সংবাদ সম্মেলনে সুজনের আহ্বান

অসৎ-অযোগ্যদের মনোনয়ন নয়

  যুগান্তর রিপোর্ট ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সুজনের সংবাদ সম্মেলন
সুজনের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: যুগান্তর

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অসৎ-অযোগ্য, অপরাধপ্রবণ, কালো টাকার মালিক, উড়ে এসে জুড়ে বসা ও সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের মনোনয়ন না দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বেসরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি।

সংবাদ সম্মেলনে ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের পদ্ধতিই হচ্ছে নির্বাচন। এ পদ্ধতি বা বাছাইয়ের প্রক্রিয়া যদি সঠিক না হয়, তাহলে জনগণ তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি পান না। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দলের ভাবমূর্তি ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনী প্রতিযোগিতার মাঠে পাঠানো। এবার সেই প্রার্থী পাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়েছে। ১২ হাজারের অধিক প্রার্থী নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রার্থীর সংখ্যা যত বেশি হবে, ততই যোগ্য প্রার্থী পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে। আমরা নিশ্চিত, ১২ হাজারের মধ্য থেকে ৩০০ আসনে হাজারখানেক যোগ্য প্রার্থী পাব। তবে দলগুলোকেই এ বিষয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখতে হবে। তবে সৎ ও যোগ্য হলেই হবে না, দল ও প্রার্থীকে যে কোনো মূল্যে বিজয়ী হওয়ার মনোভাবও পরিত্যাগ করতে হবে। আমরা বিজয়ী হবই, এ ধরনের বক্তব্য না দিয়ে গণরায় মাথা পেতে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার আহ্বানও রাখেন তিনি। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল- এমন মন্তব্য করে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অতীতের রেকর্ড দেখলে প্রতীয়মান হবে যে দলীয় সরকারের অধীনে যখনই কোনো নির্বাচন হয়েছে, তাতে ক্ষমতাসীনরাই আবার বিজয়ী হয়েছেন। যেহেতু দলীয় সরকারের অধীনে এই জাতীয় নির্বাচনও হতে যাচ্ছে, তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হওয়া নিয়ে সংশয় তো আছেই, সবারই সংশয় আছে। তাই এই নির্বাচনটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। এ প্রসঙ্গে সুজন সম্পাদক আরও বলেন, যদি বিতর্কিত নির্বাচন হয়, তাহলে তরুণরা আশাহত হতে পারেন, বিপথগামী হতে পারেন এবং গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাহীন হয়ে যেতে পারেন। তাই সরকারের উচিত হবে আগামী জাতীয় নির্বাচন যাতে কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা। পাশাপাশি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনোভাবেই কোনো দলের পক্ষে প্রভাবিত করা থেকে বিরত থাকা। নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব আসনে সব দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই হবে নির্বাচন কমিশনের প্রথম কাজ। নির্বাচন কমিশন চাইলেই সেটা করতে পারে। কারণ তাদের (ইসি) হাতে অনেক ক্ষমতা। ভারতের কমিশনের চেয়েও বেশি। কিন্তু ক্ষমতা থাকলেই হবে না। তা প্রয়োগ করতে হবে। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে, কঠোরভাবে পালন করবে। তারা চাইলে আইনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এ প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। এ সময় সুজনের পক্ষে তিনি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে ১৬ দফা, সরকারের প্রতি ৩ দফা, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ৩ দফা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের কাছে ৪ দফা, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে ৩ দফা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ৭ দফা, গণমাধ্যমের কাছে ৪ দফা, প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রতি ৪ দফা, সচেতন নাগরিকদের প্রতি ২ দফা ও ভোটারদের প্রতি ৩ দফা আহ্বান রাখেন। এসব আহ্বান আমলে নেয়া হলে আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে। তবে এর জন্য নির্বাচন কমিশন, সরকার, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সমর্থক, ভোটার, নির্বাচনে নিয়োজিত ব্যক্তি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে যার যার অবস্থানে থেকে অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করতে হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×