মতিঝিল সরকারি বালক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হীরকজয়ন্তী উদযাপনে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের মিলনমেলা

  শিপন হাবীব ২৭ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

madam pic
মতিঝিল সরকারি বালক-বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের হীরকজয়ন্তী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান শুক্রবার বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলমসহ অতিথিরা -যুগান্তর

‘আরে বন্ধু তুই কেমন আছিস?’ ‘দোস্ত তুই কি আমায় ভুলে গেছিস, তোর খবর কী দোস্ত?’ ‘অনেক দিন পর দেখা বন্ধু! আয় আয় সেলফি তুলি’- দীর্ঘদিন পর পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর এভাবেই চলে কুশলবিনিময়। স্মৃতিচারণ করতে করতে অনেকে ফিরে যান শৈশবের সেই মধুর দিনগুলোয়। অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদেও ফেলেন। তারা সবাই মতিঝিল সরকারি বালক-বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী। শুক্রবার বিদ্যালয়ের হীরকজয়ন্তী উদযাপনে তাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। সকাল থেকে রাত অবধি উল্লাসে মেতে ওঠেন তারা।

অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিদ্যালয় মাঠটি হয়ে উঠেছিল একটি পরিবার, বন্ধুদের আড্ডাখানা আর প্রাণের মেলা। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের শেষদিন আজ। আজও সকাল ৯টা থেকে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাপনী অনুষ্ঠানটি চলবে রাত পর্যন্ত। প্রাণের এ মেলায় শৈশব-কৈশোরের রং ছড়াতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকি বিদেশ থেকেও সাবেকরা ছুটে এসেছেন। প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী অ্যাসোসিয়েশন এ পুনর্মিলনীর আয়োজন করে।

১৯৫৭ সালে মতিঝিল (কেন্দ্রীয়) সরকারি বালক-বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। নিজেদের শৈশবের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬০ বছর পূর্তি। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকেই স্কুল মাঠে ঢল নামে সাবেক ছাত্রছাত্রীর। সেই ঢলে কে নেই- মন্ত্রী, এমপি, সরকারি-বেসরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, অধ্যাপক, চিকিৎসক এককথায় সবাই ছিলেন। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ এসেছেন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে। ছোটবেলার স্কুলের ক্লাসরুম আর বারান্দায় চোখ বুলিয়ে এ সময় অনেকেই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। দিনভর চলে আড্ডা, ছবি তোলা, গানের তালেতালে নাচ আর হইহুল্লোড়।

মতিঝিল (কেন্দ্রীয়) সরকারি বালক-বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহসীন আহমেদের (ব্যাচ ১৯৬৫) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী যুগান্তরের প্রকাশক অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি সাইফুল আলম, লে. জেনারেল (অব.) মইনুল ইসলাম, সাবেক সচিব মেসবাহ উদ্দিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান। এ ছাড়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরও অনেকে বক্তব্য ও স্মৃতিচারণ করেন।

এদিকে সন্ধ্যায় স্কুল প্রাঙ্গণে আসেন প্রাক্তন ছাত্র বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তার সঙ্গে কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন ও মনির খান ছিলেন। পরে অতিথিদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাশেদ খান মেনন বলেন, মতিঝিল সরকারি বালক-বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলতে পারি, এ দুটি স্কুল থেকে যারা পাস করে গেছেন তারা কাজে লেগেছেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা প্রতিষ্ঠিত। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, সাংবাদিক, ব্যবসাসহ সর্বক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি বলেন, একটি শিক্ষিত জাতিই পারে একটি আদর্শ ও উন্নত দেশ গড়তে। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ দেশ-বিদেশে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। সরকারি-বেসরকারি উচ্চপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। সময়ের সিঁড়ি বেয়ে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গৌরবময় হীরকজয়ন্তী উদযাপন করছে। সেই সঙ্গে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে সুনাম অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, আমি গর্ববোধ করি মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হতে পেরে। আমরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনা করেছি। আমাদের শিক্ষকরাই আমাদের মানুষের মতো মানুষ হয়ে বড় হওয়ার মূলমন্ত্রটি শিখিয়েছেন। আমি আমার হৃদয়ের গভীর থেকে আমার শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানা”িচ্ছ। আল্লাহ যেন তাদের সব সময় ভালো রাখেন।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ১৯৬২ সালে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বের হল দেশের শেষ প্রবেশিকা পরীক্ষার ফলাফল। ওই বছর মাত্র ২০ জনের মেধাতালিকা দিয়েছিল বোর্ড। অবাক কাণ্ড হল, ওই তালিকায় প্রথম স্থানটি দখল করে নেয় আমাদের এ স্কুলটি। পেছনে ফেলে দেয় সেদিনের সব নামিদামি স্কুলগুলোকে। সেই দিনের স্কুল অঙ্গনে বিজয় উৎসব যারা দেখেছিলেন তাদের হয়তো আজও মনে আছে, গুরুগম্ভীর হেডমাস্টার স্যারও আনন্দে নেচেছেন, নৃত্য করেছেন। শিক্ষার্থীদের বুকে জড়িয়ে আশীর্বাদ করেছেন। তিনি বলেন, আমি আজও আমার সেই দিনের বন্ধুদের ভুলতে পারিনি, চোখের সামনে ভেসে আসে সবকিছু- বলতে বলতে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, আমি মতিঝিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে সব সময় গর্ববোধ করি। এ বিদ্যালয় আমার গর্বের জায়গা, প্রাণের জায়গা। জীবনে যদি কিছু করতে পারি, পেরেছি তাহলে ভিত্তিটা হচ্ছে এ স্কুল। স্কুলশিক্ষকদের আশীর্বাদেই করতে পারছি। যখন চোখের সামনে সবাইকে দেখছি, সত্যিই প্রাণটা ভরে উঠছে। এ যে কত আনন্দের, খুশির তা বলে বোঝানো যাবে না।

তিনি বলেন, জীবনে মেধাবী হওয়ার চেয়ে আদর্শ মানুষ হওয়া জরুরি। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিক্ষার্থী আদর্শ মানুষ হয়েছে। আমার এ স্কুল দেশের সেরা স্কুল। আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি সেটি দেশের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়, এ কারণে আমি গর্ববোধ করি।

স্কুলের মেধাবী ছাত্র ড. আবদুল মঈন খানকে সম্মান জানিয়ে সাইফুল আলম আরও বলেন, আমরা গর্ববোধ করি মঈন স্যার আমাদের স্কুলের ছাত্র। মতিঝিল সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হাইস্কুল আর ড. মঈন খানকে আলাদা করা যায় না। আমরা অনুপ্রাণিত হই উৎসাহিত হই মঈন স্যারকে দেখে। মঈন স্যারের পরের প্রজন্ম আমরা।

সভাপতির বক্তৃতায় মহসিন আহমেদ বলেন, এ স্কুলের স্মৃতি জীবনে কোনোদিন ভুলতে পারব না, ভোলা যায় না। আমরা যখন সবাই একত্রিত হই তখন মনে হয়, এই বুঝি আমরা আগের বয়সে, আগের জীবনে ফিরে গেলাম। অনুষ্ঠানে সবাই উপস্থিত হওয়ায়, তিনি সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।

অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম বলেন, আমাদের এ স্কুল প্রাণের জায়গা। ভালোবাসার স্থান। তৎকালীন দুই প্রদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সেই বৈষম্য দূরীকরণের হাতিয়ার হিসেবে সেইদিন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হাইস্কুল (বয়েজ অ্যান্ড গার্লস)।

আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণা শেষে বিকাল থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দেশের নামকরা কণ্ঠশিল্পীরা গান পরিবেশন করেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×