ইকোনমিক টাইমস

শেখ হাসিনাকে বাংলার রানী দেখতে চায় ভারত

  যুগান্তর ডেস্ক ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেখ হাসিনাকে বাংলার রানী দেখতে চায় ভারত
রাজধানীর সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বিজয় চিহ্ন দেখাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশে বোন শেখ রেহানা। ছবি: যুগান্তর

বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রভাব বরাবরই থাকে বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু এবারের নির্বাচন তার ব্যতিক্রম। প্রভাব-প্রপাগান্ডা কোনোটাই ছিল না। আর এ নিয়ে তেমন কোনো উত্তাপও দেখা যায়নি। অতীতের মতো ভারতবিরোধী অনুভূতি ছড়ানোর কোনো চেষ্টা করতেও দেখা যায়নি বিরোধী দল বিএনপিকে।

ভারতকেও এবার বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। দেশটি শুধু ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচন দাবি করেছে। তবে ভেতরে ভেতরে শেখ হাসিনাকে ‘বাংলার রানী’ হিসেবে দেখতে চায় ভারত। আর এই চাওয়াটাও শুধু কূটনৈতিক স্বার্থেই। ভোটের দিন রোববার ভারতের ইকোনকিম টাইমস পত্রিকা ভারত কেন শেখ হাসিনার জয় প্রত্যাশা করে সেই সংক্রান্ত যুক্তি তুলে ধরেছে।

এসিড টেস্ট : বাংলাদেশের ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য ছিল এসিড টেস্ট। গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনের দিকে তীক্ষ্ম নজর ছিল ভারতের। তালেবান ও পাকিস্তানপন্থী ইসলামী সন্ত্রাসবাদ উত্থানের কারণে ভারত খুবই চিন্তিত। কাশ্মীরে সন্ত্রাস দমনে নতুন বছরে নিরাপত্তা জোরদার করছে দেশটি। সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশে টানা দু’বার ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা সরকার জোরালো ভূমিকা রাখায় দেশটিকে প্রশংসা করে আসছে ভারত। জামায়াতের প্রার্থীদের দিকে বিশেষ নজর রেখেছিল দেশটি। কারণ অধিকাংশ জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৫০-১০০ কিলোমিটারের মধ্যে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতীয় অঞ্চলের একটি জঙ্গিগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াত নেতাদের সমর্থন দিয়ে আসছে বলেই সম্প্রতি তথ্য দিয়েছে সরকার।

হাসিনার প্রভাব : ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জাতিগত জঙ্গিবাদ হ্রাস পেয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সব গেরিলা এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইনটেলিজেন্স (আইএসআই) সমর্থিত ইসলামী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে (২০০১-২০০৬) বাংলাদেশ থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো। শেখ হাসিনার জঙ্গিবাদবিরোধী কড়া নির্দেশের কারণে উলফা ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অব বোরোল্যান্ড (এনডিএফবি) জঙ্গিগোষ্ঠীর নেতারা একে একে আটক হয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোও বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কারণে সশস্ত্র হামলায় অব্যাহতি দিয়েছে।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : পাকিস্তানি জঙ্গি ও চীনের সঙ্গে বাণিজ্য প্রতিযোগিতা- উভয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়। দু’পক্ষের বিদ্রোহের মুখোমুখি হওয়াও তাদের জন্য সহজ নয়। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে হাসিনার জিরো টলারেন্সনীতি এবং ‘ভারতের শত্র“দের’ তার দেশে অনুমোদন না দেয়ার সিদ্ধান্তে তিনি অটল থাকায় কার্যত লাভবান হচ্ছে ভারত। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের পরাজয় না হলেও বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গিরা পরাজিত হচ্ছে। এতে সীমান্তঘেঁষা ভারতীয় জঙ্গিদের শক্তি কিছুটা হলেও হ্রাস পাচ্ছে।

ভারতীয়দের আস্থা বাড়ছে : সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজের এক জরিপ বলছে, ভারতের প্রাচীন বন্ধুরাষ্ট্র রাশিয়ার চেয়ে ভারতীয়দের কাছে বাংলাদেশের প্রতি আস্থা বহুগুণ বেড়েছে। এটা শুধু শেখ হাসিনার জন্মপরিচয়ের কারণেই। তার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অসমিয়াসহ ভারতের ৮টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এতেই ভারতের রাজ্যে রাজ্যে তার জনপ্রিয়তা আঁচ করা যায়।

এ ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অর্থনৈতিক উত্থান নিশ্চিতের জন্য বাংলাদেশের বন্দর ও ভূমি ব্যবহার করে ভারতের জন্য তাদের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি বাস্তবায়ন করা সহজ হচ্ছে। ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি হল সেই বিশেষ কর্মকৌশল, যার মাধ্যমে ভারত আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি জাপান, ভিয়েতনাম ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তিতে নিজেদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চায়।

ভারতের খুশি : বাংলাদেশের প্রাক-নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে ভালোই শোরগোল ফেলে দিয়েছিল পশ্চিম দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র। অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর তথ্যকে উপেক্ষা করছেন, সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে নৃশংসভাবে হত্যার পরও নিশ্চুপ রয়েছেন। বরং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের রাজমুকুট উদ্ধার করতে সহায়তা করেছেন। সেখানে বাংলাদেশের অসাধারণ অর্থনৈতিক ও মানব উন্নয়নের অগ্রপথিক শাসক শেখ হাসিনার জয়ে ভারত কেন খুশি হবে না?

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×