বেগম রোকেয়া পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

মাকে সন্তানের বন্ধু হয়ে উঠতে হবে

  বাসস ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাকে সন্তানের বন্ধু হয়ে উঠতে হবে
রোববার বেগম রোকেয়া পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: যুগান্তর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মা-বাবাকে বিশেষ করে মায়েদের তাদের সন্তানকে বেগম রোকেয়ার আদর্শে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের নারীরা সুশিক্ষিত হবে এবং নিজের সন্তানকে উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক থেকে ছেলে-মেয়েরা যেন দূরে থাকে, সেজন্য মায়েদের বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘রোকেয়া পদক-২০১৮’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন উপলক্ষে এ আয়োজন করে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে কোনো দূরত্ব না রেখে বরং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য মায়েদের পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘যাতে কোনো সমস্যা হলেই ছেলে-মেয়েরা তাদের নিজেদের মনের কথা মা’কে বলতে পারে। কারণ মা-বাবাই হচ্ছেন সন্তানের সব থেকে বড় বন্ধু। কাজেই সেই ধরনের একটা পরিবেশ সৃষ্টির উদ্যোগ মাকেই নিতে হবে।’

নারীর ক্ষমতায়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ৫ নারীকে বেগম রোকেয়া পদকে ভূষিত করা হয়। তারা হচ্ছেন- সাবেক প্রতিমন্ত্রী জেবুন্নেসা তালুকদার, কুমিল্লা মহিলা কলেজের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক জোহরা আনিস, সুনামগঞ্জের সমাজ ও সাংস্কৃতিক কর্মী শিলা চৌধুরী, লেখক ও সমাজকর্মী রমা চৌধুরী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লেখক ও সমাজকর্মী রোকেয়া বেগম। প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম স্বাগত বক্তৃতা করেন। জেবুন্নেসা তালুকদার অনুষ্ঠানে পদক বিজয়ীদের পক্ষে অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

বেগম রোকেয়াকে নারীজাগরণের অগ্রদূত এবং সত্যিকারের প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম রোকেয়া আমাদের যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন এবং তার যে স্বপ্ন ছিল, আজ পৃথিবী সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশকে এইদিকে আমরা অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছি।’

বেগম রোকেয়ার একটি বাণী তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পুরুষের সক্ষমতা লাভের জন্য আমাদের যাহা করিতে হয় তাহাই করিব। যদি এখন স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জন করিলে স্বাধীনতা লাভ হয় তবে তাহাই করিব।’ কাজেই তার এ কথাটা আমাদের মনে রাখতে হবে এবং আজ যদি আমরা বাংলাদেশের দিকে তাকাই তাহলে আমরা দেখব, তার এই আহ্বানটা বৃথা যায়নি। সরকারপ্রধান এ সময় নারীর প্রগতির জন্য বেগম রোকেয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই তার সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং করবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১, নারী উন্নয়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২০২৫, পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ এবং এই সংক্রান্ত বিধিমালা-২০১৩ প্রণয়নসহ নারীদের সুরক্ষা দিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার সরকার মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ ৬ মাসে বর্ধিত করেছে, সন্তানের পরিচয়ের ক্ষেত্রে মায়ের নাম লেখা বাধ্যতামূলক করেছে এবং ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌরসভায় সংরক্ষিত নারী আসন এক-তৃতীয়াংশে উন্নীত করেছে।

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৫০ করা, মহিলা উদ্যোক্তাদের কম সুদে ঋণ প্রদান এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে আড়াই লাখ ল্যাকটেটিং মা ও ৭ লাখ গর্ভবতী দরিদ্র মায়ের ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, তার সরকার উপজেলা পর্যায়ে নারীদের জন্য আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ২ কোটি ৪০ লাখ ছেলে-মেয়েকে বৃত্তি এবং উপবৃত্তি দেয়ার তথ্য উল্লেখ করে বলেন, এসব বৃত্তি-উপবৃত্তির শতকরা ৭৫ শতাংশই নারীরা পাচ্ছে। প্রতিমাসের শুরুতে ১ কোটি ৩০ লাখ মায়ের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার সন্তানের বৃত্তির টাকা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও শতকরা ৬০ ভাগ নিয়োগ নারীদের মধ্য থেকেই করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বাবার রাজনৈতিক জীবনে মা ছিলেন একজন উপযুক্ত সাথী। যিনি সবসময় বাবার পাশে থেকে তাকে প্রেরণা জুগিয়ে গেছেন। এজন্য আজ আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছি।

জাতির পিতার বক্তব্য ‘মেয়েরা যদি কামাই করে ১০টা টাকা আঁচলে বেঁধে ঘরে আনে তাহলে ঐ সমাজ বা সংসারে তার একটা জায়গা থাকে। কথা বলার সুযোগ থাকে’ উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর নারীরা তা করতে না পারলে তার অবস্থান সমাজ কিংবা সংসার কোথাও থাকে না। আর এটাই হচ্ছে প্রকৃত বাস্তবতা। সেইদিকে লক্ষ্য রেখেই তার সরকার চাকরিসহ সবক্ষেত্রে যে সুযোগটা করেছে তার সুফল নারী সমাজ ভোগ করছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় নারীদের বেশি বেশি সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে কবিগুরুর ভাষায় বলেন, ‘নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার কেন নাহি দেবে অধিকার হে বিধাতা’- এই কান্না আমরা কাঁদতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতার শেষদিকে ৯ ডিসেম্বর তার কন্যা এবং বিশ্ব অটিজম আন্দোলনের অগ্রসেনানি সায়মা হোসেনের জন্মদিন উল্লেখ করে তার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×