দোহার-নবাবগঞ্জের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে তৎপর একটি মহল

  যুগান্তর রিপোর্ট, নবাবগঞ্জ ২৮ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা জেলার কৃষি ও প্রবাসী অধ্যুষিত দোহার ও নবাবগঞ্জ অঞ্চলের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল তৎপর হয়ে উঠেছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে কতিপয় জনবিছিন্ন ও বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে পরাজিত রাজনৈতিক নেতাকর্মী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের আমলে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের প্রচেষ্টায় দোহার-নবাবগঞ্জের সার্বিক উন্নয়ন কাজ এগিয়ে চলেছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন কাজ ইতিমধ্যে শেষ হওয়ার পথে। এর মধ্যে রয়েছে দোহারের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি নয়াবাড়ি থেকে বাহ্রাঘাট পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার পদ্মার ভাঙনরোধে ২১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ। দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ সরকারিকরণ, কালীগঙ্গা নদীতে পাড়াগ্রাম সেতু, বন্যা আশ্রয়ণ কেন্দ্র নির্মাণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন তৈরি। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে প্রায় শতকোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি একনেকের সভায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে আরও ১১৫ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ হয়েছে যার অনেকগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে।

এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সালমা ইসলাম এমপি জয়কৃষ্ণপুরে কাশিয়াখালী বেড়িবাঁধে স্লুইসগেট নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে তাগিদ দেন। এ বিষয়ে পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মইনউদ্দিন বলেন, সংসদ সদস্য সালমা ইসলামের ডিও লেটারের ভিত্তিতেই আমরা ডিজাইন করেছি। মন্ত্রণালয় থেকে পাস হলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া বর্তমান সরকারের সময়ে সালমা ইসলাম এমপির একান্ত প্রচেষ্টায় নবাবগঞ্জ ও দোহারে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নসহ নতুন নতুন সড়ক তৈরি হয়েছে। সংস্কার হয়েছে বেশকিছু সড়ক। নদীতে তৈরি হয়েছে সেতু। সালমা ইসলাম এমপির এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সহ্য করতে পারছে না কিছু নামধারী রাজনীতিবিদ, যাদের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপির উন্নয়ন কাজের কৃতিত্ব ছিনিয়ে নিতে একটি মহল উঠেপড়ে লেগেছে। ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। যারা কখনোই দোহার-নবাবগঞ্জের উন্নয়নকে ভালো চোখে দেখে না। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির মূল হোতা হিসেবে সারা দেশে পরিচিত ক্ষমতাসীন দলের ব্যানারে দোহারের এক ব্যবসায়ী নেতা এ অঞ্চলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি তিনি দোহারে পদ্মার ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণে অসহযোগিতা, জয়পাড়া কলেজ জাতীয়করণে বাধা দেয়াসহ নবাবগঞ্জের চুড়াইনে কারিগরি প্রশিক্ষণ কলেজ নির্মাণেও বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নবাবগঞ্জের পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা কাশিয়াখালী বাঁধে স্লুইসগেট নির্মাণেও ওই ব্যবসায়ী নেতা নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। উন্নয়ন কাজের কথা বলে দোহার নবাবগঞ্জের মানুষকে তিনি বিভ্রান্তির পথে নিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এলাকায় তার উন্নয়নমূলক কোনো কর্মকাণ্ডের চিহ্ন মানুষ দেখেনি।

সচেতন রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে যাচ্ছেন, তখন তার দলের দোহাই দিয়ে একটি মহল এলাকাবাসীকে উন্নয়নবিমুখ করার পাঁয়তারায় লিপ্ত। মানুষকে বোকা বানানোর দিন শেষ। মানুষ এখন কাজে বিশ্বাসী, কথায় নয়। এটা বিনা মূল্যে খেলার টিকিট নয় যে সহজেই স্টেডিয়াম ভরে যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোহারের এক যুবলীগ নেতা বলেন, অন্যের চাষ করা জমিতে ফসল ফলাতে অনেকেই আসবেন, যারা এলাকার উন্নয়ন চায় না। নিজ এলাকার জয়পাড়া কলেজকে সরকারিকরণ করতেও বাধা সৃষ্টি করে তারা কি করে জনপ্রতিনিধি হবে? বড় বড় গাড়িবহর আর হেলিকপ্টারে করে সভা-অনুষ্ঠানে এলেই তো আর সাধারণ জনগণ তাকে ভোট দেবে না।

এলাকাবাসীর বক্তব্য, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক না গড়ে উপর মহলের দোহাই দিয়ে এভাবে প্রতিনিয়ত বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে ওই ব্যবসায়ী ও তার মদদপুষ্ট একটি চক্র কাজ করছে। যারা উন্নয়নকে দাবিয়ে রাখতে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন বলে জানা গেছে।

অবহেলিত এ অঞ্চলকে বারবার পিছিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কতিপয় সুযোগসন্ধানী রাজনৈতিক ব্যক্তির আনাগোনা এখন দোহার ও নবাবগঞ্জে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সচেতন মহলের ধারণা। সুযোগ বুঝে এসব নেতা বিভিন্ন সভা ও সমাবেশে উপস্থিত হয়ে নিজেদের জনদরদি হিসেবে প্রকাশ করার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের বাহাবা নিতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নবাবগঞ্জের এক বাসিন্দা যুগান্তরকে বলেন, এসব সুযোগসন্ধানীদের কাছ থেকে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।

নির্বাচন এলেই এরা প্রার্থী হওয়ার জন্য তৎপর হয়। ভোট চলে গেলে এদের আর দেখা মেলে না গ্রামগঞ্জে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সময়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর স্বজন পরিচয়ে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী এ অঞ্চলে বিভিন্ন অপকর্ম করেছে। সংখ্যালঘুদের জমিজমা ও বসতবাড়ি দখলের মতো ঘটনা আমরা আর দেখতে চাই না। আবার শেয়ারবাজারের শত শত কোটি টাকা লুটপাট করে স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকেও বিব্রত অবস্থায় ফেলেছিল এক ব্যবসায়ী নেতা। এখন তিনি জননেতা সেজে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান বলে শোনা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×