ভোটাররা প্রশাসনের দৃশ্যমান নিরপেক্ষতা দেখতে চায়

অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম

  মতিন আব্দুল্লাহ ও আজহারুল হক, দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সালমা,

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বলেছেন, ভোটাররা প্রশাসনের দৃশ্যমান নিরপেক্ষতা দেখতে চায়। শুধু মুখে বললে হবে না, বাস্তবে এর প্রমাণ দিতে হবে। শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোহার-নবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগকালে তিনি এ কথা বলেন। এ ছাড়া গণসংযোগকালে সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়ে সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হীন উদ্দেশ্যে আমার পরীক্ষিত কর্মী দোহারের হায়দার আলীকে শুক্রবার রাতে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। তিনি তাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জোর দাবি জানান। তিনি এ-ও বলেন, না হলে সাধারণ মানুষ একবার বিক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় নামলে সব অন্যায় ভেসে যাবে। কেউ সামাল দিতে পারবে না। কারণ ইতিহাস বলে, জনগণের চেয়ে কেউ বা কোনো পক্ষ শক্তিশালী হতে পারে না। সব অপশক্তিকে একসময় জনগণের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়। তার নেতাকর্মীদের হয়রানি করার ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

এদিকে শনিবার সকালে নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দা এলাকায় একটি কর্মিসভায় বক্তৃতা করেন যমুনা গ্র“পের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও স্বনামধন্য শিল্পপতি নুরুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, দোহার-নবাবগঞ্জের উন্নয়ন এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম নিরন্তর চেষ্টা করেছেন। এ এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিরক্ষার স্বার্থে আবারও আপনাদের কাছে মটরগাড়ি প্রতীকে আমার স্ত্রীর জন্য ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করছি। আশা করি, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আপনারা গোপন ব্যালটে রায়ে আমার সহধর্মিণীকে বিজয়ী করবেন।

এরপর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম নবাবগঞ্জ এতিমখানা ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে মটরগাড়ি প্রতীকের পক্ষে ভোট ও দোয়া চান এবং নবাবগঞ্জ বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন। তিনি শনিবার দুপুর ১২টায় নবাবগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা কামনা করেন।

জনসংযোগকালে সাধারণ ভোটাররা মটরগাড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমা ইসলামকে বলেন, আপনার কোনো দল বা প্রতীক লাগবে না। আপনিই আমাদের কাছে বড় প্রতীক। আমরা আমাদের স্বার্থে আপনাকে ভোট দেব। তাই ৩০ তারিখের অপেক্ষায় আছি। আবদুর রহিম নামে একজন বয়োবৃদ্ধ ভোটার সালমা ইসলামকে উদ্দেশ করে বলেন, স্বাধীনতার পর আপনার মতো এত উন্নয়ন দোহার-নবাবগঞ্জে আর কোনো এমপি-মন্ত্রী করতে পারেনি। অনেকে শুধু একবার ভোট নিয়ে গেছে, আর ফিরে তাকায়নি। কিন্তু আপনি ছিলেন একদম ব্যতিক্রম। এত বড় শিল্পপতির সহধর্মিণী হওয়া সত্ত্বেও মাসের বেশিরভাগ দিন এলাকায় থাকেন, জনগণের সুখ-দুঃখের কথা শোনেন। সবার ফোন ধরেন। এর চেয়ে আর বড় পাওয়া কী হতে পারে। তাই সারা বাংলাদেশের সঙ্গে ঢাকা-১ আসনের ভোটের হিসাব ও রাজনীতি এক সূত্রে মেলানো যাবে না।

শনিবার গণসংযোগকালে সালমা ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সুদক্ষ নেতৃত্বে একটি সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। তাই তার কাছে আমি দাবি জানাব, দোহার-নবাবগঞ্জে যেন সেই পরিস্থিতি বজায় থাকে। প্রশাসনের কেউ যেন তার সাময়িক ব্যক্তিস্বার্থে কোনো পক্ষে অবস্থান না নেয়। সেটি করলে তারা বিরাট ভুল করবে। কারণ সবাইকে ৩০ তারিখের পরও চাকরি করতে হবে।

