সিলেট থেকে প্রচার শুরু করবে ঐক্যফ্রন্ট

সড়কপথে সারা দেশ সফরের পরিকল্পনা * নির্বাচন পরিচালনায় ১৮ উপকমিটি

  তারিকুল ইসলাম ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট থেকে প্রচার শুরু করবে ঐক্যফ্রন্ট
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন জোটের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে নেতারা। ফাইল ছবি

সিলেটে মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ধানের শীষের প্রচারে নামবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের শীর্ষ নেতারা। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে আগামীকাল অথবা বুধবার সিলেট যাওয়ার কথা রয়েছে।

হজরত শাহজালাল (রহ.), হজরত শাহপরাণ (রহ.) ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর মাজার জিয়ারত শেষে প্রচার কাজে অংশ নেবেন তারা। পর্যায়ক্রমে সড়কপথে সারা দেশে প্রচার চালাবেন তারা। এ সময় পথসভায় অংশ নেবেন নেতারা। এদিকে নির্বাচন পরিচালনায় সার্বিক বিষয় দেখভাল করতে ১৮টি উপকমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এগুলো হল- নির্বাচন কমিশন সমন্বয়, পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, মিডিয়া, অর্থ, প্রচার, রাজনৈতিক, শৃঙ্খলা, প্রশাসন, পেশাজীবী সমন্বয়, আন্তর্জাতিক এবং সাংস্কৃতিক-সামাজিক ও ক্রীড়া, টেলিভিশন মনিটরিং কমিটি ইত্যাদি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

১৯৯১ সাল থেকে বিএনপি প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সিলেটে গিয়ে মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করতেন। এটি অনেকটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তিনি কারাগারে থাকায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সিলেটে মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু করবে ঐক্যফ্রন্ট। পরে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেবেন শীর্ষ নেতারা। সিলেটের পর ড. কামাল হোসেনের ঢাকার বাইরে নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

এ বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকা বিএনপির এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন হয়তো সিলেটের পর ঢাকার বাইরে যেতে পারবেন না। তবে তিনি ঢাকা মহানগরীর নির্বাচনী এলাকায় প্রচারে অংশ নেবেন। সারা দেশে প্রচারে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আসম আবদুর রব, কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বিএনপি, ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা থাকবেন।

সূত্র জানায়, সিলেটসহ সারা দেশে প্রচারের জন্য ইতিমধ্যে সম্ভাব্য তারিখসহ একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এ নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। তবে দুই জোটের শীর্ষ নেতাদের প্রচারে অংশ নেয়ার বিষয়ে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দুটি করে আসনে নির্বাচন করছেন। তাই সারা দেশের অনেক জায়গায়ই তারা প্রচারে যেতে পারবেন না। কারণ তারা তাদের নির্বাচনী এলাকায়ও সময় দিতে চান। এছাড়াও আ স ম আবদুর রব, কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, মাহমুদুর রহমান মান্নাও নির্বাচন করছেন। তারাও হয়তো অনেক জায়গায় প্রচারে যেতে পারবেন না। তবে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী নির্বাচন না করার কারণে তাকে সব সময় পাওয়া যাবে।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অথবা যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের মধ্যে যে কোনো একজনকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব করা হতে পারে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- আবদুল আউয়াল মিন্টু, সাবেক সচিব মোফাজ্জেল করিম, আবদুল হালিম, মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম, শামসুজ্জামান দুদু, অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

মিডিয়া উপকমিটির প্রধান করা হয়েছে শওকত মাহমুদকে। এর সদস্যরা হলেন- সিনিয়র সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী, সৈয়দ আবদাল আহমদ, আবদুল হাই সিকদার, ইলিয়াস খান, কাদের গণি চৌধুরী প্রমুখ।

আন্তর্জাতিক উপকমিটির প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমানকে। এছাড়া বাকি উপকমিটিতে কারা থাকবেন তাও প্রায় চূড়ান্ত। দু’একদিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮টি উপকমিটি ঘোষণা করা হবে।

জানতে চাইলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান যুগান্তরকে বলেন, উপকমিটিগুলো গঠনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবেন। এদিকে ভোটের শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে থাকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পোলিং এজেন্টদের করণীয় নিয়ে এরই মধ্যে একটি খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। ১১ দফা নির্দেশনায় পোলিং এজেন্টদের সারা দিনের করণীয় জানিয়ে দেয়া হবে।

সূত্র জানায়, খসড়ায় থাকা উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- জাতীয় পরিচয়পত্র, পোলিং এজেন্ট কার্ড, মামলার জামিনের কাগজপত্র, প্রয়োজনীয় অর্থ, খাবার, ভোটার তালিকা, কাগজ ও কলম সঙ্গে নিয়ে সকাল ৭টায় প্রস্তুত হয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে পোলিং এজেন্ট হওয়ার বৈধতা নিশ্চিত করা; প্রথমেই ব্যালট বাক্সের হিসাব নেয়া, ব্যালট পেপার ও কেন্দ্রের ভোটারসংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা, চিহ্নিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কর্মীরা ভোট দেয়ার সময় কোনো অতিরিক্ত ব্যালট পেপার যেন বাক্সে না ঢোকে সেদিকে খেয়াল রাখা, প্রতিটি স্বচ্ছ বাক্স লক করে নম্বর নিয়ে তা কাগজে লিখে রাখা, ভোট শেষে বাক্স লক করে নম্বর লিখে রাখা, ভোট গণনার সময় প্রতিপক্ষের ব্যালট পেপার বেশি দেখানোর অপচেষ্টার দিকে নজর রাখা, কোনো পুলিশ সিভিল ড্রেসে এলে এবং প্রতিপক্ষের কর্মীর সঙ্গে জোর করে ব্যালট পেপার নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার করে বাইরের সাহায্য নিশ্চিত করা, এক সেকেন্ডের জন্যও বাইরে বের না হওয়া, গণনার পর নতুন ধরনের ভোট ডাকাতি চেষ্টার দিকে নজর রাখা, প্রতিটি বুথে ভোটারসংখ্যা অনুযায়ী ব্যালট পেপার ও বাক্স বুঝে নেয়া ইত্যাদি।

নির্দেশনায় আরও বলা থাকছে- ভোট শেষে মূল পোলিং এজেন্টকে ব্যালট পেপার-বাক্সসহ আগের সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে। মূল পোলিং এজেন্ট ভোট গণনার পর ভোট বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার স্বাক্ষর দেয়া থেকে বিরত থাকা।

সূত্র আরও জানায়, প্রতিটি আসনে কেন্দ্রভিত্তিক একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে দলের নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি, ক্ষমতাসীনদের গত ১০ বছরের নানা অনিয়মের বিষয় ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে একটি লিফলেট তৈরি করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলে প্রতিটি ঘরে এই লিফলেট পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×