নয়াপল্টনে সহিংসতা

আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে কঠোর নির্দেশ

নির্বাচনের আগে জোরালো অভিযানের সিদ্ধান্ত

  সৈয়দ আতিক ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে কঠোর নির্দেশ
ফাইল ছবি

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। বুধবারের ওই ঘটনায় করা তিনটি মামলায় আসামির সংখ্যা ৪৮৮ জন।

এর মধ্যে ২৮৮ জনের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যারা সরাসরি বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের ক্যাডার হিসেবে চিহ্নিত। ওই ঘটনার সঙ্গে তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তাদের গ্রেফতারের জন্য নাম-ঠিকানা, দলীয় পরিচয় ও সম্ভাব্য অবস্থানসহ বিশেষ বার্তা দেয়া হয়েছে দেশের কমপক্ষে ৭০টি থানায়। পাশাপাশি এসব আসামির রেকর্ড খতিয়ে দেখারও নির্দেশনা দেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অ্যাফেয়ার্স) মো. মনিরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, নয়াপল্টনের তাণ্ডবের ঘটনায় চিহ্নিত আসামিরা ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ আছে। সবাই তা দেখেছেন। সরকারি কাজে বাধা দেয়া হয়েছে।

পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় যারা জড়িত, তারা জাতীয় নির্বাচনের আগে আরও অপরাধে জড়াতে পারেন। তারা গ্রেফতার না হলে ঝুঁকি থেকে যাবে। এ কারণে তাদের গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছানো হয়েছে আসামিদের নিজ নিজ থানায়। মনিরুজ্জামান জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের তালিকা অনুযায়ী গ্রেফতারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম যুগান্তরকে বলেন, মামলার প্রত্যেক আসামিকে গ্রেফতারের নির্দেশনা রয়েছে।

বিশেষ করে যারা দলীয় পদ-পদবিধারী হয়েও নির্বাচনের আগে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন, সেসব ক্যাডার হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি ঝুঁকির কারণ হতে পারেন। যেহেতু সামনে নির্বাচন, তাই ক্যাডারদের আইনের আওতায় আনতে যথাযথ নির্দেশনা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ বলেন, পুলিশ সদর দফতরের বার্তা পেয়েছি। নয়াপল্টনের ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের গ্রেফতারের নির্দেশনা পাওয়া গেছে। তাদের তালিকা নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে মাঠপর্যায়ের পুলিশ।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৪৮৮ আসামির মধ্যে ৬৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ ২৭ জনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে। আর ৩৯ জনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে আছেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস (জামিনপ্রাপ্ত), তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস (জামিনপ্রাপ্ত), হানিফ পরিবহনের মালিক কফিল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জের এমপি পদপ্রার্থী মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান এবং ওয়ারী ডিভিশনের নবী উল্লাহ নবী।

