চালে তেজিভাব কমেনি বেড়েছে সবজির দাম

ডিম ও ব্রয়লার মুরগি কমতির দিকে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজার দর

নতুন করে দাম না বাড়লেও এখনও অস্থির চালের বাজার। এক সপ্তাহ আগে সব ধরনের চাল কেজিতে ৪-৬ টাকা বাড়লেও সেই বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল। তবে কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে।

আদার দামও বাড়তির দিকে। তবে কমতে শুরু করেছে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম। মাছ-মাংস, ডাল, ভোজ্যতেলসহ বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল আছে। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ ও নয়াবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেল।

বাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি কেজি মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৫৪-৫৬ টাকা, দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ৪৮-৫০ টাকা। বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৪২-৪৪ টাকা, দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৩৮-৪০ টাকা। নাজিরশাইল ৫৫-৫৬ টাকা, ২ সপ্তাহ আগে ছিল ৫২ টাকা। মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪০ টাকা, দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৩৪-৩৬ টাকা।

মালিবাগ বাজারে কথা হয় খুচরা চাল বিক্রেতা খালেক রাইস এজেন্সির মালিক দিদার হোসেনের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনের আগে নিয়মিত বাজার তদারকি হতো। মিল পর্যায় থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা বাজারে নিয়মিত মনিটরিং চলত। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের পর বাজার তদারকি হচ্ছে না। ফলে মিল মালিকরা সুযোগ বুঝে এক হয়ে সব ধরনের চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বেশি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে।

একই বাজারে মকবুল ইসলাম নামের অপর এক ক্রেতা যুগান্তরকে বলেন, ভাই গার্মেন্টে কাজ করি। ১২ হাজার টাকা বেতন পাই। ঘর ভাড়া দিয়ে অল্প টাকা থাকে। ওই টাকা যদি চাল কেনার পেছনে চলে যায় তাহলে সংসারের অন্য খরচ বহন করতে আমাদের মতো মানুষের হিমশিম খেতে হয়। যথাযথভাবে বাজার মনিটরিং দরকার। যাতে কেউ অযথা চালের দাম বাড়াতে না পারে। অন্যায়ভাবে কেউ দাম বাড়ালে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

সপ্তাহের ব্যবধানে একাধিক সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ৫-১০ টাকা। বেগুনের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫০ টাকা বিক্রি করছে বিক্রেতা। প্রতি কেজি শসা ৫ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, পটোল ৭০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, শিম ৪০-৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজিদরে, গত সপ্তাহেও ছিল ৬০ টাকা।

পেঁপে আকারভেদে ৩০-৪০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, দেশি গাজর ৬০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, প্রতি পিস বাঁধাকপি আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা, প্রতি পিস ফুলকপি ৩০-৩৫ টাকায়। চিচিঙ্গা ৪৫ টাকা ও মুলা ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতা এক আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা, কাঁচাকলা হালি ৩০ টাকা, লাউ প্রতি পিস আকারভেদে ৫০-৬০ টাকা।

এছাড়া কচুরছড়া ৪০ টাকা ও লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। এদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে আদার দাম। শুক্রবার প্রতি কেজি আদা মানভেদে বিক্রি হয় ১০০-১৩০ টাকা, এক সপ্তাহ আগে ছিল ৯০-১২০ টাকা।

কমেছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম। শুক্রবার প্রতি হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হয় ৩২-৩৪ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৩৪-৩৫ টাকা। এ ছাড়া ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০ টাকা কেজিদরে, আগের সপ্তাহে ছিল ১৩০-১৩৫ টাকা।

মাছের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি পাঙ্গাশ বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা। কৈ মাছ প্রতি কেজি ১৬০-২০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৬০ টাকা, রুই ২৮০-৩০০ টাকা, ট্যাংরা ৩৫০-৪৫০ টাকা এবং শিং ৩০০-৪০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। চিংড়ির কেজি ছিল ৫০০-৯০০ টাকা। বাজারে পাকিস্তানি কক ২৩০-২৪০ টাকা।

এছাড়া দেশি মুরগি বিক্রি হয় ৪০০-৪৫০ টাকা। গরুর মাংসের কেজি ছিল ৪৮০-৫০০ টাকা, খাসির মাংস ৭৮০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ৬৫০ টাকা বিক্রি হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×