এর আগে সকাল ৯টায় নবাবগঞ্জের টিকরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। এরপর দুপুরে দোহারের সুতারপাড়া ইউনিয়নের ঘারমোড়া গ্রামের মনজুরুল হক কিরণের বাড়িতে উঠোন বৈঠক করেন। এ বৈঠকে ওই এলাকার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর এবং বয়োবৃদ্ধসহ হাজারো মানুষের ঢল নামে। আর বিকালে গালিমপুর ইউনিয়নের গাজীখালী নারীনেত্রী শিল্পী বেগমের বাড়িতে আরেক উঠোন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ সভায়ও সহস্রাধিক লোকের সমাগম ঘটে। এ দুটি উঠোন বৈঠকে স্থানীয় জনগণ অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামকে দোহার-নবাবগঞ্জের মাদার তেরেসা উল্লেখ করে যে কোনো মূল্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, বিগত ১০ বছরে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম দোহার-নবাবগঞ্জে যে উন্নয়ন করেছেন, তার বিনিময়ে ভোটাররা অবশ্যই তাকে বিজয়ী করবেন।

সুতারপাড়া ইউনিয়নের উঠোন বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. বদিউজ্জামান বলেন, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের মতো ভালো মানুষ এ যুগে খুব কমই আছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। এ কারণে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দোহার-নবাবগঞ্জের বাসিন্দাদের সালমা ইসলামের মটরগাড়ি মার্কায় ভোট দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বিপদ-আপদের একমাত্র বন্ধু অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামকে মটরগাড়ি মার্কায় ভোট দিয়ে এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবা করার সুযোগ করে দিতে এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

সাবেক যুগ্ম সচিব নুরুল হক মিয়া বলেন, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ। সালমা আপাকে যে কোনো সময় পাওয়া যায়, বিপদ-আপদে তিনি পাশে থাকেন। এ জন্য যিনি জনগণের পাশে থাকবেন, আমরা তাকে এবারের নির্বাচনে বিজয়ী করব।

সাবেক ছাত্রনেতা মনজুরুল হক কিরণ মৃধা বলেন, চারটি কারণে আমি আওয়ামী লীগ করেও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা করছি। সেগুলো হল: ১. অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিরহংকারী মানুষ। ২. যে কোনো সময় তার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। ৩. বিগত ১০ বছরের দোহার-নবাবগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন ৪. তিনি এলাকার মানুষকে ভালোবাসেন; ঢাকার আয়েশি জীবন ছেড়ে ছুটে আসেন দোহার-নবাবগঞ্জের প্রত্যন্ত এ গ্রামীণ জনপদে। এ কারণে এলাকাবাসী জনদরদি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের পক্ষে কাজ করার এবং তার প্রতীক মটরগাড়িতে ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানাচ্ছি।

বিকালের গালিমপুরের জনসভায় নারী নেত্রী আসমা আক্তার রুমি বলেন, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম দোহার-নবাবগঞ্জকে খুব ভালোবাসেন। এ কারণে বিগত ১০ বছরে দোহার-নবাবগঞ্জের উন্নয়নে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার কাজ করেছেন। অনেক কাজ এখনও চলমান রয়েছে। এ কারণে উন্নয়নের নেত্রী সালমা ইসলামকে মটরগাড়ি প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানাচ্ছি।

সাবেক ফুটবলার মো. তুহিন বলেন, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম বিগত ১০ বছরে আমাদেরকে যা দিয়েছেন, আমরা সালমা ইসলামকে হারাতে চাই না। এ জন্য এবারের নির্বাচনে জনদরদি এ নেত্রীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানাচ্ছি।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×