বরিশাল-৩ ও পিরোজপুর-৩: বিদ্রোহী প্রার্থীতে বিব্রত টিপু ও ফরাজী

  আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশাল-৩ ও পিরোজপুর-৩: বিদ্রোহী প্রার্থীতে বিব্রত টিপু ও ফরাজী
বরিশাল-৩ ও পিরোজপুর-৩: বিদ্রোহী প্রার্থীতে বিব্রত টিপু ও ফরাজী

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদি) ও পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে মহাজোটের দুই প্রার্থীর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই বিদ্রোহী প্রার্থী। বরিশাল-৩ আসনে ওয়ার্কার্স পাটির নেতা ও মহাজোটের প্রার্থী (বর্তমান এমপি) অ্যাডভোকেট টিপু সুলতানের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে মাঠে আছেন জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু।

পাশাপাশি বিদ্রোহী হয়ে টিপুর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন তার দলের যুব সংগঠন যুবমৈত্রীর সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান। এই বিষয়টি টিপুকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। অপরদিকে পিরোজপুর-৩ আসনে মহাজোটের প্রার্থী রুস্তম আলী ফরাজীর পাশাপাশি প্রার্থী হয়েছেন মহাজোটের শরিক আওয়ামী লীগের আশরাফুর রহমান। উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে তিনি প্রার্থী হয়েছে।

বিষয়টি আওয়ামী লীগকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। ভোটের পরিসংখ্যান বিবেচনায় এমনিতেই বরিশাল-৩ আসনে খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই আওয়ামী লীগ। ’৯১-’৯৬ ও ২০০১ এই ৩ নির্বাচনেই এখানে জয়ী হয় বিএনপি। ২০০৮-এর নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাপার গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি হলেও সেবার বিএনপির দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি ছিল বিদ্রোহী একজন। ওই নির্বাচনে টিপু ৭১ হাজার ভোট পান। ধানের শীষ পায় ৬৭ হাজার ভোট।

দলীয় সমর্থন ছাড়াই সেবার বিএনপির বিদ্রোহী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ২০ হাজারের কিছু বেশি। এই দু’জনার সম্মিলিত ভোট ছিল যেখানে ৮৭ হাজার সেখানে ধানের শীষ হেরে যায় মাত্র ৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে। ভোটের মাঠের এই বাস্তবতার পাশাপাশি এবার এখানে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীও নেই।

সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের হিসেবে বিএনপির যখন এমন শক্ত অবস্থান ঠিক সেই মুহূর্তে ৩ ভাগে ভাগ হয়ে আছে মহাজোট। নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ টিপু সুলতান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু এবং ট্রাক প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে আতিকুর রহমান (ওয়ার্কার্স পার্টির যুব সংগঠন যুবমৈত্রীর সহ-সভাপতি)।

জানা যায়, এলাকার কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন আতিক। এ কারণে এলাকায় তার একটা অবস্থান হয়েছে। এছাড়া প্রভাব বিস্তারের রাজনীতির মারপ্যাঁচে ক্ষমতাসীন দলের একটা অংশের নেপথ্য সমর্থন রয়েছে তার পেছনে। এসব বিষয়ে আলাপকালে আতিক বলেন, ‘সবাই প্রতিনিধি হওয়ার আগে কেবলই প্রতিশ্রুতি দেন। আমি এর ব্যতিক্রম। নির্বাচিত হলে এলাকার চেহারা পাল্টে দেব।’ দলের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে দল যদি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় তাহলে কী করবেন জানতে চাইলে আতিক বলেন, ‘দল তো জনগনের ঊর্ধ্বে নয়। নির্বাচনী এলাকার মানুষের দাবির মুখে প্রার্থী হয়েছি। সাধারণ মানুষকে তো আর ছেড়ে যেতে পারব না।’

নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী সম্পর্কে এমপি টিপু বলেন, ‘দলের বিভিন্ন মাধ্যমে তার সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করি তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে যাবেন। তা না হলে দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’

এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী আশরাফুর রহমানকে নিয়ে খানিকটা হলেও বিব্রত অবস্থার মধ্যে আছেন পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগ নেতারা। মঠবাড়িয়ার রাজনীতিতে নতুন আশরাফ উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনের সময়ই স্থানীয় আওয়ামী রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে তার। এর পরই স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। শান্ত মঠবাড়িয়া হয়ে পড়ে রক্তাক্ত অশান্ত। অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর সংঘর্ষে ঘটে প্রাণহানির মতো ঘটনা।

এছাড়া উপজেলার ১১ ইউনিয়নের মধ্যে ৮টির চেয়ারম্যানই তার বিপক্ষে। আশরাফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে এনে তার অপসারণ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন পর্যন্ত করেছিলেন এরা। এমন বাস্তবতায় কোন হিসেবে আশরাফ উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে মহাজোট মনোনীত প্রার্থী জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি রুস্তুম আলী ফরাজীর বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন সেটাই এখন প্রশ্ন মঠবাড়িয়ার সাধারণ মানুষের।

ধানিসাফা বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মিলন মণ্ডল বলেন, ‘ফরাজী এ পর্যন্ত ৪ বার এমপি হয়েছেন। তার ওপর এবার আবার কেবল জাতীয় পার্টি নয়, আওয়ামী লীগও তার পক্ষে। এরকম একটি অবস্থায় আশরাফের প্রার্থী হওয়ার মানে হচ্ছে বিএনপি জিতে যাওয়া। আওয়ামী লীগের লোক হয়ে তিনি কেন এটা করছেন সেটাই বুঝতে পারছি না।’

তুষখালী এলাকার বাসিন্দা আবু ইউসুফ বলেন, ‘আশরাফ প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির লোকজন অনেক খুশি। তাছাড়া এই এলাকায় প্রায় সবসময় আওয়ামী বিরোধীরাই এমপি হয়েছে। তার ওপর আশরাফের এভাবে প্রার্থী হওয়া ঠিক হয়নি।’ মহাজোটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া বিষয়ে জানতে চাইলে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ বলেন, ‘তার কারণে দলের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি আমরা কেন্দ্রকে জানিয়েছি। যেহেতু আশরাফ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। তাই তার ব্যাপারে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার কেবল কেন্দ্রের। আমরা মনে করি দলের বৃহত্তর স্বার্থে এখনই তার ব্যাপারে সিদ্ধান্তে আসা উচিত।’

আলাপকালে আশরাফুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলেই ভোটের মাঠে নেমেছি। কেন্দ্র যদি আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় তাহলে কিইবা করার আছে। নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মঠবাড়িয়া আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এখানে আওয়ামী লীগের কাঁধে ভর করে বারবার দলবদল করা সুবিধাবাদী চরিত্রের কেউ এমপি হয়ে যাবে- এটা মেনে নেয়ার কোনো কারণ নেই।’

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×