টেনশনে চট্টগ্রামের আ’লীগ বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

  শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম ব্যুরো ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নির্বাচন
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ছবি: সংগৃহীত

চরম টেনশনে প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ জোট-মহাজোটের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার পর্ব শেষে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার চলছে। কারা পাচ্ছেন মনোনয়ন- এ চিন্তায় ঘুম নেই বড় দু’দলের নেতাদের। শেষপর্যন্ত মনোনয়ন না পেলে জোটের সঙ্গে থাকবেন কিনা সে বিষয়টিও মাথায় নিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে আওয়ামী লীগের ২২৫ এবং বিএনপির ৮৩ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে তা জমা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা যেমন চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন তেমনি মহাজোটের অংশীদার জাতীয় পার্টি ছাড়াও এ পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টও ওই সব আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছে।

বিগত নির্বাচনে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ জোটের শরিকদের যে ৩টি আসন ছেড়ে দেয় সেগুলো হল- চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী), চট্টগ্রাম ৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) ও চট্টগ্রাম ৯ (কোতোয়ালি)। হাটহাজারী আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসনে জাসদের কার্যকরী সভাপতি মাঈনউদ্দিন খান বাদল এবং কোতোয়ালি আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি নির্বাচিত হন। এবারও ৩টি আসন তাদের ছেড়ে দেয়া হবে নাকি রদবদল হবে- তা নিয়ে বেশ জল্পনা-কল্পনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওই তিন আসনের মধ্যে দুটি আসন ‘যেমন-তেমন’ কিন্তু চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসন নিয়ে বেশ অসন্তোষ রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের। বিগত দুটি নির্বাচনে জাসদের মাঈনউদ্দিন খান বাদল জোটের টিকিটে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে এমপি হলেও নৌকার কর্মীরা এ আসনে সবচেয়ে বেশি অবজ্ঞা-অবহেলার শিকার হয়েছেন। এলাকায় তেমন উন্নয়নও হয়নি। তৃণমূল থেকে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা চান না এ আসনটি আবারও তাকে ছেড়ে দেয়া হোক। কারণ তিনি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাছাড়া তার দলও ভেঙে গেছে। পক্ষান্তরে এ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচন করবেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম. মোরশেদ খান। মোরশেদ খানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো শক্তি থাকলে তা আছে শুধু সাবেক এমপি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবদুল কাদের সুজন যুগান্তরকে বলেন, চান্দগাঁও-বোয়ালখালীতে আওয়ামী লীগের একজন নেতাকর্মীও পাওয়া যাবে না যিনি বাদলকে এ আসনে জোটের এমপি হিসেবে সমর্থন করবেন বা দেখতে চান। এ আসনে তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে তা হবে আওয়ামী লীগের নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার মতো। চট্টগ্রামে এবার বাঁশখালী আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছাড়ার সম্ভাবনা আছে। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী এ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর পাশপাশি দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ শিল্পপতি মুজিবুর রহমানও মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাই তাদের মধ্যেও টেনশনের সীমা নেই। শেষপর্যন্ত কার ভাগ্যে এ আসনের মনোনয়ন জোটে তাই দেখার বিষয়।

জাতীয় পার্টি নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের প্রধান শরিক বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এমএ মতিন চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া ও চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা আসনে প্রার্থী হতে চান। জোটের পক্ষ থেকেও তাকে এ দুটি আসনের যে কোনো একটিতে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। ইসলামী ফ্রন্ট নেতা মাছুমুর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, সত্যিকার অর্থে তারা টেনশনে রয়েছেন আসন ভাগাভাগি নিয়ে। পছন্দমতো এবং চাহিদামতো আসন না পেলে নিশ্চয় নেতারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বিএনপির সম্ভাব্য ৮৩ প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আজ থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে ঢাকার গুলশান কার্যালয়ে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকায় চট্টগ্রামে বিএনপির বেহাল অবস্থা। নির্বাচনে অংশ নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চান দলটির নেতারা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়ে এখনই সিরিয়াস নয় দলটির নেতাকর্মীরা। তারা চান আগে পার্লামেন্টে যেতে। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছেন তারা। বিএনপির কাছে চট্টগ্রামে অন্তত ৬টি আসন চায় শরিকরা। এর মধ্যে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) দুটি, মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১টি এবং জামায়াতে ইসলামী ৩টি আসন দাবি করছে। জামায়াতের নিবন্ধন না থাকলেও এ দলের প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীকেই নির্বাচন করবেন। কল্যাণ পার্টি হাটহাজারী আসন, এলডিপি চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া আসন এবং জামায়াতে ইসলামী নগরীর বন্দর-পতেঙ্গা, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া ও বাঁশখালী আসন দাবি করছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কার ভাগে ক’টি আসন জুটবে সেই টেনশনেই দিন কাটছে তাদের। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া আসন থেকে মনোনয়ন চাইছেন। সোমবার তিনি যুগান্তরকে জানান, তিনি মনোনয়ন বোর্ডের মুখোমুখি হতে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিগত ১০ বছর ধরে শত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি মাঠে ছিলেন। জেল-জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছেন। মনোনয়ন পাবেন কি পাবেন না- এ নিয়ে তার কোনো টেনশন না থাকলেও অনেকেই টেনশনে আছেন বলে জানান তিনি।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×