চলতি বাজেট সংশোধন হচ্ছে

ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশ

গুরুত্ব পাচ্ছে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প * ধীরগতির প্রকল্পের টাকা কেটে গতিশীল প্রকল্পে দেয়ার নির্দেশ * মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু কাল * নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা

  মিজান চৌধুরী ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশ

কঠোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট ছোট করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে নতুন কোনো ব্যয়ের খাত অন্তর্ভুক্ত করার ওপর।

পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) কোনো ধরনের নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাদ দিয়ে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পে।

একইসঙ্গে ধীরগতিসম্পন্ন প্রকল্প থেকে অর্থ কেটে গতিশীল প্রকল্পে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি অর্থবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে এ পরিপত্রের নির্দেশ পালন করতে বলা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) মো. জাফর উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, বাজেট সংশোধন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। প্রতি বছর এটি রুটিন কাজ। সে হিসেবে চলতি বাজেট সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সংশোধনী বাজেট প্রণয়নে বেশ কিছু বিষয়কে অধিক গুরুত্ব দেয়া হবে।

চলতি বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা এবং এডিপি হচ্ছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ৮ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেট সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করা হবে। এ সময় ৭৩টি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে বৈঠক হবে। আগামীকাল বুধবার বৈঠক শুরু হবে। ২ মার্চ বৈঠক শেষ হবে। এসব বৈঠকে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের ব্যয় কমিয়ে আনা হবে।

সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত বাজেট অবশ্য মূল বাজেটের ব্যয়ের মধ্যে থাকতে হবে। তবে অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয়সীমা কমবেশি হবে তা মোট ব্যয়ের ভেতর থাকতে হবে। পরিপত্রের নির্দেশনায় বলা হয়েছে উন্নয়ন ব্যয়ের মধ্যে কোনো অর্থ খরচ না হলে সেটি কোনোভাবেই পরিচালনা বাজেটে স্থানান্তর করা যাবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এ বছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বেশি চিন্তিত সংশ্লিষ্টরা। কারণ নির্বাচনী বছর থাকায় বহুল আলোচিত ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা হয়নি। এতে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কম হবে। যাতে মোট রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা এ জন্য সংশোধন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাস জুলাই-সেপ্টেম্বর ও বিগত দুই অর্থবছরের (২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮) প্রথম ছয় মাসের রাজস্ব আদায়ের হার বিবেচনা করে আগামীতে কাটছাঁট করে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এই ৫ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা ঘাটতি হয়েছে। এ সময় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৪ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

কিন্তু আয়কর, মূল্য সংযোজন কর ও শুল্ক- এ তিন খাত মিলিয়ে আয় ৭৫ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা। এ হিসাবে আলোচ্য সময়ে ঘাটতি ৮ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। তবে গত বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় ১৭ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়েছে।

চলতি বাজেটে পরিচালনা ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। পরিচালনা ব্যয় সংশোধন করতে বেশ কিছু নির্দেশ দেয়া হয়েছে অর্থবিভাগের পরিপত্রে। সেখানে বলা হয়েছে, সরবরাহ ও সেবা খাতের কোনো আইটেমের মূল্য না বাড়লে সেক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ানো যাবে না। মূল বাজেটে অন্তর্ভুক্ত ছিল না এমন কোনো সম্পদ সংগ্রহের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া যাবে না। এছাড়া অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাত থেকে কোনো অর্থ বরাদ্দ করা হলে সংশোধিত বাজেটে তার প্রতিফলন থাকতে হবে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বছরের প্রথম তিন মাসে ব্যয়ের ধারা অনুযায়ী সংশোধিত বাজেটে প্রাক্কলন করতে হবে।

এদিকে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংশোধনে গুরুত্ব পাচ্ছে সরকারি অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো। অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে এডিপির আওতায় ৩৬ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে, যা অর্থবছরের মোট বরাদ্দের ২০ শতাংশ। গত অর্থবছর একই সময়ে এডিপির ২০ শতাংশ বাস্তবায়ন হলেও ব্যয় হয়েছিল ৩২ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বেশি অর্থ ব্যয় হয়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের বছর হওয়ায় এবার মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে বেশি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। যাতে কোনো প্রকল্পে অর্থ ব্যয় করা সম্ভব না হলে অন্য প্রকল্পে বেশি ব্যয় করে তা পুষিয়ে নিতে পারে। এ কারণে চলতি বছরের এডিপিতে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে।

এদিকে এডিপি সংশোধনের ক্ষেত্রে সব মন্ত্রণালয়কে ইতিমধ্যে ১৩টি নির্দেশ দেয়া হয় অর্থবিভাগের পরিপত্রে। এসব নির্দেশনায় বলা হয়, প্রকল্পের সংখ্যা সীমিত রাখতে হবে। গুরুত্ব দিতে হবে দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ও মানবসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত খাতগুলোকে। পাশাপাশি সরকারি অগ্রাধিকার প্রকল্পকে গুরুত্ব দিতে প্রয়োজনে কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাদ দিতে হবে। একই উদ্দেশ্যে নেয়া ক্ষুদ্র প্রকল্পগুলো পৃথকভাবে প্রণয়ন না করে একটি গুচ্ছ প্রকল্প আকারে হিসাব করতে হবে। এডিপিতে যেসব প্রকল্প আন্তঃসমন্বয় করা হয়েছে তার প্রতিফলন নিশ্চিত করাসহ বৈদেশিক সহায়তা চুক্তি করা প্রকল্পগুলোকে সংশোধিত এডিপিতে গুরুত্ব দিতে বলা হয়। অগ্রাধিকারের অনুমোদিত কোনো প্রকল্প ব্যতীত কারিগরি সহায়তা প্রকল্প এখানে অন্তর্ভুক্ত না করার নির্দেশ দেয়া হয়। অন্য নির্দেশনার মধ্যে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে বরাদ্দ নিশ্চিত, কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বন্যাউত্তর পুনর্বাসন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×