ইসিতে অভিযোগ

আ’লীগ পুলিশ ও প্রশাসনকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে বিএনপির

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আলাল,

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ, প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দলটির ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করছে দলটি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় শনিবার নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয়ার পর দলটির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এসব কথা বলেন।

আলাল আরও বলেন, সব জায়গায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। তারা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এগুলো করছে। এই তিন বাহিনীর মোকাবেলা করা আমাদের কাজ নয়। আমাদের কাজ হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়া। তিনি বলেন, শুক্রবার সারা দেশে বিভিন্ন আসনে যেসব হামলা ও সহিংসতা হয়েছে, সে বিষয়গুলো আমরা ইসিকে জানিয়েছি। আক্রমণ বন্ধ করতে ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে ইসিকে অনুরোধ করেছি।

বিএনপি নেতা আলাল বলেন, যে পুলিশের দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়ে আক্রমণ থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি, সে পুলিশদের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ করেছি। অভিযুক্ত একজন পুলিশকেও বদলি বা ক্লোজ করা হয়নি। এ কথাগুলো আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি। আমরা বলতে বলতে ক্লান্ত হয়ে ফিরে যাচ্ছি। কিন্তু পুলিশ তো আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে এই সুযোগে দ্বিগুণ উৎসাহে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। তিনি বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদের স্ত্রী ও সিরাজগঞ্জে বিএনপি প্রার্থী রোমানা মাহমুদের নির্বাচনী প্রচারণায় গুলি করা হয়েছে। রোমানা আহত হয়েছেন এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তার কর্মীরাও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আমরা মামলা করতে গিয়েছি, পুলিশ মামলা নেয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ ঘটনায় সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু দাউদকে প্রত্যাহার করতে অনুরোধ করেছি।

আলাল বলেন, বড় কিছুই চাইনি নির্বাচন কমিশনের কাছে। তাদের ক্লোজ করার জন্য বলেছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কয়েক দিন আগে বলেছেন, নির্বাচনের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। আমরা তো জীবন নিয়েই বাঁচতে পারছি না।

আলাল আরও বলেন, ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলার বিষয়ে ইসি সচিব বলেছেন, তারা নাকি অবহিত নন। এটা খুব আশ্চর্য লাগে আমাদের কাছে। খুব কষ্ট লাগে। এটা আমাদের কাছে খুব বিস্ময়কর লাগে। এটা কিভাবে সম্ভব। নির্বাচন কমিশন সচিব বলেছেন, তারা জানতেন না এবং টিভিতেও দেখতে পাননি। পরে তারা ঘটনাটি শুনেছেন অফিস আওয়ারের পরে। তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেননি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আলাল বলেন, ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ যদি সরকারের প্রতি অনুগত থাকে, সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নিজেরা স্যাবোটাজ করে, প্রতিপক্ষের ওপর চাপিয়ে দেয়। তাহলে তো একটা প্রশ্ন থেকে যায়। না হলে একই সুরে কথা তো আমরা আশা করি না। এত মারধরের পরও আমরা মাঠে আছি। আমরা ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকব। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জাতীয় ঐকফ্রন্টের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎ করার জন্য চিঠি দিয়েছি। কেননা, নির্বাচন কমিশন আমাদের বক্তব্য শোনেন। কিন্তু প্রতিকার তো পাই না। তাই সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে আমরা তার কাছেও বলব। এতে কাজ না হলে জনগণের কাছে বিচারের দাবি ছেড়ে দেব।

গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেনের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানায় প্রতিনিধি দল। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালি।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×