গত বছর মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক: আসক

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত বছর মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক: আসক

অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের ক্ষেত্রে অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকলেও ২০১৮ সালের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল চরম উদ্বেগজনক।

দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বেসরকারি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এক পর্যবেক্ষণে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার পর্যবেক্ষণের তথ্য প্রকাশ করেন আসকের উপ-পরিচালক নীনা গোস্বামী। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে আইনশৃঙ্খলা বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এবং তাদের হেফাজতে মোট ৪৬৬ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ মে থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ২৯২ জন। ২০১৭ সালে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ১৬২ জন নিহত হয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ, গুম ও নিখোঁজ হয়েছেন ৩৪ জন। এর মধ্যে ১৯ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশই বিভিন্ন মামলায় আটক রয়েছেন। গত বছর জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে অন্তত ৪৭০টি সহিংসতার ঘটনায় ৩৪ নিহত হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৯ জন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক। এর বাইরে বিএনপির চারজন ও একজন আনসার সদস্যের পাশাপাশি ১০ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।

আসকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, গত বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ও অন্যান্য দলের এবং নিজেদের মধ্যে কোন্দলের জেরে ৭০১টি রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং সাত হাজার ২৮৭ জন আহত হয়েছেন বলা হয়। এতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে দেশের কয়েকটি স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

নারী নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, গত বছর সারাদেশে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৩২ জন। তাদের মধ্যে ধর্ষণপরবর্তী হত্যার শিকার হয়েছেন ৬৩ জন, ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ৭ জন। নির্বাচনের রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের এক গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের বিষয়টিও এসেছে প্রতিবেদনে।

সংস্থার জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক আবু আহমেদ ফয়জুল ফরিদ বলেন, গত বছর গৃহকর্মী নির্যাতন ও এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে ৫৪টি আর যৌতুকের কারণে ও পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৯৫ জন নারী। এছাড়া গত বছর ২০৭ জন সংবাদিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সন্ত্রাসী, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা শারীরিক নির্যাতন ও হামলার শিকার হয়েছেন। হত্যার শিকার হয়েছেন তিনজন সাংবাদিক।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এক হাজার ১১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২০১৮ সালে। এদের মধ্যে ৪৪৪ জন শিশু যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের শিকার হয়। গায়েবি মামলার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে আসে। একটি পত্রিকার বরাত দিয়ে বলা হয়, ২০১৮ সালের শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানায় পুলিশ বাদী হয়ে ৫৭৮টি নাশকতার মামলা করেছে। এসব মামলার তথ্য অনুযায়ী পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ৯০ বার। অথচ বাস্তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি বলে পত্রিকাটির বরাত দিয়ে বলা হয়।

২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় শ্রমিক নিহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়। বেসরকারি সংগঠন সেইফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী গেল বছর কর্মক্ষেত্রে মোট ৪৮৪টি দুর্ঘটনায় ৫৯২ শ্রমিক মারা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৮ সালে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা হয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে নারী শিক্ষার হার। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি অব্যাহত আছে।

আসকের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা সংবাদে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কমিশন গঠনের দাবি জানান। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন দেশে এসব হত্যাকাণ্ড হোক তা আমরা চাই না। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এ বছর অনেক বেশি হয়েছে। নারী ও শিশু ধর্ষণসংক্রান্ত নির্যাতনও অনেক বেড়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×