সরেজমিন ঢাকা ও চট্টগ্রাম

ইভিএমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিড়ম্বনায় ভোটার

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০১:০২ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইভিএমে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। ছবি: যুগান্তর
ইভিএমে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। ছবি: যুগান্তর

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণের সময় ফিঙ্গার প্রিন্ট মেলাতে বিপত্তিতে পড়তে হয়েছে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের। একজন ভোটারের ফিঙ্গার প্রিন্ট মেলাতে ৫-৬ বার করে চেষ্টা করতে হয়েছে।

অনেক ক্ষেত্রে বারবার চেষ্টার পরও মেলানো সম্ভব হয়নি। এমন ভোটারদের ক্ষেত্রে নির্বাচনী কর্মকর্তারা উপস্থিত প্রার্থীর এজেন্টদের সম্মতিক্রমে নির্বাচনী কর্মকর্তার ফিঙ্গার প্রিন্টের সহায়তায় ভোট প্রদানের সুযোগ করে দেয়া হয়।

বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, লেদ বা নির্মাণ শ্রমিক, রান্না ঘরে বাটা-ঘষার কাজ করেন এমন মহিলাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট মেলানো সম্ভব হয়নি। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সহায়তায় এমন প্রায় ২০ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে পেরেছেন।

ইভিএমে পরিচালিত ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-৬ আসনের ভোট কেন্দ্রগুলো ঘুরে এমন চিত্র লক্ষ করা গেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো মোট ছয়টি আসনের সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকার দু’টি আসন রয়েছে। ঢাকা-১৩ আসনে নৌকার প্রার্থী সাদেক খান এবং ঐক্যফ্রন্টের আবদুস সালাম। ঢাকা-৬ আসনে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করেন ফিরোজ রশিদ এবং ঐক্যফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সুব্রত চৌধুরী। চট্টগ্রাম-৯, রংপুর-৩, খুলনা-২ ও সাতক্ষীরা-২ এ ইভিএমে ভোট হয়েছে।

রোববার সকাল ৯টা ১৯ মিনিটে ঢাকা-১৩ আসনের বছিলা উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের দুটি দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইভিএমে কীভাবে ভোট দিতে হয় সেসব বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।

এই কেন্দ্রের আবুল হাসনাত নামের এক ভোটার জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এসে অনেক চেষ্টা করেও আমার ফিঙ্গার প্রিন্ট মেলানো যায়নি, পরে ভোট না দিয়ে ফিরে যাই। পরে সাড়ে ৯টার দিকে পুনরায় আসি, অনেক চেষ্টার পর ফিঙ্গার প্রিন্ট মেলে এবং ভোট দেই।

এ কেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার মনিরুল ইসলাম বলেন, স্বল্প সময়ে স্বচ্ছভাবে ইভিএমে ভোট হচ্ছে। ভবিষ্যতে এর পরিধি বাড়ালে ভালো হবে। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে মোহাম্মদপুর বাঁশবাড়ি বরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র গিয়েও ভোটারদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যায়।

এই কেন্দ্রের পোলিং অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, ইভিএমে ভোটিং সিস্টেম খুবই ভালো। তবে ফিঙ্গার প্রিন্ট নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কেননা, অনেক বয়স্ক লোক এবং শ্রমিকদের ফিঙ্গার প্রিন্ট মেলাতে কষ্ট হচ্ছে।

অনেকের মেলানো যাচ্ছে না। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে আদাবর বেগম নূর জাহান মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোটারদের দীর্ঘসারি। কয়েকটি বুথ ঘুরে এবং নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইভিএমে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ চলছে।

এ কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার শরিফা বেগম বলেন, যাদের অনেক চেষ্টার পরও ফিঙ্গার প্রিন্ট মেলানো সম্ভব হয়নি, তাদের ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এসব ক্ষেত্রে ২০ ভাগ ফিঙ্গার প্রিন্ট দেয়ার অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

দুপুর ১২টায় পুরান ঢাকার ওয়ারির মনিজা রহমান স্কুল কেন্দ্রের সামনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মানুষের জটলা। এসব ভোটার ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে চাইলেও ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। কিছুক্ষণ পরপর কয়েকজন লোককে ভেতরে ঢোকার অনুমিত দিচ্ছিলেন লাঙ্গল প্রতীকের ব্যাজ ঝুলানো কয়েকজন তরুণ।

এ প্রসঙ্গে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. রফিকুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, সকাল থেকে কয়েকবার গেটে গিয়ে পুলিশ দিয়ে ভোট গ্রহণ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছি। এখন আবারও যদি সেই অবস্থা হয় তাহলে কী করব বলুন? তিনি বলেন, সেখানে পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও রয়েছে। দেখা যাক, প্রয়োজনে আমি আবারও পুলিশকে বলব।

চট্টগ্রাম-৯ :

চট্টগ্রামে ইভিএমে ভোট দিতে গিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভোটাররা। তবে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট দিয়ে কেউ কেউ আবার সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। ফিঙ্গার প্রিন্ট ম্যাচিং না হওয়া ও যান্ত্রিক ক্রুটি দেখা দেয়ায় ভোট দিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার কারণে কেউ কেউ বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কোনো কোনো ভোট কেন্দ্রে ইভিএম মেশিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা কাজ করেনি। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন কেন্দ্রে অবস্থিত দুটি কেন্দ্রের দুটি বুথের ইভিএম দুপুর ২টা পর্যন্ত চালু করা সম্ভব হয়নি।

এর ফলে দুটি বুথে দুপুর পর্যন্ত ভোট বন্ধ ছিল। এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জামালখান এলাকার ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় মহিলা কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে এনায়েতবাজার মহিলা কলেজের বিবিএ শিক্ষার্থী মুনতাসেরা মাইশা বলেন, ‘লাইনে ১০-১৫ মিনিট দাঁড়ানোর পর ভোট দিতে পেরেছি।

মেশিনে ভোট দিতে কোনো অসুবিধা হয়নি। কাগজের ব্যালটের পরিবর্তে ইভিএম পদ্ধতি অনেক সুবিধাজনক।’ জামালখান এলাকার শাহ ওয়ালি উল্যাহ ইন্সটিটিউট পুরুষ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ফারুক হাসান জানান, ভোটারদের কারও কারও ফিঙ্গার প্রিন্ট মিলছে না।

তবে অন্যান্য তথ্য মিল থাকায় তাদের নিয়ম অনুযায়ী ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠানের মহিলা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার হাসিনুর রহমান জানান, কিছু কিছু ভোটারের ফিঙ্গার প্রিন্ট চিনতে পারছিল না ইভিএম মেশিন। একটি ইভিএম প্রথমে স্মার্টকার্ড পাচ্ছিল না। পরে এটা ঠিক হয়েছে। এ ছাড়া ভোটারদের আর কোনো সমস্যা হয়নি।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×