ঘাটতি বাজেট

সঞ্চয়পত্র-জিপিএফ থেকে অস্বাভাবিক ঋণ গ্রহণ

চ্যালেঞ্জের মুখে ঋণ ব্যবস্থাপনা

  মিজান চৌধুরী ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সঞ্চয়পত্র-জিপিএফ থেকে অস্বাভাবিক ঋণ গ্রহণ
ফাইল ছবি

চলতি অর্থবছরে (২০১৮-১৯) সোয়া লাখ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট পূরণে সরকার সঞ্চয়পত্র ও সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল (জিপিএফ) থেকে অস্বাভাবিক হারে ঋণ নিচ্ছে। জিপিএফ হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের আয়ে গঠিত তহবিল। একজন চাকরিজীবী তার আয়ের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত এ ফান্ডে জমা রাখতে পারেন। বিনিময়ে সরকার সুদ প্রদান করে।

এ দুটি খাত থেকে মাত্রাতিরিক্ত টাকা নেয়ায় ঋণ ব্যবস্থাপনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি বেশি সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে আর্থিক খাতে চাপে পড়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সরকারের নগদ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে বিষয়টি উঠে আসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারের ঋণ ও নগদ অর্থ প্রবাহের গতিবিধি নিয়ে সম্প্রতি অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদারের সভাপতিত্বে বৈঠক হয়। সেখানে অর্থসচিব বলেন, ঋণ ব্যবস্থাপনার মূল সমস্যা হচ্ছে জাতীয় সঞ্চয়পত্র। এ খাতে বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। তাই ঋণ ব্যবস্থাপনার দিক থেকে সঞ্চয়পত্র একটি মারাত্মক চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন ও ডাটা বেইজ হলে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে এর লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে।

জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) মো. জাফর উদ্দীন যুগান্তরকে বলেন, বাজেট বাস্তবায়নে খুব বেশি সমস্যা হবে না। জাতীয় নির্বাচন চলতি বাজেট বাস্তবায়নে বড় ধরনের কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। ফলে ঘাটতি বাজেট নির্ধারিত লক্ষ্যের মধ্যেই থাকবে। আর ঘাটতি পূরণে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ সঞ্চয়পত্র কিনে বেশ মুনাফা পাচ্ছে।

জানা যায়, চলতি অর্থবছরের ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার মধ্যে ঘাটতি থাকছে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। এ ঘাটতি পূরণ করতে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে ২৬ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য স্থির করা হয়। কিন্তু সরকারের নগদ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এ তিন মাসেই মোট লক্ষ্যমাত্রার ৫১ শতাংশ বা ১৩ হাজার ৪১২ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে।

সর্বশেষ ডিসেম্বরের হিসাবে সঞ্চয়পত্র বিক্রির হার আরও অনেক বেশি হয়েছে। গত অর্থ বাজেটে একই সময়ে ১২ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ঋণ নেয়ার ফলে সরকারকে এ খাতে একই সময়ে সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।

অপরদিকে ঘাটতি মোকাবেলায় অর্থবছরের প্রথম দু’মাসে জিএফপি থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ১৩ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। যদিও গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাত থেকে এক টাকাও ঋণ নেয়া হয়নি। উল্টো সরকার এ খাত থেকে আগের নেয়া ঋণ পরিশোধ করে ১২ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা।

জানা যায়, সরকার ঋণ নেয়ার একটি অন্যতম উৎস হচ্ছে সঞ্চয়পত্র খাত। কিন্তু সরকার এ খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ করলেও এটি নির্ভর করে সাধারণ মানুষের ওপর। কারণ আজকে কত টাকার সঞ্চয়পত্র বেচাকেনা হবে সেটি সরকারও জানে না। ফলে এ খাত পুরোটাই সাধারণ মানুষের ওপর নির্ভরশীল।

পাশাপাশি ব্যাংকের আমানতের সুদের হার কমে যাওয়া, শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের পরিবেশের অভাব ও বিদ্যমান কর নীতির কারণে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের প্রবণতা বড়ছে। এ কারণেই অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি। এটি শেষ পর্যন্ত সরকারের অর্থনৈতিক খাতে সমস্যার সৃষ্টি করবে।

এদিকে বাজেট ঘাটতি পূরণ করতে এ বছর সরকারের সাধারণ তহবিল থেকে বেশি মাত্রায় ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে। এর অন্যতম কারণ একই সময়ে বৈদেশিক সহায়তা ও অনুদান কম পাওয়া। মূলত ঘাটতি বাজেট মেটাতে সরকার বিদেশ থেকেও ঋণ ও অনুদান গ্রহণ করে।

কিন্তু ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ শতাংশ কম গ্রহণ করেছে। এ সময় বৈদেশিক ঋণ নেয়া হয় ২ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে এ খাত থেকে ঋণ নেয়া হয়েছিল ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

সূত্র আরও জানায়, বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় প্রথম তিন মাসে ব্যাংকিং খাত থেকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি ঋণ নেয়া হয়েছে। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে ঋণ নেয়ার পরিমাণ হয়েছে ৬ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ট্রেজারি বিল ২ হাজার ১২৪ কোটি টাকা এবং বন্ডের মাধ্যমে নেয়া হয় ৪ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যাংক ঋণ নেয়া হয়েছিল ১ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা।

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৮

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×