সংবাদ সম্মেলনে সুজন

ইশতেহারে সংস্কার গণতন্ত্র ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দিন

সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচি নেয়ার পরামর্শ * আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মানুষের দূরত্ব বাড়ছে-রেজওয়ানা হাসান * ইশতেহারের সঙ্গে আগেরটাও গেঁথে দিতে হবে-আবুল মকসুদ

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইশতেহারে সংস্কার গণতন্ত্র ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দিন

দলের ভেতর সংস্কার, ভোটাধিকার নিশ্চিত, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেখতে চায় সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন।

ইশতেহারে একাদশ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী এমপিদের কার্যক্ষমতা সীমিতকরণ, আইন, বিচার ও শাসন বিভাগকে কার্যকর করতে জনবান্ধব পদক্ষেপসহ ৯টি মৌলিক সুপারিশ অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করেছে সুজন।

বেসরকারি এই সংগঠনটি বলছে, প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না, ক্ষমতায় এসে কীভাবে কোন প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়ন করা হবে তা উল্লেখ করে ১০০ দিনের কর্মসূচি নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘নির্বাচনী ইশতেহার : নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ অবস্থানের কথা জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজুদ্দিন খান। বক্তব্য রাখেন সুজনের নির্বাহী সদস্য কলামিস্ট ও সৈয়দ আবুল মকসুদ ও পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান। সঞ্চালনা করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

নাগরিক প্রত্যাশার কথা জানিয়ে সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, তাদের ইশতেহারে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় আদর্শের সঙ্গে দলের আদর্শ সঙ্গতিপূর্ণ রাখার ঘোষণা থাকতে হবে। এজন্য দলগুলোকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হয়ে রাজনীতি করতে হবে। তারা সরকার ও দেশ পরিচালনায় জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে ভোটাধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার থাকতে হবে। বর্তমানে জনগণ তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন না। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা বদল হলে জনপ্রত্যাশা পূরণ হয়। আর যারা বিজয়ী হবেন, তারাও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে চাইবেন। এজন্য সবার আগে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার থাকতে হবে নির্বাচনী ইশতেহারে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা হলে দেশের দুর্নীতি, সন্ত্রাস বন্ধ হয়ে যাবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে এবং সর্বত্র একটা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা তৈরি হবে। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দলগুলোর মনোনিবেশ জরুরি। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে এবং তার জন্য বাজেটে এডিপির বরাদ্দের ৫০ ভাগ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যয়ের ঘোষণা দিতে হবে।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই করতে দলগুলোকে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার লক্ষ্যে নজরদারি কৌশলের ফর্মুলা দিতে হবে। পাচার অর্থ ফেরত এবং নতুন করে পাচারের পথ বন্ধে করণীয় ইশতেহারে থাকতে হবে। পাশাপাশি দলগুলোকে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা, টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ জ্বালানির নিশ্চয়তা দেয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা ইশতেহারে থাকা চাই। সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। ক্ষমতায় গেলে প্রথমে ১০০ দিন, এক বছর এবং সর্বোপরি ৫ বছরে কী কাজ করা হবে তা থাকতে হবে। তিনি বলেন, আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ সব প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে। ন্যায়পাল নিয়োগে তারা কী করতে চান সেটাও ইশতেহারে স্পষ্ট থাকতে হবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নির্বাহী সদস্য রেজওয়ানা হাসান বলেন, বেশির ভাগ মানুষ রাজনীতিকে ইতিবাচক দেখছে না। তাই ইশতেহার এমন হওয়া দরকার যাতে মানুষের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে ইতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়। স্বাধীনতার আগে বা পরে সাধারণ মানুষের ওপর যেমন দমন-পীড়ন হয়েছে, আজও মনে হয় তেমনি হচ্ছে। বিরোধী দলের লোকেরা নির্যাতন, গুম-খুনের ভয়ে কথা বলার সাহস পায় না। কেন যেন মনে হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মানুষের দূরত্ব বাড়ছে। তিনি বলেন, বিচার না পাওয়াটা কালচার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী, তথা মন্ত্রী-এমপিদের

আয়ের উৎস ক্ষেত্রে মৎস্য চাষ দেখানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসারও পরামর্শ দেন। যাতে জলাশয়গুলো তাদের প্রভাব থেকে রক্ষা পায় এবং প্রকৃত জেলেরাই

জলাশয়ের অধিকার পায়। কলামিস্ট সৈয়দ আবুল

মকসুদ বলেন, দলগুলো গত নির্বাচনে যে ইশতেহার দিয়েছিল এবং এখন যে ইশতেহার দেবে, দুটোই একসঙ্গে গেঁথে দিতে হবে। তাহলে জনগণ বুঝতে পারবে আগের ইশতেহার কতটা বাস্তবায়ন করেছে। নির্বাচন কমিশনও একটা নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে পারে। দলগুলোর আগের ইশতেহার পর্যালোচনা করা দরকার। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে এ ধরেনের পর্যালোচনা নির্বাচন কমিশনের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×