সরকারি ৩০ বস্তা চাল গোপনে বিক্রি আ’লীগ নেতার

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জব্দ করা সরকারি চাল

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ১০ টাকা কেজি দরের সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩০ বস্তা চাল গোপনে এক দোকানির কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার।

গত সোমবার আশুলিয়া থানার তেলিবাড়ি বাজার এলাকার শাহাদাৎ স্টোর নামে একটি দোকানে ১৫ হাজার টাকায় ওই চাল বিক্রি করেন আটাবহ ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান ও তার সহযোগী হারুন।

খবরটি জানাজানি হয়ে গেলে মঙ্গলবার সকালে কালিয়াকৈরের চাতলভিটি সোহাগিরটেক এলাকার লোকজন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই ৩০ বস্তায় থাকা ৯শ’ কেজি সরকারি চাল আটক করে।

পরে কালিয়াকৈর থানায় খবর দিলে পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু সীমানা জটিলতায় চাল উদ্ধার না করে ফিরে চলে যায়। এরপর আশুলিয়া থানায় জানালে তারাও চাল উদ্ধারে ব্যবস্থা নেয়নি।

চাল উদ্ধার নিয়ে দুই থানার ঠেলাঠেলিতে বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে ওই দোকানের মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই চাল আমি কিনতে চাইনি।

ডিলার মিজান ও হারুন একটি ভ্যানে ৩০ বস্তা চাল ভরে জোর করে আমার দোকানে দিয়ে যায়। পরে তারা ওই চালের বিনিময়ে ১৫ হাজার টাকা নেন এবং আরও ৩ হাজার টাকা দিতে হবে বলে চলে যান।

জানতে চাইলে ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মালুর উদ্দিন বলেন, বস্তার গায়ে লেখা ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ।’ সেই দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচির চাল আমাদের দলীয় লোকজনই কালোবাজারে বিক্রি করছে, এটা দুঃখজনক। মিজানের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ওই ওয়ার্ডের মেম্বার আনোয়ার হোসেন আয়নাল বলেন, চালগুলো ওই দোকানের পাশে রেখে গ্রামপুলিশ দিয়ে পাহারা দেয়া হচ্ছে।

তবে চাল বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ডিলার ও আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, তিন মাস ধরে আমার গোডাউনে কোনো চাল নেই। ওই চাল কোথা থেকে এসেছে আমার জানা নেই।

আমি কোনো চাল বিক্রি করিনি। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে দোকানদার সাইফুলকে দিয়ে এটা বলাচ্ছে।

অন্যদিকে চাল জব্দ করা নিয়ে কালিয়াকৈর থানার এএসআই ফজলুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আশুলিয়া থানা এলাকায় পড়েছে। তাই চালের বস্তাগুলো ওই থানা পুলিশ জব্দ করবে।

আর আশুলিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম দিপু বলেন, বর্তমানে চালের বিষয়ে সরকারের কোনো প্রকল্প নেই। চাল আসলে কালিয়াকৈর থেকে আসতে পারে।

তাই আমি কোনো লোক পাঠাইনি। এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ও খাদ্য বিভাগের লোকজন পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থল আমাদের উপজেলায় না হওয়ায় তারা ফিরে এসেছে। তাছাড়া এখন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কোনো চাল বিতরণ করা হচ্ছে না। চালগুলো টিআর প্রকল্পের হতে পারে।