তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ নির্বাচন ছাড়াই উদ্যোগ পুনর্গঠনের

  সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙ্গামাটি ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তিন পার্বত্য জেলা

নির্বাচন ছাড়াই পার্বত্য তিনটি জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আইনে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও দলীয় লোক দিয়েই পরিষদ চালিয়ে আসছে ক্ষমতাসীনরা। এরই মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে নতুন সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার আবারও পরিষদ তিনটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

সূত্র জানায়, ত্রিশ বছর হল তিনটি পরিষদে কোনো নির্বাচন হচ্ছে না। এ কারণে জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা কাজ করছে। আইন অনুযায়ী তালিকাভুক্ত ভোটারদের দিয়ে প্রত্যক্ষ ভোটে তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন হওয়ার কথা। কিন্তু তা না হয়ে সরকারদলীয় লোক মনোনয়ন দিয়ে পুনর্গঠন হয়ে আসছে তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ।

২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেশের মোট ৬৪ জেলার মধ্যে ৬১ জেলা পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে গত ত্রিশ বছরে কোনো নির্বাচন দেয়া হয়নি। তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদে প্রথম ও শেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৯ সালের ২৫ জুন। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। নির্বাচন অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনগণের তীব্র দাবি উপেক্ষা করে সরকার পরিষদ তিনটি পরিচালনা করে আসছে নিজেদের লোক মনোনয়ন দিয়ে।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য শান্তিচুক্তির শর্তে প্রবর্তিত আইনে বলা আছে, পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে প্রণীত পৃথক ভোটার তালিকায় রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ১ জন চেয়ারম্যান এবং ৩৩ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন।

পরিষদ আইনে বলা আছে, প্রত্যেক পরিষদে সংশ্লিষ্ট জেলার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে উপজাতিদের মধ্য থেকে ১ জন চেয়ারম্যান ও ২০ জন সদস্য, অ-উপজাতি ১০ জন এবং সংরক্ষিত তিনটি মহিলা আসনে ২ জন উপজাতি ও ১ জন অ-উপজাতি সদস্য নির্বাচিত হবেন। প্রতিটি নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। কিন্তু গত ৩০ বছর ধরে নির্বাচন না হওয়ায় পরিষদ তিনটিতে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হতে পারেনি।

১৯৯৬ সালের ৫ আগস্ট নির্বাচিত তিনটি পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রত্যেক পরিষদে ১ জন চেয়ারম্যান ও ৪ জন সদস্য মনোনয়ন দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। পাশাপাশি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য শান্তিচুক্তির শর্তে ১৯৯৮ সালে আইন সংশোধন করে পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ থেকে ‘পার্বত্য জেলা পরিষদ’ নামে সংশোধিত হয়।

এরপর আর নির্বাচন দেয়নি সরকার। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেকটিতে ১ জন চেয়ারম্যানসহ সদস্য সংখ্যা ৫ থেকে ১৫-তে উন্নীত করে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন করে সরকার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন না হওয়ায় দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। এতে দলীয় লোকজন লাভবান হলেও বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এসব জেলা পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ স্থানীয়রা। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্বাচন অনুষ্ঠানের চিন্তাভাবনা চলছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে না।

১৯৮৯ সালের ২৫ জুন অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদের (বর্তমান জেলা পরিষদ) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন গৌতম দেয়ান। সাবেক এ চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাসহ পার্বত্য চুক্তির শর্ত পালনে তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচন জরুরি। বর্তমানে মনোনীত পরিষদের আকার ও সংখ্যা বাড়ানো হলেও এখানে যোগ্যতার মাপকাঠি দলীয় পরিচয়। নির্বাচিত পরিষদ না হওয়ায় জনপ্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে যে জবাবদিহিতা থাকার কথা তা নেই।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুণ কান্তি চাকমা বলেন, আইনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন করার কথা বলা আছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তা না করে যে দল ক্ষমতায় যায়, সেই দল নিজেদের লোক দিয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদ পরিচালনা করছে। মনগড়া শাসন চলছে পরিষদ তিনটিতে। এতে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×