কমিশন প্রদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০২:২৭ | প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পালনে সবসময় সচেষ্ট থাকার জন্য নতুন ক্যাডেটদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) ৭৬তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শনিবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি ক্যাডেটদের উদ্দেশে বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। তোমরা এ দেশের সন্তান। বাংলাদেশের মানুষের হাসি-কান্নার অংশীদার তোমরাও।

তোমাদের পরে যারা আসবে তাদেরও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেষ্ট থাকতে হবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, বিএমএ আজ একটি অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমি। এখানে ক্যাডেটদের ইনডোর প্রশিক্ষণের জন্য অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে।

চালু করা হয়েছে বিভিন্ন বিষয়ে ৪ বছর মেয়াদি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি। জাতির পিতার হাত ধরে যে সেনাবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার সুনাম আজ বহির্বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

পরে তিনি ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। রাষ্ট্রপতি বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ তাকে অভ্যর্থনা জানান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, সংসদ সদস্য, ঢাকার বৈদেশিক কমিশনের কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের অভিভাবকরা উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন।

এ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ২৫৪ জন বাংলাদেশি, ২ জন সৌদি আরবের ও ১ জন শ্রীলংকান ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের মধ্যে ৭৬তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে ২১৭ জন পুরুষ ও ৩৭ জন নারী ক্যাডেট আছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতির গর্বের প্রতীক। গত ১০ বছরে সেনাবাহিনীর অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি সক্ষমতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফোর্সেস গোল-২০৩০-এর অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নসহ শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সমরাস্ত্র ও সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করা হয়েছে।

আজকের সেনাবাহিনী অবকাঠামোগত, কৌশলগত এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে এক দশক আগের সেনাবাহিনীর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামাদির সমন্বয়ে অনেক বেশি উন্নত, দক্ষ ও চৌকস।

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন, সুশৃঙ্খলভাবে ত্রাণ বিতরণ ও তাদের পরিচয়পত্র তৈরিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

কুচকাওয়াজে ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার একেএম ইনজামামুল হক সেরা চৌকস ক্যাডেট বিবেচিত হন এবং ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। এ ছাড়া কোম্পানি সিনিয়র আন্ডার অফিসার ইবনে ইজাজ হাসান সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন। পরে ক্যাডেটরা আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করেন এবং মা-বাবা ও অভিভাবকরা নবীন অফিসারদের র‌্যাংক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×