নির্বাচনে নিশ্চুপ ছাত্রলীগ

  রেজাউল করিম প্লাবন ২৪ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছাত্রলীগ

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যখন বড় চ্যালেঞ্চের মুখোমুখি ঠিক তখন দলটির ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ একেবারেই নিশ্চুপ। বিশাল সংখ্যক তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে কোনো কর্মসূচি নেই সংগঠনটির। ছাত্রলীগের এই নীরবতা নিয়ে অনেকের মধ্যে নানা প্রশ্ন। তবে এর সুদুত্তর নেই কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে।

অতীতের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ যাবৎকালে আওয়ামী লীগের যেক’টি নির্বাচনে সফলতা এসেছে তার মূলে ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলন ও বৈরী পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে-পরে বিএনপি-জামায়াতের সহিংস আন্দোলন প্রতিরোধে ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচন দোরগোড়ায় কড়া নাড়লেও এ নিয়ে যেন কোনো মাথাব্যথা নেই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটির।

ছাত্রলীগের সাবেক নেতা যারা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আছেন- এমন কয়েকজন যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন এলে ছাত্রলীগকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। কেন্দ্রীয় মনিটরিং টিম গঠন থেকে শুরু করে সেই দুর্গম গ্রামের ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয় নিয়মিত। সারা দেশে সংগঠনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার সঙ্গে সাধারণ ছাত্রসমাজকে সম্পৃক্ত করার কাজটিও করতে হয় ছাত্রলীগকে। তরুণ ও ছাত্র ভোটারদের প্রতিনিধির দায়িত্বও পড়ে সংগঠনটির ওপর।

প্রতিপক্ষের আন্দোলন সংগ্রাম প্রতিহতের কাজটিও প্রথমে এসে পড়ে এই সংগঠনের নেতাদের ঘাড়ে। অতীতে আমরা মূল দল আওয়ামী লীগের নির্দেশ মতো নির্বাচনকালীন সময়ে সারা দেশ সফর করেছি। এখনও করা দরকার। কিন্তু তারা এখনও শুরু করেনি। এটা ভালো লক্ষণ নয়। প্রতিপক্ষের ছাত্র সংগঠন বসে নেই। তবে ছাত্রলীগের এই নীরবতা কেন? সাবেকদের সঙ্গে বর্তমান কমিটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তারা অনেক কিছুতে পেরে উঠতে পারছেন না।

জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে জেলা উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। আমরা শিগিরই বসে করণীয় ঠিক করব।

ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির দু’জন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশ না পেলে রুটিন কাজও করতে চায় বর্তমান কমিটি।

তারা বলেন, কোটা আন্দোলন ও সারা দেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলন শুরুতেই নিষ্পত্তি করা যেত। কিন্তু কেন্দ্রের নির্দেশের প্রতীক্ষায় থাকায় সে আন্দোলন তত দিনে বৃহৎ আকার ধারণ করে।

তারা আরও বলেন, ছাত্রদল এরই মধ্যে সারা দেশে প্রতিরোধ আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে। এর পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সারা দেশে কোনো পাল্টা কর্মসূচি বা সজাগ দৃষ্টি রাখার মতো সিদ্ধান্ত বা এ নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি ছাত্রলীগে।

ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর অন্যান্য সংগঠনের মতো ছাত্রলীগেরও আনন্দ মিছিল করার কথা ছিল। কিন্তু তা না করে একটি কমিটির তালিকা নিয়ে সেদিন বিকালে গণভবনে দলীয় সভানেত্রী (শেখ হাসিনার) কাছে যান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা। ছাত্রলীগের নেতাদের এই বালখিল্য স্বভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে-পরে সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে ছাত্রলীগ। সে সময় বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচন ঠেকানোর নামে জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন প্রতিরোধে সারা দেশে কমিটি গড়ে তোলে সংগঠনটি।

এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় মনিটরিং টিমসহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যন্ত কমিটি করে ছাত্রলীগ। ওই সময় ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সিদ্দিকী নাজমুল আলম দায়িত্ব পালন করেন।

জানতে চাইলে বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, সে সময় আমাদের কঠিন দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। নেত্রীর নির্দেশ মোতাবেক আমরা সারা দেশে বিএনপির জ্বালা-পোড়াও আন্দোলন প্রতিরোধে কমিটি করে তা প্রতিহত করেছি। আন্দোলনে আমরা সাধারণ ছাত্র সমাজকে পাশে পেয়েছি। নির্বাচনী প্রচারণায়ও তখন ছাত্রলীগ ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে।

২০১৪ সালের নির্বাচনকালীন সময়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের সময় অনেকেই নিশ্চুপ ছিল। সেই ক্রান্তিকালে ছাত্রলীগ রাজপথে থেকে প্রতিরোধ করেছে। পাড়া-মহল্লায় টহল দিয়েছে। পেট্রলবোমা হামলা ঠেকাতে তৃণমূলে ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, আমরা সে সময় ছাত্রলীগকে একটি নির্দেশা দিয়েছিলাম যে, ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে, কিন্তু সভানেত্রী (শেখ হাসিনা) যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষেই ছাত্রলীগকে কাজ করতে হবে। অতীতের মতো এবারের নির্বাচনেও ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে আমার প্রত্যাশা।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিশাল জয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। বিরোধী দল থেকে সেই নির্বাচন ছিল দলটির জন্য অগ্নিপরীক্ষা। তখন আওয়ামী লীগের ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করেছে ছাত্রলীগ। সে সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কারামুক্তির দাবিতে সারা দেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে সংগঠনটি। আর নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে ছাত্রলীগ।

২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে মাহমুদ হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন।

জানতে চাইলে মাহমুদ হাসান রিপন যুগান্তরকে বলেন, সময়টা ছিল আমাদের জন্য অত্যন্ত বৈরী। একদিকে যেনতেন একটি নির্বাচনের পাঁয়তারা হচ্ছে। অন্যদিকে আমাদের নেত্রী (শেখ হাসিনা) কারাবন্দি। সে সময় অধিকাংশ সংগঠন নিশ্চুপ। অনেকেই দেশের বাইরে। আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বসে নেত্রীর কারামুক্তি আন্দোলন কমিটি গঠন করি। সারা দেশে এই কমিটি কাজ করে। সভানেত্রীর কারামুক্তিতে ছাত্রলীগের তীব্র আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই সফলতা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। কেন্দ্র থেকে পাড়ায়-পাড়ায় কমিটি গঠন করে দলীয় প্রার্থীর জন্য ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করে। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে সে নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করি।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×