রাজবাড়ীতে রেলের তৃতীয় মেরামত কারখানা

প্রস্তুতিতেই ৪৭ কোটি টাকার প্রকল্প

পরামর্শকের বেতন নির্ধারণ নিয়েও প্রশ্ন

  হামিদ-উজ-জামান ২৮ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজবাড়ীতে তৈরি হবে রেলওয়ের তৃতীয় মেরামত কারখানা। এজন্য সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা প্রণয়ন ও দরপত্র তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রস্তুতিমূলক এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নেই ৪৭ কোটি ৩১ লাখ টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া পরার্শকের বিশাল অংকের বেতন নির্ধারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর আগামীকাল সোমবার প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন শনিবার যুগান্তরকে বলেন, প্রস্তুতিতেই এত টাকা ব্যয় ধরাকে বেশি বা কম বলব নাÑ শুধু এটুকু বলব, এ রকমই ব্যয় হবে। তা ছাড়া বিদেশি পরামর্শকের বেতন ১৫ লাখ টাকা খুব বেশি কিছু না। আমরা দরপত্রের মাধ্যমে পরামর্শক নিয়োগ দেব।

জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের অপর দুটি মেরামত কারখানা রয়েছে সৈয়দপুর ও চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে। নতুন এ কারখানাটি স্থাপিত হলে বগি মেরামতের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বিশেষ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি রেল পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পিইসি সভার জন্য তৈরি করা কার্যপত্র সূত্রে জানা গেছে, রোলিং স্টক (রেল কোচ) মেরামত কারখানা নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা এবং স্থান হিসেবে রাজবাড়ী নির্বাচনের যৌক্তিকতা সভায় জানতে চাইবে পরিকল্পনা কমিশন। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরামর্শক খাতে টিম লিডারের মাসিক মূল বেতন ১৯ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং অন্য পরামর্শকের বেতন ১৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরামর্শকের এ বেতন নির্ধারণের ভিত্তি সম্পর্কে ব্যাখা চাওয়া হবে। সেই সঙ্গে ১২ জন আন্তর্জাতিক পরামর্শকের ১৪০ জনমাস এবং দেশীয় ১৫ জন পরামর্শকের ১৬৫ জনমাস পরামর্শকের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হবে। এ ছাড়া পরামর্শকদের জন্য গাড়ি ভাড়া বাবদ ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা, পরামর্শকের অফিসের জন্য ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকার আসবাবপত্র, ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে কম্পিউটার ও ফটোকপিয়ারসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি কেনার প্রস্তাব বিষয়ে আলোচনার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, প্রস্তুতিমূলক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পাশাপাশি কারখানা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ব্যয় সাশ্রয়ী নকশা প্রণয়ন করা হবে। এছাড়া বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বিবেচনায় জিগ, প্লান্টস ও মেশিনারিজের স্পেসিফিকেশন তৈরি করা হবে। সেই সঙ্গে কারখানা তৈরির জন্য বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতের কাজ করা হবে। প্রকল্পটির প্রক্রিয়াকরণ শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল অনুমোদন দিলে চলতি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের প্রস্তাবনায় রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার মাধ্যমে রেলওয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে রোলিং স্টকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে রোলিং স্টকগুলোর হোল্ডিংও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের ব্রডগেজ ও মিটার গেজ রোলিং স্টকগুলো সৈয়দপুর ক্যারেজ ও ওয়াগন কারখানায় মেরামত করা হয়। এ কারখানাটি ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত। কারখানাটিতে বার্ষিক মেরামত সক্ষমতা ৫৭০টি বগি এবং ৪৩০টি ওয়াগন। কিন্তু রোলিং স্টকের সংখ্যা সৈয়দপুর কারখানায় মেরামত সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া কারখানার অধিকাংশ যন্ত্রপাতি ও প্লান্টস অনেক পুরনো ও জরাজীর্ণ। ফলে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সৈয়দপুর কারখানা যথেষ্ট নয়। এজন্য রেলওয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি ও পরিচালন ব্যয় কমানোর জন্য রোলিং স্টকগুলো মেরামতের ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। এ অবস্থায় নতুন একটি রোলিং স্টক মেরামত কারখানা নির্মাণ করা হলে তা ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা যাবে না। এ পরিপ্রেক্ষিতে রাজবাড়ীতে একটি বগি মেরামত কারখানা নির্মাণের জন্য প্রাথমিক কার্যাবলী সম্পন্ন করতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে ‘সম্ভাব্যতা যাচাইসহ রাজবাড়ীতে একটি আধুনিক রেলওয়ে ওয়ার্কশপ নির্মাণ’ নামের একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) ২০১৬ সালের ৩ মার্চ বৈদেশিক অর্থায়ন প্রাপ্তির জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। এ প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়নের অগ্রগতি কী তা জানায়নি রেলপথ মন্ত্রণালয়। তাই পিইসি সভায় এ বিষয়টি আলোচনায় আনা হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×