আল্লামা শফীর বক্তব্য নারী শিক্ষায় প্রভাব ফেলবে না : শিক্ষা উপমন্ত্রী

নিন্দার ঝড় বক্তব্য প্রত্যাহার দাবি

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রভাব

আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মন্তব্য নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক স্তরের পর মেয়েদের পড়ালেখা না করানোর ব্যাপারে আল্লামা শফী যে মন্তব্য করেছেন এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত।

তিনি (আল্লামা শফী) দেশের নাগরিক হিসেবে এ মন্তব্য করেছেন। আর একজন নাগরিকের মন্তব্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে না।’ নগরীর ষোলশহর চশমাহিল এলাকায় নিজ বাসভবনে শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর ও হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী শুক্রবার ওই মাদ্রাসার মাহফিলে বলেন, মেয়েদের বেশি হলে ফোর-ফাইভ পর্যন্ত পড়াবেন। এর বেশি পড়ালে আপনার মেয়েকে পরপুরুষে নিয়ে যাবে।

নওফেল বলেন, ‘বর্তমান সরকার নারী শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এরই মধ্যে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক মানের হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সহজেই মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা নিতে পারছে। এই মান ধরে রাখতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

চট্টগ্রামে নতুন সরকারি স্কুল প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘এটা খুব ব্যয়সাপেক্ষ। তাছাড়া স্কুলের জন্য প্রয়োজনীয় জমি মেলানো কষ্টকর। এ অবস্থায় যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোর অবকাঠামো সুবিধা, আসনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ আনুষঙ্গিক সব সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো আমাদের প্রথম লক্ষ্য।’

এ সময় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম, স্বাচিপ নেতা ডা. শেখ শফিউল আজম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন, শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক বেদারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার, সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিম উদ্দিন শ্যামল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিন্দার ঝড় : আল্লামা শফীর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। শুক্রবার রাতেই অনলাইন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে মানুষ নানাভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানান।

এ মন্তব্যকে পাগলের প্রলাপ আখ্যা দিয়ে তারা আল্লামা শফীকে আইনের আওতায় আনা ও বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। নারী নেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু শনিবার সাংবাদিকদের জানান, তার এমন বক্তব্য নারী জাতির প্রতি অসম্মানজনক।

তার বক্তব্য চরম অশুভ, অবমাননাকর। তীব্র নিন্দা জানিয়ে পারু বলেন, এমন বক্তব্য তিনি (আল্লামা শফী) কিছুতেই দিতে পারেন না। নারী পুরুষ সবাইকে শিক্ষিত হতে হবে।

বক্তব্য খণ্ডিতভাবে গণমাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে- আল্লামা শফী : আল্লামা শাহ আহমেদ শফী শনিবার সন্ধ্যায় বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, মাহফিলে দেয়া আমার বক্তব্যের খণ্ডাংশ বিভিন্ন মিডিয়ায় ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আমি মূলত বলতে চেয়েছি, ইসলামের মৌলিক বিধান পর্দার লঙ্ঘন হয়, এমন প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের পড়াশোনা করানো উচিত হবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা।

এখানে শিক্ষা থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনাসহ যাবতীয় সব কিছুই রয়েছে। ইসলামে নারীদের শিক্ষার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং সবাই অবগত যে, উম্মুল মুমিনিন হজরত মা আয়িশা (রা.) ছিলেন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস। তিনি শিক্ষাগ্রহণ না করলে উম্মত অনেক হাদিস থেকে মাহরুম (বঞ্চিত) হয়ে যেত।

হেফাজত আমীর আরও বলেন, নারীদের পর্দার বিষয় ইসলামে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। আমি বলতে চেয়েছি, শিক্ষাগ্রহণ করতে গিয়ে যেন পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা না হয়। কারণ আমাদের দেশের বেশিরভাগ সাধারণ শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে সহশিক্ষা দেয়া হয়।

এ নিয়েই আমি মানুষকে সতর্ক করতে চেয়েছি। তাকে নিয়ে সমালোচনার জবাবে বিবৃতিতে আল্লামা শফী বলেন, আমি কওমিপন্থী ছয় বোর্ডের নিয়ন্ত্রণকারী হাইয়াতুল উলইয়ালিল জামিয়াতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি।

এর অধীনে হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার সনদ গ্রহণ করে থাকেন। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দিয়েছেন। যে সম্মিলিত বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়ে হাজার হাজার নারী রাষ্ট্র স্বীকৃত উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত বলে পরিগণিত হচ্ছে, সেই বোর্ডের প্রধান হয়ে আমি কীভাবে নারী শিক্ষার বিরোধী হলাম তা বোধগম্য নয়।

হেফাজত আমির বলেন, আমরা চাই নারীরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হোক, তবে সেটা অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশে থেকে এবং ইসলামের মৌলিক বিধানকে লঙ্ঘন না করে। শিক্ষাগ্রহণ অবশ্যই জরুরি, তবে সেটা গ্রহণের জন্য আমরা আমাদের কন্যাদের অনিরাপদ পরিবেশে পাঠাতে পারি না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×