নবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মানববন্ধন
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মানববন্ধন

ঢাকার নবাবগঞ্জে রাতের আঁধারে যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মানববন্ধনে এ আলটিমেটাম দেয়া হয়।

হামলার চার দিন পরও প্রশাসনের নির্বিকার আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিক নেতারা বলেন, নবাবগঞ্জের ঘটনায় সুনির্দিষ্ট মামলা হয়েছে। আসামিদের চিহ্নিত করে মামলায় তাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারপরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি রুহুল আমীন গাজী বলেন, আগুন নিয়ে কেউ খেলবেন না। সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের খেলা বন্ধ করুন। কোনো সাংবাদিকের গায়ে যাতে আর হাত না পড়ে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ব?লেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে একজন সাংবাদিকও যেন আর নির্যাতনের শিকার না হয় তার ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনকে করতে হবে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, নবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর হামলা খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা। পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে বলতে চাই- ৩০ ডিসেম্বর ও তারপর দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর যেন কোনো পক্ষ হামলে না পড়ে সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমরা দলবাজি করতে আসিনি। আমরা পেশাদারিত্ব বজায় রেখে শুধু আমাদের কাজটুকু করতে চাই। ডিআরইউ এখনও একতাবদ্ধ আছে। তাই সবাই মিলে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা প্রতিবাদ জানাতে চাই। একই সঙ্গে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম তপু বলেন, নবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় সুনির্দিষ্ট মামলা হয়েছে। তবুও কোনো আসামিকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। এখনও নির্বাচন কমিশন নির্বিকার। এ বিষয়ে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সভাপতি আবুল খায়ের বলেন, দেশ স্বাধীনের পর এ পর্যন্ত বিভিন্ন হামলায় ৫০ জনের মতো সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২২০০ জন। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার হয়নি। বিচার না হওয়াতেই সাংবাদিকদের ওপর একের পর এক হামলা হচ্ছে। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতেই সাংবাদিকতা করি। কিন্তু সরকারের কেউ কেউ হয়তো অতি উৎসাহী হয়ে খারাপ কিছু ঘটানোর চেষ্টা করছে। তারই একটা উদাহরণ নবাবগঞ্জে সাংবাদিকদের ওপর হামলা।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক নেতা অমিয় ঘটক পুলক, শরিফুল ইসলাম বিলু, ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক দীপু সারোয়ার, ডিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল বারি, যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার উবায়দুল্লাহ বাদল প্রমুখ।

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে নবাবগঞ্জে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। রাতের আঁধারে শামীম গেস্ট হাউসে মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের চালানো হামলায় ১০ সাংবাদিক আহত হন। এ সময় সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের ১৬টি গাড়িও ভাংচুর করে। হামলার সময় সাহায্য চেয়েও স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তা পাননি সাংবাদিকরা। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×