রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে অব্যাহত সহযোগিতা কামনা

ঢাকা জাকার্তা বৈঠক আজ

  কূটনৈতিক রিপোর্টার ২৮ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মর্যাদাসহ মিয়ানমারে নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে ইন্দোনেশিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। শনিবার সন্ধ্যায়

বঙ্গভবনে নৈশভোজের প্রাক্কালে ইন্দোনেশিয়ার সফররত প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর প্রতি এই আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি হামিদ। এর আগে বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটে

বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উইদোদো অবতরণ করলে তাকে অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপতি হামিদ ও তার স্ত্রী রাশিদা খানম।

উইদোদোর সফরসঙ্গী হিসেবে হয়েছেন ফার্স্টলেডি ইরিয়ানা জোকো উইদোদো। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো দু’দিনের সফরে বাংলাদেশে এলে তাকে

ফুলেল শুভেচ্ছা আর তোপধ্বনির উষ্ণতায় অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমান থেকে নেমে আসার সময় ২১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়। দুটি

শিশু ফুল দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্টলেডিকে বরণ করে নেয়। বিমানবন্দরে উইদোদোকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে নিয়ে

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মঞ্চে আসার পর দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল উইদোদোকে গার্ড অব অনার দেয়। এরপর

তিনি গার্ড পরিদর্শন করেন। গার্ড পরিদর্শন শেষে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে তিনি পরিচিত হন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু,

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব

মোহাম্মদ শফিউল আলম, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, ঢাকায় ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত আর্চবিশপ জর্জ কোচেরি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের

সচিব সুরাইয়া বেগম, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের সফরকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরের টার্মিনালের ওপর এবং সামনে দুই দেশের পতাকা টাঙানো হয়। ভিভিআইপি টার্মিনালের দুই পাশে

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট উইদোদোর দুটি বড় ছবি স্থাপন করা হয়। প্রেসিডেন্ট উইদোদো কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন। এ সময় রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে তাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর চালানো ভয়াবহ নির্যাতনের কথা

শুনবেন। লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও জরুরি সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশ যে ভূমিকা রেখেছে, তার প্রতি সংহতি জানিয়ে সেপ্টেম্বরে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো

মারসুদিকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছিলেন উইদোদো। কক্সবাজার রওনা হওয়ার আগে রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রেসিডেন্ট উইদোদো। উইদোদোর এবারের বাংলাদেশ সফরের সময় দেশটি থেকে এলএনজি আমদানির একটি চুক্তি হতে পারে বলে সম্প্রতি জাকার্তায় দেশটির জ্বালানি ও খনিজসম্পদ

প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের ইঙ্গিত দিয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার পরিসংখ্যান দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে দুই দেশের মধ্যে ১.৩৩ বিলিয়ন

ডলারের বাণিজ্য হয়েছে। সেখানে ইন্দোনেশিয়ার রফতানির পরিমাণ ছিল ১.১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। বাসস জানায়, ইন্দোনেশিয়ার সফররত প্রেসিডেন্ট উইদোদোকে আবদুল হামিদ রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে ইন্দোনেশিয়ার সমর্থন অব্যাহত রাখার অনুরোধ

করেন। বঙ্গভবনের একজন মুখপাত্র রাষ্ট্রপতির বরাত দিয়ে এ কথা জানান। নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান

বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এবং পদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত

ছিলেন। বাংলাদেশ প্রায় ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ আরও বলেন, বহু চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শুধু মানবিক দিক বিবেচনা করে

তাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘে ভূমিকা পালনসহ ইন্দোনেশিয়ার মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে আবদুল হামিদ বলেন, ১৯৭১ সালে

মুক্তিযুদ্ধে ইন্দোনেশীয় জনগণের সমর্থন এবং ১৯৭২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার কথা স্মরণ করেন। দু’দেশের মধ্যে খুবই চমৎকার সম্পর্ক

রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে অভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মূল্যবোধের অংশীদার।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট উইদোদো বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মর্যাদাসহ রাখাইনে নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে

ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর

আগে প্রেসিডেন্ট উইদোদো ও ফার্স্টলেডি ইরিনা উইদোদো বঙ্গভবনে পৌঁছলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও তার পত্নী রাশিদা খানম তাদের স্বাগত জানান।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×