ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ: স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ বন্ধের ষড়যন্ত্র!

প্রায় ৮ বছর ধরে পদ শূন্য * বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে নির্বাচিতদের বাদ দিয়ে এডহক কমিটি গঠনের পাঁয়তারা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ
ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ৮ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়েই চলছে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ। নির্বাচিত কমিটি কার্যকর না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিতে পূর্ণকালীন অধ্যক্ষ নিয়োগ করা যায়নি।

অবশ্য মেয়াদের শেষের দিকে এসে বর্তমান নির্বাচিত কমিটি অধ্যক্ষের পদ পূরণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষকদের একটি অংশের কারণে সেই উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন স্বার্থান্বেষী অভিভাবকদের একটি অংশও।

উভয়ে মিলে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের পাশাপাশি কমিটিই ভেঙে দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির (জিবি) সদস্য আতাউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত কমিটির নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা (জিবি) স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করি। সে অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং প্রার্থীদের আবেদন গ্রহণ করা শেষ হয়েছে। কিন্তু আবার মন্ত্রণালয়েরই এক নির্দেশে সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করতে হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের নেপথ্যে কারণ দুটি হচ্ছে, ‘ভারপ্রাপ্ত’র নামে অধ্যক্ষের পদ দখল এবং নির্বাচিত জিবির পরিবর্তে অনুগত সদস্য দিয়ে এডহক কমিটি গঠন। শিক্ষকদের ওই অংশ চায় না নির্বাচিত জিবি গঠিত হোক। কেন না, দুর্বল এডহক কমিটি থাকলে তাদের প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের নামে ভর্তি বাণিজ্য, কোচিং বাণিজ্য, খাবার সরবরাহ, ড্রেস সরবরাহসহ অন্যান্য বাণিজ্যে সুবিধা হয়।

এ কারণে ইতিমধ্যে সুজন নামে একজন অভিভাবককে দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাতে বর্তমান কমিটি ভেঙে এডহক কমিটি গঠনের দাবি তোলা হয়েছে। আর রহস্যজনক কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওই চিঠি আমলে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এডহক কমিটির দাবি তোলার একমাত্র কারণ হচ্ছে অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা। কেন না, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা অনুসারে কেবল নির্বাচিত জিবিই স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ করতে পারে। সে কারণে বর্তমান জিবি ভেঙে দিতে পারলে আর স্থায়ী নিয়োগ করা সম্ভব হবে না।

এ কারণে এ কমিটি ভেঙে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ষড়যন্ত্রের এখানেই শেষ নয়, বর্তমান জিবির মেয়াদ মাত্র সাড়ে ৩ মাস বাকি আছে। নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস আগে জিবি সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিন মাস আগে ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু এ ব্যাপারে জিবিতে থাকা শিক্ষক প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেই বলে জানিয়েছেন জিবিরই কয়েক সদস্য।

জানা গেছে, বর্তমান কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ৯ বছর পর ২০১৭ সালের ২২ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯ মে কমিটির প্রথম সভা বসে। সর্বশেষ ২০১০ সালে নির্বাচিত জিবি কমিটি ছিল। তখন ওই কমিটি আজিম গার্লস স্কুল ও কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগমকে নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে ভিকারুননিসার স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়। তিনি ২০১১ সালের জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ী অধ্যক্ষ আর পায়নি। অথচ এই জিবির কাছে সবার প্রত্যাশা ছিল পূর্ণকালীন অধ্যক্ষ।

প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন সাধারণ শিক্ষক যুগান্তরকে জানান, স্কুলটিতে যেসব ‘বাণিজ্য’ চলে তার শীর্ষে আছে অবৈধ ভর্তি। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িত স্বার্থান্বেষী মহল ভর্তিবাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। গত দু’বছর বিভিন্ন শ্রেণীতে অন্তত সাড়ে ৪শ’ ছাত্রী এই প্রক্রিয়ায় ভর্তি করা হয়। এ বছরও প্রতিষ্ঠানটিতে একই ভাবে ছাত্রী ভর্তির পাঁয়তারা চলছে। দু’একদিনের মধ্যে ওই ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হতে পারে।

সূত্রটি জানায়, মূলত অবৈধ ভর্তির সুবিধা দিয়েই প্রতিষ্ঠানটির ভেতরের শক্তি বিভিন্ন মহল ম্যানেজ করে থাকে। এ কারণে চলতি সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির দিকে নজর রাখতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) অনুরোধ করেছেন সাধারণ শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×