এছাড়া আরও আছেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাসার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক বেলাল আহমেদ, মিডিয়া উইংয়ের সামসুদ্দিন দিদার, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, বিএনপি কেন্দ্রীয় নেত্রী নিপুণ রায়, কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম সরকারবিষয়ক সম্পাদক আনিছুজ্জামান খান বাবু, ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন প্রার্থী ডা. নিজাম উদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুবদল সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনু, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, দক্ষিণের ছাত্রদল সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, উত্তর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রবিন, ছাত্রদলের আরিফা সুলতানা রুমা, বিএনপির উপদেষ্টা সেলিম ভূঁইয়া, ছাত্রদলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের শফিকুল ইসলাম প্রিন্স, শাজাহানপুর ছাত্রদলের সভাপতি আল আমিন, সদস্য এইচকে হোসেন, ফাহিম আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ভূঁইয়া (শনাক্ত), সদস্য ইমন, জামায়াত কর্মী হেলাল মিয়া, বিএনপি কর্মী মহসিন, কলাবাগান থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আয়ান আহমেদ শান্ত, কিশোরগঞ্জের খালেদ সাইফুল্লাহ, সবুজবাগের যুবদল নেতা নিসকাত আহমেদ রাখি, সাবেক ছাত্রদল নেতা অহিদুর রহমান চয়ন, বিএনপি নেতা গোলাম হোসেন, যুবদল নেতা হারুন, ভিডিও বাবু, মুগদা থানা বিএনপির সামসুল হুদা কাজল, সাব্বির, নিয়াজ আহমেদ খোকন, সেলিম, মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, রবিউল আউয়াল প্রধান, যুবদলের আহমদ, আমজাদ সরদার, নুরুল ইসলাম, রানা, মতিউর রহমান মতি, আবদুর রহিম, মোক্তার হোসেন, খসরু চৌধুরী, বিএনপির রোকনুজ্জামান, মোহাম্মদ আলী চায়না, মাহমুদুর রহমান মিশন, ছাত্রদলের মামুন আল পান্না, স্বেচ্ছসেবক দলের ভুট্টো, শামীম, মুগদার শ্রমিক দলের মিজান, যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির জামাই ফকির, সদরুল আলম শেখর, যুবদলের সোহেল, কাওসার, হিরা, ইসহাক, ছাত্রদলের আত্ময়, হানিফ, মশিউর রহমান, রায়হান, এনামুল, রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের নেতা আবু হেনা রিপান, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া বিএনপির ছগীর মিয়া হাওলাদার, নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদল সভাপতি ফরিদ হোসেন বাবু, ছাত্রদলের নেতা জুয়েল, ঢাবির সাবেক ছাত্রদল নেতা আনোয়ারুল হক, ফাহিম হোসেন, উৎপল সরকার, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হানিফ উদ্দিন রানা, মহসিনুল হাসান মোহন, সাইফুল আলম গজনবী চয়ন, জেলা বিএনপি নেতা রকিব আল মান্নান, ময়মনসিংহের মশিউর রহমান (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা) স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা খালিদ সাইফুল্লা, ঢাবির সাবেক ছাত্রদল নেতা শেরপুরের সুফিয়ান ও কুড়িগ্রামের মাহবুব মিয়া, যাত্রাবাড়ী থানা জামায়াতের নেতা জাহিদুল ইসলাম মামুন, বরিশালের ছাত্রদল নেতা রুবেল বেপারী, ঢাকা মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের সহ-দফতর সম্পাদক নরসিংদীর জাহিদুজ্জামান শাওন ওরফে বনিভাই (শনাক্ত), পল্টন থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নরসিংদীর শাহজালাল খন্দকার (শনাক্ত) প্রমুখ।

ঢাকার ২৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেনের সহযোগী কলাবাগান থানা এলাকার লিপু, দারুসসালামের স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইকবাল হোসেন, চাঁদপুরের বিএনপি নেতা জিলানী তালুকদার, মো. সোহাগ, কিশোরগঞ্জের বিএনপি নেতা আবুল কালাম, ফেনীর ফুলগাজীর ছাত্রদল নেতা খন্দকার এনামুল এনাম, ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের গিয়াস উদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় কমিটির জয়দেব রায়, সিলেটের বিএনপি সদস্য গিয়াস উদ্দিন, যশোরের ছাত্রদলের তুহিন, লক্ষ্মীপুরের এমরান, সিলেটের বিএনপি নেতা বাহারুল আলম বাহার, জৈন্তাপুরের বিএনপি সদস্য হারুন অর রশীদ, ফেনীর সোনাগাজীর বিএনপি নেতা হোসেন আহমদ, কর্মী আলমগীর, নারায়ণগঞ্জের যুবদল কর্মী মোরশেদ, যশোরের বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, ছাত্রদলের বেনজীর, বরগুনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম, বিএনপি কর্মী ইমরান হোসেন, খুলনার যুবদলের আরিফুজ্জামান, ছাত্রদলের রবিউল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ বিএনপির খায়রুল কবির কাজল

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×