সরেজমিন : ঢাকার আটটি আসন

অধিকাংশ কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারেনি বিএনপি

সমর্থকদের ওপর হামলা ও ভোটারদের বাধা দেয়ার অভিযোগ

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অধিকাংশ কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারেনি বিএনপি
রাজধানীর একটি কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন ভোটার। ছবি: যুগান্তর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারেনি বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঢাকা-১০ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বা বিএনপির কোনো এজেন্ট ছিল না।

তবে বিএনপি প্রার্থী আবদুল মান্নান অভিযোগ করেন, কয়েকটি সেন্টার থেকে তার এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে। এ অভিযোগ অস্বীকার করে একই আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেন, তিনি (মান্নান) যেসব অভিযোগ করেছেন তা ভিত্তিহীন। ঢাকার আটটি আসনের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র ঘুরে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন যুগান্তরের প্রতিনিধিরা।

ঢাকা-১০ আসনের কলাবাগানের লেক সার্কাস স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এ কেন্দ্র ছাড়া আরেকটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। দুই কেন্দ্রে বিএনপির কোনো এজেন্ট ছিল না। লেদার টেকনোলজি কলেজ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, সব বুথে ধানের শীষের একজন করে এজেন্ট আছেন। জিগাতলা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির দুইজন এজেন্ট ছিলেন। তাদের একজন বাহাউদ্দিন মুন্সি বলেন, আমি ও বাবা বিএনপির এজেন্ট, ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে। পিলখানার ৯৩নং কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার শেখ রিয়াদ বলেন, এখানে বিএনপির কোনো এজেন্ট নেই।

ঢাকা-১৫ আসনের হারম্যান মেইনার স্কুল অ্যান্ড কলেজে ধানের শীষের এজেন্ট জাহিদ হাসান প্রস্তুতি নিয়ে সকাল সাড়ে ৭টায় কেন্দ্রে যান দায়িত্ব পালনের আশায়। কিন্তু কেন্দ্রে প্রবেশের আগেই ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রুমেলের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। উপর্যুপরি কিল-ঘুষি ও লাথিতে বিপর্যস্ত জাহিদ চিৎকার করে পাশে থাকা পুলিশের সহায়তা চান। কিন্তু ফিরেও তাকায়নি পুলিশ। মারধরের একপর্যায়ে জাহিদের মোবাইল ফোন ও ম্যানিব্যাগ নিয়ে মারধরকারীরা চলে যায়। এরপর স্থানীয় লোকজন তাকে মিরপুর-১১ নম্বরের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালের বেডে শুয়ে এমন অভিযোগ করেন জাহিদ।

একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ধানের শীষের সমর্থক নুর হোসেন ও মতিউর রহমান অভিযোগ করে বলেন, মাহমুদ নামের এক বন্ধুসহ তারা সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। এ সময় নৌকার ব্যাজপরা একদল লোক তাদের ওপর হামলা করে। কিল, ঘুষি, লাথি মারতে থাকলে একপর্যায়ে তারা মাটিতে পড়ে যান।

এ সময় পাশে থাকা পুলিশ ও আনসারদের সহায়তা চাইলেও কেউ এগিয়ে আসেনি বলে তারা অভিযোগ করেন। প্রায় একই চিত্র ছিল পাশের আসন ঢাকা-১৪ আসনে। এ আসনের গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, জুভেনির কেয়ার স্কুল, আরসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এফএম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ভোট কেন্দ্র ঘুরে বিএনপির কোনো এজেন্টের দেখা পাওয়া যায়নি। তবে এসব কেন্দ্রে নৌকার পাশাপাশি হাতপাখা, লাঙ্গল ও কিছু কেন্দ্রে টেলিভিশন প্রতীকের প্রার্থীদের এজেন্টের দেখা মিলেছে। এমনকি এ আসনে দুপুরের খাবারের অজুহাতে তিনটি কেন্দ্রে প্রায় দুই ঘণ্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়।

