খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না স্বজন ও নেতারা : রিজভী

গণতন্ত্রকে বলি দিয়ে ইসি ‘পিঠা উৎসব’ করেছে

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি গণতন্ত্রকে দাফন করতে খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটকে রেখে জুলুমের পর জুলুম চালিয়ে যাচ্ছে। বিনাচিকিৎসা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং কারাবিধি অনুযায়ী নিকটজনদের সাক্ষাৎ করতে নানা ফন্দি-ফিকির করে বিলম্ব করা হচ্ছে। মূলত সাত দিন পরপর আত্মীয়-স্বজনদের দেখা করার কথা। অথচ খালেদা জিয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ ১৫ দিন পরপর সাক্ষাতের বিধান করে। এবার ২০-২১ দিন অতিবাহিত হলেও দেশনেত্রীর সঙ্গে তার আত্মীয়-স্বজনদের সাক্ষাৎ করতে দেয়া হয়নি। দলের সিনিয়র নেতা ও দেশনেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা গত চার মাস যাবৎ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৩৬ বছর রাজনৈতিক জীবন পূর্ণ হল উল্লেখ করে রিজভী বলেন, দেশি-বিদেশি চক্র এ মহান জাতীয়তাবাদী নেত্রীর উত্থান সহ্য করতে পারেনি। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে যিনি আগলে রেখেছিলেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো, তাকে পর্যুদস্ত করার জন্য চক্রান্তকারীরা চক্রান্তের জাল বুনতে থাকে। ভোটারশূন্য নির্বাচনে বিদেশি মদদপুষ্ট অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী শক্তি গণতন্ত্রকে দাফন করতে খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটকে রেখে জুলুমের পর জুলুম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসাবে দলে যোগ দেন। ৩৬ বছর রাজনৈতিক জীবনে দেশ ও জাতির প্রতি তার অবদানের জন্য আমরা আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমরা তার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

গণতন্ত্রকে বলি দিয়ে নির্বাচন কমিশন ‘পিঠা উৎসব’ করেছে বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমনকি আদালতকে ব্যবহার করে সরকার একতরফাভাবে অগণতান্ত্রিক মহাভোট ডাকাতি, মহাভোট জালিয়াতির নির্বাচন করেছে। এ ভোটের একটা পার্ট হচ্ছে নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশন ও কমিশনাররা। জনগণ ও গণতন্ত্রকে বলি দিয়ে, হত্যা করে তারা (নির্বাচন কমিশন) পিঠা উৎসব করেছে। আদিম মানুষেরা পশু শিকার করার পর যেমন উৎসব করে তেমনি গণতন্ত্রকে হত্যা করে তারা সেই উৎসব করেছে। এরা নির্লজ্জ বলেই এ কাজটি করতে পারছে। ওদের তো কোনো জবাবদিহিতা নেই।

বিএনপির এ নেতা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে মহাজালিয়াতির নির্বাচনের পর অবৈধ শাসকগোষ্ঠী আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মিথ্যা জয়ের গরিমায় ধরাকে সরাজ্ঞান না করার পর্যায়ে তারা পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, দেশটা এখন জনগণের নয়। দেশ এখন আওয়ামী লীগের একক তালুকদারিতে পরিণত হয়েছে। তাই সরকার বিদ্বেষ ও উগ্রতা দিয়ে খালেদা জিয়াকে জুলুম ও নাজেহাল করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। বেগম জিয়ার ওপর সরকারি জুলুমের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ আঁচ করতে না পারলেও তা যে কোনো মুহূর্তে প্রবল ঘূর্ণিতে টর্নেডোর আঘাত আসবে তা তারা টের পাচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, আবেদ রাজা, সুরঞ্জন ঘোষ প্রমুখ।

ঘটনাপ্রবাহ : কারাগারে খালেদা জিয়া

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×