্যুরো ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের ৩টি আসনে নতুন মুখে আলোড়ন
ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের তিন নতুন মুখ নিয়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তারা হলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব ইনাম আহমদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এএসএম কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীর ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস অর্ণব। তাদের মনোনয়নও প্রায় নিশ্চিত।

এর মধ্যে শাহ এসএম কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসন থেকে নির্বাচন করছেন। তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের সংগঠন গণফোরামের প্রার্থী। রেজা কিবরিয়াকে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা একে অন্যকে দোষারোপ করছেন। তিনিও সব সমালোচনা ও প্রশ্নের জবাব দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সরকারের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডসহ নানা নেতিবাচক দিক তুলে ধরছেন।

পিতার হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তিনি বলেন, বিচার তো হয়নি এমনকি সুষ্ঠু তদন্ত করতেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে। জোর করে মামলার বাদীকে তদন্ত প্রতিবেদন মানতে বাধ্য করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপি মাত্র দুই-আড়াই বছর সময় পেয়েছে। রেজা কিবরিয়ার প্রশ্ন, এ ব্যর্থতা বিএনপির ওপর কতটুকু পড়ে? বিধায় তাদের বেশি দোষারোপ করা যায় না।

কিন্তু আওয়ামী লীগ সাড়ে ৯ বছর সময় পাওয়ার পরও কি করেছে? এটা দেশের মানুষ দেখতে পেয়েছে। আমার বাবার হত্যাকাণ্ডের বিচার ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাহলে কিভাবে আমি আওয়ামী লীগের প্রতি অনুগত থাকব? হত্যাকারী যে দলেরই হোক তাদের সঙ্গে কোনো আপস নেই।

যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নীতির সঙ্গে আমার নীতির পার্থক্য রয়েছে। তারা দেশকে ভুল পথে নিয়ে গেছে। যেভাবে দেশ চালানোর কথা সেভাবে দেশ পরিচালিত হয়নি। তাই দেশের কল্যাণের কথা ভেবে রাজনীতিতে এসে ড. কামাল হোসেনের সংগঠনে যোগ দিয়েছি।

রেজা কিবরিয়ার বাবা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যেরবাজারে এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন। পরে এ আসনে মনোনয়ন পান দেওয়ান ফরিদ গাজী। তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়া এমপি নির্বাচিত হন। রেজা কিবরিয়া এ আসনেই নির্বাচন করবেন।

তিনি লন্ডনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে বিএ ও অর্থনীতির ওপর এমফিল। কানাডার কুইন ইউনিভার্সিটি থেকে এমএ ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর রোমানিয়া, পর্তুগাল, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ, পাপুয়া নিউগিনিসহ এডিবি ও বিশ্বব্যাংকে কাজ করেছেন। বর্তমানে জাতিসংঘ ও কম্বোডিয়া সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত আছেন।

সিলেট-১ (মহানগর-সদর) আসনে সাবেক সচিব ইনাম আহমদ চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আলোচনায় থাকলেও এর আগে সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। পরিছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি এলাকায় পরিচিত। হেভিওয়েট এ প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেয়ার নির্বাচনী মাঠে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এছাড়া এ আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবদুল মোক্তাদির, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. শাহারিয়ার হোসেন চৌধুরী ও জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ আরিফ আহমদ মোমতাজ।

সিলেট-২ আসনে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনা ও ছেলে ব্যরিস্টার ইলিয়াস আবরার অর্ণব ছাড়া আর কেউ দল থেকে মানোনয়ন জমা দেননি। তাদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। লন্ডনের সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যারিস্টারি শেষ করে ১৫ নভেম্বর দেশে ফেরেন অর্ণব।

খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনা যুগান্তরকে বলেন, আমি ও অর্ণব মনোনয়ন জমা দিয়েছি, ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণ ইলিয়াস আলী গুমের জবাব দেবে। দলের সাংগঠনিক অবস্থা বেশ ভালো দাবি করে তিনি বলেন, সরকারের আচরণে আমি শঙ্কিত। তবে লড়াই করতে হবে, শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব।

সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি, বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী প্রায় সাড়ে ৫ বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। ২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল রাতে ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন তিনি।

ঘটনাপ্রবাহ : আইসিসি বিশ্ব একাদশ

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×