ঢাকা-১৪ এবং ঢাকা-১৫ আসনের অধিকাংশ কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের এজেন্ট পাওয়া যায়নি। এমনকি এসব কেন্দ্রে ধানের শীষ ব্যাজ লাগানো কাউকে পাওয়া গেলেই তাকে মারধরের শিকার হতে হয়েছে। ধানের শীষের এজেন্টরা কেন্দ্রে প্রবেশের আগে তাদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এ দুই আসনের কোনো কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রগুলোতে নৌকা প্রতীকের সহায়তাকারীর দলের দেখা মিললেও ধানের শীষের সহায়তাকারীদের দেখা মেলেনি।

কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সিদ্দিকীয়া মাদারাসা কেন্দ্রের ভোটার এ আলী খান যুগান্তরকে বলেন, গত বছরও তিনি মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। এবার ভোট দিতে গেলে তাকে মনিপুর স্কুলে যেতে বলা হয়। এরপর মনিপুর স্কুলে গেলে জানানো হয় তিনি মাদ্রাসা কেন্দ্রের ভোটার। এ সময় তিনি আবারও মাদ্রাসা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার চেষ্টা করলেও কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেননি।

ঢাকা-৭ আসনের পুরান ঢাকার আনোয়ারা বেগম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে ধানের শীষের একজন এজেন্টেরও দেখা মেলেনি। শুধু এজেন্ট নয়, এ আসনের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে গণফোরামের প্রার্থী মোস্তফা মোহসীন মন্টুর কোনো কর্মীও দেখা মেলেনি। বিএনপি কর্মীদের দেখাও মেলেনি। সকাল সোয়া ৯টার দিকে ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের একটিতেও বিএনপির এজেন্টকে দেখা যায়নি। তবে আজিমপুর গার্লস হাইস্কুলের চারটি বুথে বিএনপির এজেন্ট পাওয়া গেল। তাদের একজন শাম্মী আক্তার জানান, আরও দু’জনের আসার কথা ছিল। তবে শেষপর্যন্ত তারা আসেননি। কোনো সমস্যা, চাপে পড়া বা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেইরকম কোনো সমস্যা নেই। কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার হুমায়ূন কবির পলাশ জানান, কোনো রকম অপ্রীতিকর কিছু ছাড়াই ভালো ভোট হচ্ছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর শাখার ভোট কেন্দ্রেও বিএনপির এজেন্ট বুথের তুলনায় কম ছিল। নতুন পল্টন লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রেও এজেন্টকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রিসাইডিং অফিসার মো. আহসানউজ্জামান বলেন- নৌকা, মাছ, হাতপাখা ছাড়া আর কোনো প্রতীকের প্রার্থীর এজেন্ট নেই।

ঢাকা-১৭ আসনে মোবাইল ফোন থেকে এসএমএস করে ভোট কেন্দ্রের নাম ও নম্বর জানতে না পারায় বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন ভোটাররা। দীর্ঘ লাইন ও ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বরতদের কার্যক্রমের ধীরগতির কারণে আবার কেন্দ্রে এসেও ভোট না দিয়েই ফিরে গেছেন অনেকে। ভোগান্তির অভিযোগ এনে এসব ভোটার বলেন, তিন দফা মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে ভোটের নম্বর ও কেন্দ্রের নাম জানতে পারিনি। আবার অনেকের অভিযোগ, লম্বা লাইন ও কার্যক্রমের ধীরগতির কারণে ভোট দিতে পারেননি। ঢাকা-১৭ আসনের গুলশান, বনানী, মহাখালী, তিতুমীর সরকারি কলেজসহ একাধিক কেন্দ্র ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। তবে প্রতিটি কেন্দ্রেই নানা জটিলতার কারণে ভোট দিতে পারেননি অনেকে। এসব কেন্দ্রে বিএনপির কোনো পোলিং এজেন্ট চোখে পড়েনি। ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে আন্দালিব রহমান পার্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এছাড়াও এ আসনে সিংহ মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন তৃণমূল বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।

