সরেজমিন ঢাকা-৪

নারী ভোটারের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো

ধানের শীষ প্রার্থী সালাহউদ্দিনের ওপর হামলা

  তারিকুল ইসলাম ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নারী ভোটারের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো
রাজধানীর মানিকনগরে একটি কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি। ছবি: যুগান্তর

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসনে (শ্যামপুর-কদমতলী) নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল ৮টায় ভোট শুরুর পর হিমহিম ঠাণ্ডাকে মাফলার আর চাদরের ভাঁজে ফেলে ভোট কেন্দ্রে হাজির হন তরুণী ও প্রবীণ নারী ভোটাররা। বুথের সামনে সুশৃঙ্খলভাবে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে খুশি তারা। অন্তত ১৫টি মহিলা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র।

নারীদের পাশাপাশি পুরুষদের উপস্থিতিও ছিল অনেক। সকালে ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ শ্যামপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে তার ওপর হামলা হয়। এতে তিনি ও তার ছেলে তানভির আহমেদ রবিনসহ ৭ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় সালাহউদ্দিনকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, এ আসনে মোট ৭৭টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রেই ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট দেখা যায়নি। ভোট কেন্দ্রের সামনে তাদের দলীয় কোন নেতাকর্মী বা ধানের শীষের পোস্টার ছিল না। পোস্টার দেখা গেছে শুধু মহাজোট প্রার্থীর লাঙ্গল প্রতীকের। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ৫৯নং ওয়ার্ডের সলিমুল্লাহ সেলিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর কথা হয় ৬৫ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তারের সঙ্গে। তিনি ভোট দিতে এসেছিলেন দুই ছেলের কাঁধে ভর করে।

তিনি বলেন, ছেলেদের কাঁধে ভর করে ভোট দিতে এসেছি। বেশ ভালোভাবেই ভোট দিতে পেরেছি। ভোট দিয়ে ভালো লাগছে। হাজী শরীয়ত উল্লাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে লাঠিতে ভর দিয়ে ভোট দিতে এসেছিলেন ৭০ বছরের মাধবী সাহা। কথা হলে তিনি বলেন, অনেক বয়স হয়ে গেছে, তারপরও ভোট দিতে এসেছি প্রার্থীদের অনুরোধে। আর ভোট দিতে পেরে ভালো লেগেছে। দুপুর ১২টার দিকে মোহাম্মদবাগ আদর্শ স্কুল ও আদর্শ কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নারী ভোটারের দীর্ঘ লাইন। প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছেন লাকি আক্তার। তিনি যুগান্তরকে বলেন, প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে পরে ভোট দিয়েছি। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে।

এছাড়া পুরুষদের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতেও দীর্ঘ লাইন ছিল। তবে দুপুরের পর ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারের উপস্থিতি কমে যায়। দুপুরের পর ৫৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব জুরাইন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোটাররা এসেই সরাসরি ভোট দিচ্ছেন। সেখানে শরিফুল ইসলাম নামের এক তরুণ ভোটার যুগান্তরকে বলেন, সকালেও একবার ভোট দিতে এসেছিলাম। দীর্ঘ লাইন দেখে চলে গিয়েছি। দুপুরের পর এসে সরাসরি ভোট দিয়েছি। কোনো লাইন ছিল না। এদিকে নারী ও পুরুষ মিলে অন্তত ২৫টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেন্দ্রের বাইরে মহাজোট প্রার্থীর লাঙ্গল মার্কার পোস্টার দিয়ে ছেয়ে ফেলা হয়েছে। কেন্দ্রগুলোর সামনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের ছিল ব্যাপক উপস্থিতি। তবে দেখা যায়নি ধানের শীষ প্রার্থীর কোনো নেতাকর্মী।

প্রতিটি কেন্দ্রে লাঙ্গলের পোলিং এজেন্ট দেখা গেলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে পাওয়া যায়নি ধানের শীষের কোনো পোলিং এজেন্ট। শ্যামপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার এমএম রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন, আমাদের এ কেন্দ্রে ধানের শীষের পোলিং এজেন্ট আসেনি। তবে ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়কারী তানভির আহমেদ রবিন অভিযোগ করেন, আমরা ৭৭টি কেন্দ্রেই পোলিং এজেন্ট দিয়েছিলাম। কিন্তু ভোট শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যেই ৫৫টি কেন্দ্র থেকে আমাদের পোলিং এজেন্ট জোর করে বের করে দেয়া হয়। পরে বাকি কেন্দ্রগুলোতেও একই ঘটনা ঘটে। ক্ষমতাসীন দলের লোকজন কাউকে মারধর করে, আবার কাউকে হুমকি দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। এ বিষয়ে কেন্দ্রগুলোতে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

সালাহউদ্দিনের ওপর হামলা : সকাল সোয়া ৯টার দিকে ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ শ্যামপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের চতুর্থ তলায় ভোট দিতে গেলে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনি ও তার ছেলে তানভির আহমেদ রবিনসহ ৭ জন আহত হন। রবিন সাংবাদিকদের বলেন, তারা ভোট দিতে শ্যামপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। তারা আগেই খবর পান, কেন্দ্র থেকে তাদের পোলিং এজেন্ট বের করে দেয়া হয়েছে। একপর্যায়ে ভবনের চতুর্থ তলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় মহাজোট প্রার্থীর লোকজন তাদের ধাক্কা দেয় ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে আমার বাবা সালাহউদ্দিনসহ কয়েকজন আহত হন। বাবাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তার অবস্থা ভালো নয়।

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার এমএম রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে ১০-১২ জন লোক ছিলেন। তিনি কেন্দ্রের চতুর্থ তলার ৪০৮ নম্বর কক্ষে গিয়ে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে জানতে চান তার কোনো পোলিং এজেন্ট নেই কেন। পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করলে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার তা অস্বীকার করেন। তিনি (সহকারী প্রিসাইডিং) পোলিং এজেন্ট নিয়ে আসার জন্য বলেন। প্রিসাইডিং অফিসার আরও বলেন, দায়িত্ব পালনরত পুলিশের এএসআই মো. আরিফের সঙ্গে একপর্যায়ে দুর্ব্যবহার করেন সালাহউদ্দিন। পরে অন্য কক্ষেও যান তিনি।

এ ব্যাপারে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা দাবি করেন, সালাহউদ্দিনের অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। তার (বাবলা) কর্মীকে লাথি মারতে গিয়ে সিঁড়িতে পড়ে সালাহউদ্দিন আহত হয়েছেন।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×