সুবর্ণচরে গণধর্ষণ

রুহুলের নেতৃত্বেই ঘটেছে, স্বীকারোক্তি ছয়জনের

আসামিদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ

  যুগান্তর রিপোর্ট, নোয়াখালী ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রুহুলের নেতৃত্বেই ঘটেছে, স্বীকারোক্তি ছয়জনের
রুহুলের নেতৃত্বেই ঘটেছে, স্বীকারোক্তি ছয়জনের

সুবর্ণচর উপজেলায় গৃহবধূর গণধর্ষণ মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সাত আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি পুলিশ।

সাতজনের মধ্যে ছয়জন গৃহবধূকে গণধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। রুহুল আমিনের নেতৃত্বেই সব ঘটেছে বলে তারা স্বীকার করেছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন, আওয়ামী লীগ কর্মী বাসু, বাদশা, হাছান আলী বুলু, বেচু, সোহেল, স্বপন ও জসিম উদ্দিনসহ সাত আসামিকে সোমবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি পুলিশ।

জেলা ডিবি অফিসে দফায় দফায় চলছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ। সাতজনের মধ্যে ছয়জন গৃহবধূকে গণধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। রুহুল আমিনের নেতৃত্বেই ঘটনাটি ঘটেছে বলেও তারা স্বীকার করে।

ডিবির ওসি আবুল খায়ের যুগান্তরকে জানান, গ্রেফতার ১০ জনের মধ্যে সাতজনকে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। সোমবার থেকে দু’দিন ধরে দফায় দফায় আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রোববার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মঙ্গলবার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে গৃহবধূর স্বামী যুগান্তরকে জানান, মামলা তুলে নিতে রুহুল আমিনের ক্যাডার ও একই গ্রামের আবদুর রব, জনু, কাজল, নূর ইসলাম, সোহাগ, সেলিম ও মহিউদ্দিনসহ ১২-১৩ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে ছেলে-মেয়েকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। থানায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ করলেও আমলে নেয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, চরজব্বর থানার ওসি মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে অন্য আসামিদের গ্রেফতার করছেন না। পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করায় মামলা ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক যুগান্তরকে জানান, গৃহবধূর সুচিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্রুত নেয়া দরকার।

উল্লেখ্য, ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন রাতে সুবর্ণচরের মধ্যবাগ্যা গ্রামে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে রেখে চল্লিশোর্ধ এক নারীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।

ওই নারীর অভিযোগ, ভোটের সময় নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এরপর রাতে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনের ‘সাঙ্গপাঙ্গরা’ বাড়িতে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে।

চরজব্বর থানায় ওই নারীর স্বামীর করা মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা তার বসতঘরে ভাংচুর করে, ঘরে ঢুকে বাদীকে পিটিয়ে আহত করে এবং সন্তানসহ তাকে বেঁধে রেখে দলবেঁধে ধর্ষণ করে তার স্ত্রীকে।

মামলার এজাহারে নাম না থাকলেও ধর্ষণের শিকার ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে চরজুবলী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য রুহুল আমিন এবং তার ‘প্রধান সহযোগী’ হাসান আলী বুলুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×