তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান

  কূটনৈতিক রিপোর্টার ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তোশিমিতসু মোটেগি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মঙ্গলবার সাক্ষাৎ করেন জাপানের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ বিষয়কমন্ত্রী তোশিমিতসু মোটেগি। ছবি: পিআইডি

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান। অন্যদিকে জলবিদ্যুৎ রফতানি করতে চায় নেপাল।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাতে এমন আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাপানের একজন মন্ত্রী ও নেপালের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত।

সফররত জাপানের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ বিষয়কমন্ত্রী তোশিমিতসু মোটেগি বলেছেন, তার দেশ বাংলাদেশের প্রধান উন্নয়ন ক্ষেত্র, রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জাপান বিনিয়োগে আগ্রহী।

সকালে তোশিমিতসু মোটেগি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার তেজগাঁও কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তোশিমিতসু মোটেগি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের মহান উন্নয়ন সহযোগী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার গোড়াপত্তন করেছিলেন।

জাপানের মন্ত্রী সাক্ষাতে সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।

জাপানি মন্ত্রী এও বলেন, সবার প্রচেষ্টার কারণে নির্বাচনে সব প্রধান রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে।

জাপান এটাকে স্বাগত জানায়। পাশাপাশি, নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় অনেকে হতাহত হওয়াসহ অনেক কিছুই উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। জাপান বাংলাদেশের স্বাধীনতার কাল থেকে ঐতিহ্যবাহী বন্ধু হিসেবে আশা করে যে, বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক পথেই থাকবে।

তিনি দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের চলমান মেয়াদে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

জাপানের মন্ত্রীকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জাপান বাংলাদেশের পুরনো বন্ধু হিসেবে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

জাপান বাংলাদেশের জন্য উন্নয়নের মডেল। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং প্রতিটি গ্রামকে শহরের নাগরিক সুবিধা দিয়ে গড়ে তোলাসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী আইটি পার্কগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণ এবং গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের জন্য জাপানের সহযোগিতার প্রস্তাব করেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবিকা নেয়ার জন্য জাপানের মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানালে জাপানের মন্ত্রীও এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এবং মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, জাপানের মন্ত্রী তোশিমিতসু মোটেগি সোমবার ঢাকায় পৌঁছেই আইটি সার্ভিস কোম্পানি বিজেআইটি প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এই কোম্পানিটি জাপানি এন্টারপ্রাইসের জন্য সফটওয়্যার প্রস্তুত করে থাকে। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াসু ইজুমি, বিজেআইটি প্রতিষ্ঠাতা জেএম আকবর, পরিচালক ইয়াশোহিরো আকাশিসহ জাইকা ও জেট্রোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জাপানের মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশ ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাপান অবদান রাখতে চায়।

নেপালের রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ : এদিকে নেপালের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ড. চোপ লাল ভূশাল এবং তার সহধর্মিণী মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন।

ড. ভূশাল তার দায়িত্ব পালনকালে সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং তার সরকারের প্রতি ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, বৈঠকে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ এবং যোগাযোগ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, তার দেশ বাংলাদেশে জলবিদ্যুৎ রফতানিতে আগ্রহী। তিনি বলেন, আসন্ন ব্যবসায়িক সম্মেলনে নেপাল থেকে বাংলাদেশের ৫০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।

শেখ হাসিনা বৈঠকে নেপালকে বাংলাদেশের সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহার করতে দেয়ার প্রস্তাব পুনরুত্থাপন করেন। কেননা এটি ইতোমধ্যেই আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে তৈরি করা হয়েছে এবং পূর্ব নেপাল থেকে আকাশপথে বিমানবন্দরটির দূরত্ব মাত্র ২০ মিনিটের পথ।

সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত এবং নেপাল এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নের লক্ষ্যে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

তিনি বিবিআইএন চুক্তির বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান ভিসা জটিলতা নিরসনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। নেপালের রাষ্ট্রদূত এ সময় বাংলাদেশে অধ্যয়নরত প্রায় চার হাজার নেপালি শিক্ষার্থীর জন্য ক্ষণস্থায়ী অনুমতির পরিবর্তে পূর্ণ মেয়াদের ভিসা প্রদানের অনুরোধ জানান।

শেখ হাসিনাকে এই অঞ্চলের নেতা আখ্যায়িত করে নেপালের রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, তার দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমান সরকারের মেয়াদে আরও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×