ঢাকা-৫ আসনে ভোট কেন্দ্রে দেখা মেলেনি ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট। এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী আলহাজ নবী উল্যাহ নবী যুগান্তরকে বলেন, এজেন্টরা ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার পর তাদের আওয়ামী যুব ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা বের করে দিয়েছে। ধানের শীষে ভোট দেবে জানতে পেয়ে এমন ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। তাদের মারধর করে বিদায় করে দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভোটের আগের দিন রাতে এবং ভোটের দিন অনেক ভোট কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে নৌকায় সিল মারা হয়েছে। এ অভিযোগ অস্বীকার করে ঢাকা-৫ আসনের মহাজোট প্রার্থী আলহাজ হাবিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ চলছে। তিনি বলেন, বিএনপির মিথ্যা বলার অভ্যাস তারা তা বলবে।

ঢাকা-১২ আসনে ভোট গ্রহণ শুরুর আধা ঘণ্টার মধ্যে নৌকার সমর্থকরা কেন্দ্রগুলো নিয়ন্ত্রণে নেয়। ভোট কেন্দ্রের গোপন কক্ষেও নজরদারি করে তারা। তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর এলাকার ১০টি কেন্দ্র ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। তবে কোনো কেন্দ্রেই বিএনপির পোলিং এজেন্ট চোখে পড়েনি। এ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব। তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়া হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ভোটারদের ব্যাপক চাপ ছিল। দুপুর ১টা পর্যন্ত নৌকায় ভোট দিতে ভোটারদের চাপ দেয়া হয়। আনোয়ার হোসেন নামে এক ভোটার যুগান্তরকে বলেন, নৌকার দুই সমর্থক তার সঙ্গে গোপন কক্ষে গিয়েছিল। তারা বলে নৌকায় সিল মারতে। তারা দাঁড়িয়ে থাকায় নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য হয়েছি। ব্যালট পেপারে নিজে সিল মেরেছি। তবে দুপুরের পর ভোটার উপস্থিতি কমে গেলে আর কোনো চাপ দিতে দেখা যায়নি। বেলা ১১টার দিকে তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কেন্দ্রে দেখা যায়, বাইরে কয়েকশ’ নৌকা সমর্থক অবস্থান নিয়েছেন। কেন্দ্রের ভেতর বিভিন্ন পয়েন্টেও নৌকা সমর্থকরা অবস্থান নেন। বিভিন্ন বুথে ২-৩ জন করে অবস্থান নিয়ে নৌকায় ভোট দিতে ভোটারদের চাপ দিচ্ছিলেন। গোপন কক্ষেও নৌকা সমর্থকরা নজরদারি করছিলেন। এ সময় পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নীরব ভূমিকা পালন করেন। এখানেও বিএনপির কোনো এজেন্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি। ঢাবির ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এ মারধরের জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করা হয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কর্মী মেহেদী হাসান। সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরুর পরপরই বসুনিয়া তোরণের কাছে মেহেদীকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাকে ছাড়িয়ে নেয়। এরপর ভোট না দিয়ে মিনহাজ ও মেহেদী চলে যাওয়ার সময় নীলক্ষেত মোড়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের কাছে ছাত্রলীগের জহুরুল হক ও এফ রহমান হলের নেতাকর্মীরা তাদের পথ আগলে মারধর করতে থাকে। এতে মাথায় আঘাত পান মিনহাজ। তারা দুজনই বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, মারধরের প্রশ্নই আসে না। আমরা যেটা শুনেছি, সেটা হচ্ছে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী ও মির্জা আব্বাসের কর্মীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা-৪ আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলায় বিএনপি প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ আহত হয়েছেন। এছাড়া গণমাধ্যম কর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে পুলিশ ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সাড়া পাননি বিএনপি প্রার্থীরা।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×